পিকিনং মানব ও তার খুলির ইলাস্ট্রেশন -দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস
২৮শে এপ্রিল, ২০২৬
আমরা ছোটবেলায় ইতিহাস বইতে পড়েছি পিকিং গুহামানবের কথা। পিকিং মানব বৈজ্ঞানিকভাবে ‘হোমো-ইরেক্টাস’ (Homo erectus)-এর একটি উপপ্রজাতি যা মানবজাতির বিবর্তনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। কিন্তু ইতিহাসের এই অনন্য আবিষ্কারের প্রামাণিক জীবাশ্ম হারিয়ে যায়, যা আজও পাওয়া যায়নি।
পিকিং মানবের সময়কাল
প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগের বসবাসকারী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এই জীবাশ্ম। এই হোমিনিনের অস্থি ১৯২৩ সালে বেইজিংয়ের নিকটবর্তী জোকুডিয়ান গুহায় পাওয়া যায়।
কেমন ছিল পিকিং মানব?
কানাডীয় অ্যানাটমিস্ট ডেভিডসন ব্ল্যাক (Davidson Black) প্রথম এগুলোর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরবর্তীতে আরও গবেষণায় দেখা যায়, পিকিং মানব আগুন ব্যবহার করতে পারত—যা মানব বিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি ল্যান্ডমার্ক। গুহায় পাওয়া পোড়া অস্থি, কয়লার স্তর এবং আগুনের চিহ্ন দেখে এই তথ্য জানা যায়।
পিকিং মানবের মাথার খুলি এবং অন্যান্য অস্থির গঠন বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় তাদের মস্তিষ্কের আয়তন আধুনিক মানুষের তুলনায় ছোট হলেও, তা পূর্ববর্তী হোমিনিনদের তুলনায় উন্নত ছিল। তাদের দাঁত ও চোয়ালের গঠন বলে দেয় যে তারা কঠিন খাদ্য (solid food) গ্রহণে অভ্যস্ত ছিল। এছাড়া, পাথরের তৈরি সরঞ্জাম আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে তারা শিকার করত।
কোথায় গেল অকাট্য প্রমাণ?
দুঃখজনকভাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই মূল্যবান জীবাশ্মগুলোর মূল নমুনা হারিয়ে যায়। ১৯৩৭ সালে জাপান আক্রমণ হানল চিন দেশের ওপর। ১৯৪১ সালে,পার্ল হারবার আক্রমণের আগে জাপান পিকিং মানবের এই জীবাশ্মগুলি আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারপর থেকে এই জীবাশ্মগুলি আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। গবেষণার ক্ষেত্রে এ সত্যিই এক বড় ক্ষতি।
তত্ত্ব
একটি মত বলে, জীবাশ্মগুলি জাহাজে যাওয়ার সময়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়। কেউ বিশ্বাস করেন, সেগুলি আসলে চিন দেশেই কোথাও অজ্ঞাতে রাখা আছে। কিন্তু প্রমাণ মেলেনি এই তত্ত্বের।
বর্তমান
পরবর্তীকালে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম ও সরঞ্জাম এই শূন্যতা অনেকাংশে পূরণ করলেও প্রকৃত প্রামাণিক জীবাশ্ম ইতিহাসের অতলে হারিয়ে রইল। কোনওদিন কি তা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে, নতুন কোনও অজানা তথ্য দিয়ে আমাদের চমকে দিতে?
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।