hantavirus-crwews-ship-argentina-
৭ই মে, ২০২৬
আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু হওয়া এক সুন্দর সফর এখন রূপ নিয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে গত রবিবার থেকে আটকে থাকা ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ (MV Hondius) নামক বিলাসবহুল জাহাজটি অবশেষে স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। রয়টার্স সূত্রে খবর, জাহাজটিতে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ।
আক্রান্তের সংখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি
জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এ পর্যন্ত আটজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে তিনজনের শরীরে সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। মৃতদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, জাহাজটি তিন দিনের মধ্যে কানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে পৌঁছাবে। সেখানে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ যাত্রীকে মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে ৪৫ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
ভাইরাসের উৎস ও সংক্রমণের প্রকৃতি
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজটি উশুয়াইয়া শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মনে করা হচ্ছে, এই ভাইরাসের উৎস ‘অ্যান্ডিয়ান স্ট্রেন’, যা সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি মানুষের থেকে মানুষের দেহেও ছড়াতে পারে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশ্বস্ত করেছে যে, এই ভাইরাসের গণ-সংক্রমণের ঝুঁকি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অতটা বেশি নয়।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ধারকাজ
জাহাজের যাত্রী কাসেম হাতো জানিয়েছেন, ভেতরে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এক চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্যাপ্টেন আমাদের নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন। আমরা বই পড়ে বা সিনেমা দেখে মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।”
এদিকে, উদ্ধারকাজেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি। এক অসুস্থ যাত্রীকে নিয়ে নেদারল্যান্ডস যাওয়ার পথে মরক্কো বিমানটিকে জ্বালানি ভরার অনুমতি দেয়নি। পরে স্পেনের গ্রান ক্যানারিয়া বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে রোগীটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়।
এই প্রমোদতরণীটি বিশ্বের দুর্গম দ্বীপ সেন্ট হেলেনাতেও নোঙর করেছিল, যেখানকার স্থানীয়দের নিয়েও এখন উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তেনেরিফের বাসিন্দারা জাহাজটিকে সেখানে ডক করতে দেওয়ার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালেও, মানবিক কারণে স্পেন সরকার জাহাজটিকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।