UG-2026-news-update
১২ই মে, ২০২৬
সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ ঘিরে চলা চরম নাটকীয়তার অবসান হল। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষাটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) হাতে।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
পরীক্ষা নেওয়ার কয়েকদিন পরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। যদিও শুরুতে এনটিএ সমস্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলার দাবি করেছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সুর বদলাতে বাধ্য হয় তারা। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বা ‘ইন্টিগ্রিটি’ বড়সড়ভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা আর সম্ভব নয়। এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা লাঘব করতে এনটিএ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে:
ফের পরীক্ষা: বাতিল হওয়া পরীক্ষাটি আবারও নেওয়া হবে। তবে পরবর্তী পরীক্ষার তারিখ এখনও জানানো হয়নি। খুব শীঘ্রই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া: যারা ৩ মে-র পরীক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই। পুরনো রেজিস্ট্রেশন এবং তথ্যই বহাল থাকবে।
ফি লাগবে না: নতুন করে পরীক্ষার জন্য কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। বরং আগের নেওয়া ফি ফেরতের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।
অ্যাডমিট কার্ড: নতুন তারিখ ঘোষণার পর সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করার সুযোগ দেওয়া হবে।
সিবিআই তদন্তের মুখে এনটিএ
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এই পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয়। সিবিআই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এই চক্রের মূলে পৌঁছানো যায়। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে এল এবং এর পিছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এনটিএ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সবরকম নথি ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে সিবিআই-কে সাহায্য করবে। আগামী কয়েকদিন এনটিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের দিকে নজর রাখার জন্য পড়ুয়াদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কোনো গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেই ভরসা রাখার আর্জি জানিয়েছে সংস্থাটি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।