৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

নবম-দশমে এবার বাধ্যতামূলক তিন ভাষা! নতুন নিয়মে বড় বদল সিবিএসই-তে

নবম-দশমে এবার বাধ্যতামূলক তিন ভাষা! নতুন নিয়মে বড় বদল সিবিএসই-তে

cbse-students

নবম-দশমে এবার বাধ্যতামূলক তিন ভাষা! নতুন নিয়মে বড় বদল সিবিএসই-তে

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ নিল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করতে চলেছে সিবিএসই। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে বোর্ড। নবম ও দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে আগামী ১ জুলাই থেকেই চালু হয়ে যাবে নতুন নিয়ম। ফলে এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়তেই হবে।

নতুন শিক্ষানীতিতে পড়ুয়াদের স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও দু’টি ভাষা শেখার কথা বলা হয়েছিল আগেই। এবার সেই নীতিকেই বাস্তব রূপ দিচ্ছে সিবিএসই।

বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাষাগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— আর-১, আর-২ এবং আর-৩। এর মধ্যে আর-১ ও আর-২ বিভাগে থাকবে ভারতীয় ভাষা। আর-৩ বিভাগে পড়ানো হবে তৃতীয় ভাষা, যেখানে বিদেশি ভাষা নেওয়ার সুযোগও থাকবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইংরেজিকেও এই আর-৩ বা বিদেশি ভাষার বিভাগেই রাখা হয়েছে।

ভারতীয় ভাষার তালিকায় রয়েছে বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, গুজরাতি-সহ একাধিক ভাষা। ইতিমধ্যেই ন’টি ভারতীয় ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণির বই পড়েই চলবে নবমের ক্লাস
সিবিএসই জানিয়েছে, নতুন তৃতীয় ভাষার জন্য এখনও সব পাঠ্যবই তৈরি হয়নি। তাই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা আপাতত নিজেদের পছন্দের ভাষার ষষ্ঠ শ্রেণির আর-৩ বই ব্যবহার করতে পারবে।

বোর্ডের যুক্তি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ভাষা শিক্ষার মধ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে। পড়া বোঝা, ব্যাকরণ, লেখা—এই দক্ষতাগুলি দুই স্তরেই প্রায় একই ধরনের হওয়ায় আপাতত এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

এছাড়াও স্কুলগুলিকে স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপরে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছোটগল্প, কবিতা, তথ্যভিত্তিক লেখা কিংবা আঞ্চলিক সাহিত্যকেও পাঠক্রমের অংশ করার কথা বলা হয়েছে।

১৯টি ভাষার বই পৌঁছবে জুলাইয়ের আগেই
বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাইয়ের আগেই ১৯টি ভাষায় ষষ্ঠ শ্রেণির আর-৩ বই স্কুলগুলিতে পৌঁছে যাবে। অতিরিক্ত সাহিত্য উপকরণ কীভাবে পড়ানো হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষক সংকট, তাই ‘অন্তর্বর্তী’ ব্যবস্থা
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক সংকট। বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত ভারতীয় ভাষার শিক্ষক নেই বলে স্বীকার করেছে সিবিএসই।তাই আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে, যে শিক্ষকরা অন্য বিষয় পড়ান কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ, তাঁদের দিয়েই ভাষা শেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগ করে নেওয়া, অনলাইন ক্লাস এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে বোর্ড।

শিক্ষামহলের একাংশের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হলেও, বাস্তবে তা কার্যকর করতে পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের বড় প্রয়োজন রয়েছে। নতুন নিয়ম চালুর আগে সেই চ্যালেঞ্জ কতটা সামাল দিতে পারে স্কুলগুলি, এখন সেটাই দেখার।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য