

জয়ের পর কোনপথে পিকে? ছবি - Google
৪ঠা আগস্ট, ২০২৬
বাঁকিপুর সির্ফ ঝাঁকি হ্যায়
পুরা ভারত বাকি হ্যায়
এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া এই দু'লাইনের হিন্দি ছড়ায় ছেয়ে গেছে। আর গোটাটাই আবর্তিত হচ্ছে ভারতীয় রাজনীতির 'কাল্ট ফিগার' পিকে-কে ঘিরে। দেশের বিরোধী সমর্থকরা বিহারে বিজেপির দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে পরিচিত বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জন-সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বিখ্যাত ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের জয় ও বিজেপির পরাজয় নিয়ে এভাবেই নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
পিকে অর্থাৎ প্রশান্ত কিশোরকে ভারতীয় রাজনীতির 'কাল্ট' বলা নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। সেই আপত্তি অসঙ্গত নয়। কিন্তু আপনি পছন্দ করুন বা না করুন একটা কথা মানতেই হবে, এই শতকে ভারতীয় রাজনীতির ধরনের যে আমূল বাঁক বদল ঘটেছে তার সূচনাকারীর নাম পিকে। গোটা ভারতীয় রাজনীতিকে এক অন্য খাতে বইয়ে দিয়েছেন তিনি।
প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করা ভোট পরামর্শদাতা সংস্থাদের ভূমিকা আদতে ভালো করেছে না খারাপ করেছে, সেটা অন্য বিতর্কের বিষয়। তবে বর্তমানে এই মডেল ছাড়া নির্বাচনের লড়ার কথা যে কোনও রাজনৈতিক দল'ই আর ভাবতে পারছে না তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। এমনকি যে বামপন্থীরা এই ব্যবস্থার বা এই মডেলের তীব্র সমালোচক, তারাও সম্পূর্ণভাবে না হলেও ক্ষেত্র বিশেষে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও প্রচার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ও তার মাথাদের কাজটাই হল নেপথ্যের। মূলত ডেটা, স্ট্র্যাটিজি, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে কার্যকরী ছক কষে দেওয়া এবং সেই ছকের সাফল্য ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা এবং অবশ্যই রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং- এটাই হল একটি ভোট পরামর্শদাতা সংস্থা বা একজন দক্ষ ভোট কুশলীর কাজ।
প্রশান্ত কিশোর ২০১১ সালে তাঁর প্রথম সংস্থা সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স-এর হয়ে গুজরাট নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিকে সাহায্য করেছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই সংস্থার হয়ে ভূমিকা পালন করেন। পরে বিজেপির সঙ্গে তাঁর এই পথ চলা আলাদা হয়ে গেলে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক তৈরি করেন। তারপরও তাঁর সাফল্যের ধারা বজায় থেকেছে। তবে এরই মধ্যে ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের হয়ে কাজ করতে গিয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থতা যেন এক বালতি খাঁটি দুধে গো-চোনার ভূমিকা পালন করে।
আইপ্যাকের হয়ে প্রথম পর্যায় পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোর অন্তরালে থাকলেও, তারপর অনেক বেশি প্রকাশ্যে এসে পড়েন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসকে তৃতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আনার পর তিনি ঘোষিতভাবে এই ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান। এই পর্বে ভোট কুশলীর পরিচিত অন্তরাল ছেড়ে যথেষ্ট মাত্রায় প্রকাশ্যে এসেছেন প্রশান্ত কিশোর, যা সত্যিই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ।
আমাদের দেশের আরেক বিখ্যাত ভোট কুশলী সংস্থা ইনক্লুসিভ মাইন্ডের মাথা সুনীল কানুগলুকে এ যাবৎকালে কজন দেখেছেন তা বোধহয় গাঁটে গুনে বলা যাবে। তিনি পুরোটাই নেপথ্যে থেকে কংগ্রেসের হয়ে স্ট্র্যাটেজি সাজানোর কাজ করেন।
ভোট কুশলীর কক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় ছিটকে পড়ার সিদ্ধান্তই আজ প্রশান্ত কিশোরকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিতে পরিণত করেছে। আগামী দিনে তিনি জননেতা হয়ে উঠবেন কিনা বা এই দেশের বড় কোনও রাজনীতিবিদদে পরিণত হবেন কিনা তা সময়'ই বলবে। কিন্তু বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে শেষ নির্বাচনেও বিজেপি ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিল, সেখানে প্রশান্ত কিশোরের এই জয় গভীর তাৎপর্যপূর্ণ তো বটেই।
এর নেপথ্যে ককরোজদের আন্দোলন, শাসক বিজেপি বিরোধী জনগণের অবস্থান, বিজেপি প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বা প্রশান্ত কিশোরের বিখ্যাত নেপথ্য কৌশল- কারন যাই থাকুক না কেন, দিনের শেষে লেখা থাকবে ভোট কুশলীর ছদ্মবেশ ছেড়ে নির্বাচনের ময়দানে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমে প্রথমবারেই বাজিমাত করলেন পিকে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
