১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
টাকার দামে ঐতিহাসিক ধস: তেলের বাজারে আগুন ও বিনিয়োগের খরায় দিশেহারা ভারতীয় মুদ্রা

indian-rupee-status-today

টাকার দামে ঐতিহাসিক ধস: তেলের বাজারে আগুন ও বিনিয়োগের খরায় দিশেহারা ভারতীয় মুদ্রা

সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় অর্থনীতির আকাশে কালো মেঘ। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের লাগামহীন দামের চাপে কমছে ভারতীয় টাকার। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবার লেনদেন শুরু হতেই টাকার দাম প্রতি ডলারে ৯৪.২৬ থেকে ৯৪.৩০ টাকার স্তরে নেমে যেতে পারে। গত শুক্রবার যেখানে বিনিময় হার ছিল ৯৪.২৪৭৫, সেখানে এই ধারাবাহিক পতন বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।

সাড়ে তিন বছরের রেকর্ড পতন: কেন এই বিপর্যয়?

বিদায়ী সপ্তাহটি ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাত্র সাত দিনে টাকার দাম পড়েছে ১.৪২ শতাংশ, যা গত ৪২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতন। এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ:

  • হরমুজ প্রণালীর সংকট: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনার ফলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম আকাশচুম্বী।
  • রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পিছু হটা: এতদিন ভারতীয় টাকার মান ধরে রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) যে সুরক্ষা কবচ বা বিশেষ পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল, তার কিছু অংশ হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মুদ্রা বাজার কিছুটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

তেলের দাপটে জ্বলছে অর্থনীতি

টাকার এই নাজেহাল অবস্থার প্রধান 'খলনায়ক' হল অপরিশোধিত তেল। সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার স্পর্শ করেছে। মাত্র এক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৬.৫ শতাংশ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং তেলের জাহাজে চলাচলে বিঘ্ন ঘটা—এই দুইয়ের প্রভাবে ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

ডলারের আকাল ও আমদানিকারকদের আতঙ্ক

বাজারের অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তেলের দাম বাড়লে আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার কেনার এক প্রবল হিড়িক পড়ে যায়। ভবিষ্যতের বড় লোকসান থেকে বাঁচতে তারা আগাম ডলার মজুত করতে শুরু করেন (যাকে অর্থনীতির ভাষায় 'হেজিং' বলা হয়)। ফলে বাজারে ডলারের জোগান কমে যায় এবং চাহিদা তুঙ্গে ওঠায় টাকার দাম হু হু করে নামতে থাকে। অন্যদিকে, রপ্তানিকারকরা ডলারের দাম আরও বাড়ার আশায় তা বাজারে ছাড়ছেন না, ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া

ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FPI) অর্থ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যদিও মার্চ মাসের তুলনায় (১২.৫ বিলিয়ন ডলার) এপ্রিল মাসে অর্থ বেরোনোর গতি (৫ বিলিয়ন ডলার) কিছুটা কমেছে, কিন্তু নিট বিনিয়োগ এখনও নেতিবাচক। অর্থাৎ, ভারতীয় বাজারে টাকা আসার চেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি, যা সরাসরি টাকার এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ভবিষ্যৎ সংকেত

তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের খরা, এই দুই সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। টাকা দুর্বল হওয়ার অর্থ হল বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে বেশি খরচ, যার ফলে জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়তে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগামী দিনে বাজার নিয়ন্ত্রণে কী সাহসী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য