

ডিকা লাল-হলুদ জনতার নতুন নয়নের মণি। ছবি - Google
২৪শে আগস্ট, ২০২৬
স্বপ্নের নাম যখন এডমুন্ড লালরিনডিকা, ভরসার নামও। এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নয়নের মণি। যিনি একটা সময় দেড় বছর চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই ছেলে আর যাইহোক কোনওদিন ফুটবল খেলতে পারবে না। তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন টেনিস কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলার।
একমাত্র বোনকে নিজের মনের কথা বলেছিলেন এডমুন্ড। জানিয়েছিলেন, একদিন তিনি ঠিক ফুটবল মাঠেই ফিরে আসবেন। এসেছেনও, রাজার মতোই। এর আগেও কলকাতা ডার্বিতে ডিকা গোল করেছিলেন, কিন্তু মানুষের স্মৃতি বড়ই নিষ্ঠুর, সবকিছু ভুলে যায় তারা।
সেটাই আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন ১৩০তম ডুরান্ড কাপের ফাইনালে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে মিজোরামের ছেলেটির বিরতির আগেই তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে লাল হলুদ সমর্থকদের। তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন, শক্তিশালী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জিততে তাদের কালঘাম ছোটাতে হবে। কিন্তু কোথায় কী! কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল যেন টাট্টু ঘোড়ার মতো ছুটেছে যুবভারতীতে।
ডিকা মনে করিয়েছেন বাইচুং ভুটিয়াকেও, যিনি ২৯ বছর আগে ১৯৯৭ সালে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে অমল দত্তের মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারানোর মূল কারিগর ছিলেন। সেই ম্যাচে বাইচুং হ্যাটট্রিক করেছিলেন, এবার যেমন করলেন ডিকা। তিনিও পাহাড়ের ছেলে।
ডিকার সঙ্গে লাল হলুদের সম্পর্ক একেবারেই নতুন নয়। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে খেলছেন। ২০২০ সালে প্রথমবার লাল হলুদ জার্সি পরে খেলে ডার্বিতে গোল করেছিলেন অভিষেক ম্যাচেই। সেবার ইস্টবেঙ্গলের কোচ ছিলেন আলেসান্দ্রো মেনেন্দেজ। তিনি ডিকার প্রতিভা বুঝেছিলেন, তাই তাঁকে স্পেশাল নজরে রাখেন সেবার। যদিও সেই সময়ই লিগের ম্যাচে মিজো ছেলেটি হাঁটুতে প্রবল চোট পেয়ে চারমাস ছিটকে গিয়েছিলেন। ফিরে যান আইজলে নিজের বাড়িতে।
মিজোরামের লুংলেই গ্রামে জন্ম এডমুন্ডের। আইজল শহর থেকে ৫০কিমি দূরে সেই গ্রাম। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলই ছিল তার নেশা। তারপর জেলা স্কুল দলের হয়ে মিজোরাম জাতীয় জুনিয়র দলে সুযোগ পায় মাত্র ১২ বছর বয়সেই। তারপর বেঙ্গালুরুতে চলে আসে ফেডারেশনের এলিট অ্যাকাডেমিতে যোগ দিতে। ফেডারেশনের ইন্ডিয়ান অ্যারোজের হয়ে খেলেই এই তরুণ স্ট্রাইকার সকলের নজরে আসেন।
বেঙ্গালুরুর ‘বি’ দলের হয়ে পেশাদার ফুটবল জীবন শুরু হয়। এর পর ইন্ডিয়ানো অ্যারোজ, বেঙ্গালুরু, ইস্টবেঙ্গল ঘুরে ইন্টার কাশীতে যোগ দেন। সেইসময় বর্তমান ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসকে কাছে পান। ওই স্প্যানিশ কোচই ডিকার জীবন এবার বদলে দিলেন। হাবাস মনে করেন, এই মুহূর্তে ভারতের সেরা স্ট্রাইকার এডমুন্ডই। ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়েও খেলেছেন ক্রোয়েশিয়া কোচ ইগর স্টিম্যাশ থাকার সময়ই। ইগরও ভূষসী প্রশংসা করেছেন ডিকার। এও বলেছিলেন, ওর যা প্রতিভা, তাতে একদিন সুনীল ছেত্রীকেও ছাপিয়ে যাবে।
ডিকার আইডল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, তাই দারুণ ফিট। এমনিতেই পাহাড়ি হওয়ার কারণে খুবই পরিশ্রমী, তার সঙ্গে গতি, স্ট্যামিনা যোগ করে ২৭ বছরের নয়া তারকা বিপক্ষ দলের ঘুম কেড়ে নেবেন সন্দেহ নেই। সেই প্রমাণ ভালই দিয়েছেন ডুরান্ড কাপ ফাইনালে। তিনি এই মুহূর্তের একটা রূপকথার নাম, লাল হলুদের ভরসার নতুন নামও।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
