২৭শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
শয়তানের পানীয়

Exclusive:কফি। নিজস্ব ছবি- দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

শয়তানের পানীয়

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

শয়তানের পানীয় ছাড়া আজ চলে না আর

আজকের এই জনপ্রিয় পানীয়টি যে একসময় জেল-জরিমানা আর ধর্মীয় ফতোয়ার কারণ হতে পারে, তা ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। আজ কফি নিয়ে আমরা সেনসিটিভ। কিন্তু একসময়ে সমাজে ব্রাত্য ছিল কফি। এমনকি কফি পানের জন্য কঠিন শাস্তিও ধার্য করা হত কোথাও কোথাও।

মূল বিষয়

মেট্রোপলিটন জীবনযাপনে কফি এখন এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কোনও ঋতুই হোক না কেন, সকালে ধূমায়মান কফির পেয়ালা হাতে নিয়ে জেগে ওঠে শহর। কিন্তু হঠাৎ যদি নিষিদ্ধ হয়ে যায় কফি?

ব্রাত্য

ইতিহাস বলছে, আপনার প্রিয় এই পানীয়টি সবসময় এতটা সমাদর পায়নি। শুনলে অবাক হবেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কফিকে ‘শয়তানের পানীয়’ বা ‘বিদ্রোহের উসকানিদাতা’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে একাধিকবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এভাবেই উঠে এসেছে পৃথিবী জুড়ে কফি নিষিদ্ধ হওয়ার এমনই কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য।

১৬শ শতাব্দীতে মক্কায় প্রথম কফি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তৎকালীন শাসকদের ভয় ছিল, কফি হাউসে জমায়েত হয়ে মানুষ রাজনৈতিক আলোচনা এবং তাঁদের শাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে। এমনকি কফি পানের প্রভাবকে অনেকটা মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর বলে প্রচার করা হয়েছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা খুব বেশিদিন টেকেনি।

ইউরোপে প্রভাব

একইভাবে ইতালিতেও কফি একসময় রোষানলের মুখে পড়েছিল। যখন কফি প্রথম ইউরোপে পৌঁছায়, তখন খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের একাংশ একে ‘শয়তানের তিক্ত উদ্ভাবন’ বলে মনে করতেন। শেষ পর্যন্ত পোপ অষ্টম ক্লিমেন্ট নিজে কফি খেয়ে দেখার পর এর স্বাদে মুগ্ধ হন এবং একে ‘খ্রিস্টান পানীয়’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিতর্ক মেটান।

কফি নিয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস এবং সুইডেনের রাজা তৃতীয় গুস্তাভ। ১৬৭৫ সালে রাজা চার্লস মনে করেছিলেন কফি হাউসগুলো হল বিদ্রোহের আঁতুড়ঘর, তাই তিনি সেগুলো বন্ধ করার ফরমান জারি করেন। কিন্তু জনরোষের মুখে মাত্র ১১ দিনের মাথায় তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। অন্যদিকে, সুইডেনে কফির ওপর এতটাই বিধিনিষেধ ছিল যে, এমনকি কফি খাওয়ার কাপ-পিরিচ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হতো।

এমনকি প্রসিয়া বা বর্তমান জার্মানিতেও কফি একসময় বিলাসিতা আর অপচয় হিসেবে দেখা হতো। সেখানকার শাসক গ্রেট ফ্রেডরিক চেয়েছিলেন মানুষ কফির বদলে বিয়ার পান করুক, যাতে দেশের টাকা দেশেই থাকে। কফির গন্ধ শুঁকে অবৈধ কফি ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য তিনি বিশেষ ‘কফি স্নিফার’ বা ঘ্রাণশিকারী বাহিনী পর্যন্ত নিয়োগ করেছিলেন।

আজকের এই জনপ্রিয় পানীয়টি যে একসময় জেল-জরিমানা আর ধর্মীয় ফতোয়ার কারণ হতে পারে, তা ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে কফি নিজের স্বাদ আর গন্ধ দিয়ে জয় করে নিয়েছে সারা বিশ্বকে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য