প্রতীকী ছবি - Google
৩রা জুন, ২০২৬
দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষা বোর্ড সিবিএসই। প্রতি বছর কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয় এই বোর্ডের পরীক্ষার মাধ্যমে। সেই সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েই এবার উঠল বড় প্রশ্ন। এক ১৯ বছরের সাইবার গবেষকের অভিযোগকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় স্তরে। প্রশ্ন উঠছে—সত্যিই কি সিস্টেম হ্যাক হয়েছিল, নাকি ঘটনাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতির ফল?
কী দাবি করেছিলেন ওই তরুণ?
‘নিসর্গ’ নামে পরিচিত ওই তরুণ সাইবার নিরাপত্তা গবেষকের দাবি, সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি পোর্টালে তিনি অনায়াসে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন। সেখানে পরীক্ষার উত্তরপত্র এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত কিছু তথ্য দৃশ্যমান ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি। নিজের দাবির সমর্থনে স্ক্রিনশট ও ভিডিও প্রকাশ করেন।
তার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, দেশের বৃহত্তম শিক্ষা বোর্ডের ডিজিটাল অবকাঠামো আদৌ কতটা নিরাপদ?
প্রথমে অস্বীকার, পরে সুর বদল সিবিএসই-র
অভিযোগ সামনে আসতেই প্রথমে তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সিবিএসই। বোর্ডের বক্তব্য ছিল, যে ওয়েবসাইটের কথা বলা হচ্ছে সেটি মূল মূল্যায়ন পোর্টাল নয়। সেটি ছিল পরীক্ষামূলক বা ডেমো প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষিত ছিল না।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। কারণ, মূল তথ্য না থাকলেও কোনও সরকারি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা ত্রুটি থাকা নিজেই উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
‘হ্যাক’ না হলেও বিপদের ইঙ্গিত স্পষ্ট
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে হয়তো পূর্ণাঙ্গ সাইবার হামলা বলা যাবে না। কিন্তু অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ থাকা মানেই নিরাপত্তা কাঠামোয় দুর্বলতা রয়েছে।
তাঁদের মতে, কোনও সিস্টেমে তথ্য চুরি হয়েছে কি না, সেটাই একমাত্র প্রশ্ন নয়। বরং প্রশ্ন হল, সেখানে প্রবেশের রাস্তা আদৌ খোলা ছিল কি না। যদি সেই সুযোগ থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অবশেষে নিরাপত্তা ত্রুটির কথা স্বীকার
ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত সিবিএসই স্বীকার করে যে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্ল্যাটফর্মে কিছু নিরাপত্তা সংক্রান্ত দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। যদিও বোর্ডের দাবি, কোনও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়নি এবং সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
এছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সরকারি প্রযুক্তি সংস্থা এবং আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর তথ্য কতটা সুরক্ষিত?
এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে তথ্য সুরক্ষা। ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, নম্বর, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি সংরক্ষিত থাকে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য প্রশ্নও অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সাইবার নিরাপত্তা কর্মীদের একাংশের মতে, এই ঘটনা ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য সুরক্ষার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা
পুরো ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—এটি শুধু সিবিএসই-র সমস্যা নয়। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ভর্তি থেকে পরীক্ষা, মূল্যায়ন থেকে ফলপ্রকাশ—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।
ফলে ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়াতে শুধু সফটওয়্যার তৈরি করলেই হবে না, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা এক অর্থে বড় বিপদ ঘটার আগের সতর্কবার্তা। এখন দেখার, সেই সতর্কবার্তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিস্টেম কতটা শক্তিশালী করা যায়।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
লেখকের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই যোগ করা হবে।