২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

শুধু রেজিস্ট্রেশন হলেই বিয়ে স্বীকৃত নয়: আদালত

শুধু রেজিস্ট্রেশন হলেই বিয়ে স্বীকৃত নয়: আদালত

আইনী রেজিস্ট্রেশনের সাথে ধর্মীয় আচার না সম্পন্ন হলে বৈধ নয় বিবাহ- জানাল গুজরাট হাইকোর্ট। প্রতীকী ছবি - Google.

শুধু রেজিস্ট্রেশন হলেই বিয়ে স্বীকৃত নয়: আদালত

বিয়ে কোনো নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া বা আমোদ-প্রমোদের উৎসব কিংবা নিছক কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নয়। যদি প্রথাগত ধর্মীয় রীতি মেনে 'সপ্তপদী' বা সাতপাক না সম্পন্ন হয়, তবে কেবল আইনি রেজিস্ট্রেশন বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট দিয়ে একটি হিন্দু বিয়েকে বৈধ বলা যাবে না। এক প্রবাসী ভারতীয় যুবকের করা মামলায় গত ২৩ জুন এমনই এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে গুজরাট হাইকোর্ট। বিচারপতি ইলেশ ভোরা এবং বিচারপতি আর. টি. বাচ্ছানির ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হিন্দু ধর্মে বিয়ে একটি ‘সংস্কার’ বা পবিত্র বন্ধন, যার মূল ভিত্তি হল ধর্মীয় আচার।

প্রতারণার শিকার প্রবাসী যুবক

মামলাটি করেছিলেন ব্রিটেন প্রবাসী কৌশল সোনার নামের এক যুবক। তিনি জানান, আহমেদাবাদের এক তরুণী হঠাৎ তাঁর বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে একটি ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখিয়ে দাবি করেন যে তিনি কৌশলের আইনসম্মত স্ত্রী। কৌশল আদালতে জানান, তিনি কোনোদিন ওই তরুণীকে বিয়ে করেননি, কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও হয়নি। তাঁর অভিযোগ ছিল, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এবং তাঁর অজান্তেই বিয়ের কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আহমেদাবাদের ফ্যামিলি কোর্ট প্রথমে যুবকের এই বিয়ে বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু গুজরাট হাইকোর্টে শুনানির সময় ওই তরুণী নিজেই স্বীকার করেন যে, তাঁদের মধ্যে কোনো ধর্মীয় আচার বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়নি। এরপরই হাইকোর্ট ফ্যামিলি কোর্টের আগের আদেশ বাতিল করে এই বিয়েকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ‘শূন্য’ (Void) বলে ঘোষণা করে।

আইন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

হাইকোর্ট তার রায়ে হিন্দু বিবাহ আইনের (Hindu Marriage Act) ৭ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছে। এই ধারা অনুযায়ী, প্রথাগত রীতিনীতি এবং বিশেষ করে অগ্নির সামনে বর-কনের একসাথে সাত পা ফেলার (সপ্তপদী) মতো অত্যাবশ্যকীয় আচারগুলো ছাড়া একটি হিন্দু বিয়ে আইনিভাবে পূর্ণাঙ্গ বা বাধ্যতামূলক হতে পারে না। যেহেতু এই মামলায় কোনো আচারই পালন করা হয়নি, তাই বিয়ের মূল ভিত্তিটাই এখানে অনুপস্থিত।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আদালতের বার্তা

আদালত এই রায়ের মাধ্যমে আধুনিক সমাজের তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে একটি গভীর সামাজিক বার্তাও দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, হিন্দু ঐতিহ্যে স্ত্রীকে স্বামীর 'অর্ধাঙ্গিনী' বা অর্ধাংশ হিসেবে দেখা হয়, যিনি একই সাথে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ে উজ্জ্বল এবং সংসারে সমান অংশীদার। বিয়ে হল একটি নতুন পরিবারের ভিত্তি। এটি কেবল ‘খাওয়া-দাওয়া আর হুল্লোড়’ করার কোনো উপলক্ষ নয়। তাই তরুণ প্রজন্ম যাতে এই বন্ধনে জড়ানোর আগে এর গভীরতা ও সামাজিক গুরুত্ব ভালোভাবে অনুধাবন করে, আদালত সেই আহ্বান জানিয়েছে

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য