

ফাইনালে মুখোমুখি দুই কোচ ফুয়েন্টে ও স্কালোনি। ছবি - Google
১৯শে জুলাই, ২০২৬
কলকাতা ময়দানেও এরকম একবার মুহূর্ত হাজির হয়েছিল। সেবার ইস্টবেঙ্গলের কোচ ছিলেন সুভাষ ভৌমিক, অন্যদিকে মহামেডানের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলেন পিকে ব্যানার্জি। সেবার ময়দান তেতে গিয়েছিল গুরু-শিষ্যের লড়াই ঘিরে।
লাল হলুদ তাঁবুতে সুভাষকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, গুরু পিকে-র দলকে কীভাবে আটকাবেন? সেদিন ডাকাবুকো সুভাষ বলেছিলেন, ‘‘গুরুকে আটকানোর সাধ্যি আমার নেই। আমি ওঁর কাছে শিখেছি, আজ গুরুকে আমি গুরুদক্ষিণা দিতে চাই!’’
সুভাষ সেই ম্যাচে জিতেছিলেন। যুবভারতীতে লিগের ম্যাচ শেষে পিকে-র পা স্পর্শ করে সুভাষের প্রণাম পরেরদিন সব সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছিল।
রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের মুহূর্তে সেই পিকে-সুভাষ ফিরছেন অন্যভাবে, আমেরিকার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা এবং দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। তাঁরাও গুরু-শিষ্য, স্কালোনি ফুটবলার হিসেবে ফুয়েন্তের কোচিংয়ে খেলেছেন। এমনকী কোচিং কোর্স করার সময়ও তাঁর ডিরেক্টর ছিলেন এই প্রবীণ বর্ষিয়ান কোচ।
এমনিতেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবার দুই তারকাকে ঘিরে সকলের নজর থাকবে। লিওনেল মেসির সঙ্গে লামিনে ইয়ামালের দ্বৈরথ ঘিরে সরগরম আবহ। তারমধ্যে অবশ্য দুই কোচও আলোচনায় চলে আসছেন।
ফুটবলার হিসেবে বেশিরভাগ সময়টা স্কালোনি কাটিয়েছিলেন স্পেনে। ডিপটির্ভো লা করুনায় খেলেছিলেন দুশোর বেশি ম্যাচ। পরে ওয়েস্টহ্যাম বা লাৎসিওতে খেললেও স্পেনেই কোচিং ডিগ্রি নিয়েছিলেন। খেলা ছাড়ার দু’বছর পরেই ২০১৭ সালে কোচিং ডিগ্রির জন্য স্কালোনি গিয়েছিলেন মাদ্রিদের লা রোসাসে, যেখানে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে এই কোর্স করানো হয়।
সেই সময়ে স্পেনের যুব দলের দায়িত্বে থাকা লুইস দে লা ফুয়েন্তে অন্যতম শিক্ষক ছিলেন এই কোচিং কোর্সে। স্কালোনি রীতিমতো শ্রদ্ধাশীল মাস্টার দে লা ফুয়েন্তের প্রতি। ইংল্যান্ড ম্যাচ জেতার পরে আর্জেন্টিনা কোচের মন্তব্য ছিল, ‘‘আমার সঙ্গে দে লা ফুয়েন্তের সম্পর্ক দারুণ। আমার কোচ ছিলেন। ওঁকে খুবই সম্মান করি। স্পেন যে ভাবে খেলছে, তার জন্য ওঁকে অভিনন্দন জানাই।’’ সঙ্গে অবশ্য এও জুড়ে দিয়েছিলেন, ‘‘রবিবার আমার খারাপ লাগবে, কেননা আমরা ওই দিন একে অপরের বিরুদ্ধে জেতার চেষ্টা করবো।’’
৪৮ বছরের স্কালোনির সঙ্গে লুইস দে লা ফুয়েন্তের মিল আরো একটি জায়গায়। দু’জনেই সেই ভাবে কোনও পেশাদার সিনিয়র টিমের কোচিং করাননি। যুব টিমে কোচিং করিয়েই সিনিয়র টিমে। দু’জনেই সিনিয়র টিমকে সাফল্যের মুখ দেখিয়েছেন।
দু’বছর আগে ইউরো জেতার পরে এবার বিশ্বকাপ জয়ের সামনে দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর ছাত্র আবার বিরল নজির তাড়া করছেন, কোচ হিসেবে পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জেতার। গুরু–শিষ্যের যুদ্ধ তাই অন্য মাত্রা পেতে চলেছে রবিবার নিউ জার্সিতে।
স্কালোনি ফুটবলার হিসাবে ইংল্যান্ডে তেমন দাঁত ফোটাতে না পারায়, স্পেনের ক্লাবে ফিরে যান। সিংহভাগ কেরিয়ারটা স্পেনের তিন ক্লাবের হয়েই খেলে কাটিয়েছেন তিনি। সেখানেই তিনি জর্জ সাম্পাওলির সেভিয়া দলের কোচিং স্টাফের সদস্য থাকাকালীন ২০১৭ সালে উয়েফা ‘এ লাইসেন্স’ কোর্স করেছিলেন। সেইসময়ই স্কালোনির মেন্টর ছিলেন আর কেউ নন, স্বয়ং লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই উয়েফা ‘এ লাইসেন্স’ কোচিং কোর্সের পুরনো এক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দে লা ফুয়েন্তের একেবারে পাশেই স্কালোনিকে দেখা যাচ্ছে। সেই একই ছবিতে লিভারপুলের নব নিযুক্ত স্প্যানিশ কোচ আন্দোনি ইরাওলাকেও দেখা যাচ্ছে। সেই সময়ে দে লা ফুয়েন্তে স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের কোচিং করাতেন। তিনিই সেই সময় পরবর্তী প্রজন্মের কোচেদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার, তাঁদের গাইড করার দায়িত্বে ছিলেন। ওই গুরু-শিষ্যের দল যে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে নামবে, সেটিই ভাবা যায়নি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
