

ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি। প্রতীকী ছবি - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।
২৭শে জুলাই, ২০২৬
সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। মাঝেমধ্যে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আবার কখনও দফায় দফায় নামছে ঝমঝমে বর্ষণ। তার সঙ্গে বইছে স্যাঁতসেঁতে জলো হাওয়া। আবহাওয়ার এই বদলে যাওয়া ছবির নেপথ্যে বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াতে থাকা গভীর নিম্নচাপ। সোমবার দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়েছে। নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তার জেরেই কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূলের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এর অবস্থান ছিল সাগরদ্বীপের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে। গত কয়েক ঘণ্টায় এটি ঘণ্টায় প্রায় ৩ কিলোমিটার বেগে উত্তরমুখী হয়ে অতি ধীর গতিতে এগিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, ওড়িশার বালেশ্বর ও পশ্চিমবঙ্গের ক্যানিংয়ের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে সোমবার সন্ধ্যের মধ্যেই স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই গভীর নিম্নচাপ। স্থলভাগে ঢোকার পরেও এর প্রভাব দ্রুত কাটবে না। বরং মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে উপকূলবর্তী ও জঙ্গলমহল সংলগ্ন জেলাগুলিতে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বা দু'টি এলাকায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কয়েকটি এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে।
শুধু বৃষ্টি নয়, ঝোড়ো হাওয়াও দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। অন্যদিকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন এবং জল জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের জেরে সমুদ্রও ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে। আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূল এলাকায় সমুদ্র খুবই অশান্ত থাকবে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও মৎস্যজীবীকে সমুদ্রে না-যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার প্রশাসনকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার কলকাতায় আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রবল বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অফিসযাত্রীদের দুর্ভোগ, রাস্তায় জল জমা এবং যানজটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে শক্তি হারালেও তার প্রভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তাই অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, উপকূল ও নদী সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষার মাঝপথে বঙ্গোপসাগরের এই গভীর নিম্নচাপ যে দক্ষিণবঙ্গে ফের দুর্যোগের আবহ তৈরি করেছে, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই। এখন নজর, স্থলভাগে ঢোকার পর প্রকৃতি ঠিক কতটা রুদ্ররূপ দেখায়।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।
