৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

দিল্লি থেকে হঠাৎ করে উধাও গৃহকর্মীরা, মাঝপথে থমকে গেল রাজধানীর চাকা! নেপথ্যে কি তবে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?

দিল্লি থেকে হঠাৎ করে উধাও গৃহকর্মীরা, মাঝপথে থমকে গেল রাজধানীর চাকা! নেপথ্যে কি তবে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?

home maid

দিল্লি থেকে হঠাৎ করে উধাও গৃহকর্মীরা, মাঝপথে থমকে গেল রাজধানীর চাকা! নেপথ্যে কি তবে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?

২০২১ বা ২০২০-এর সেই লকডাউনের দিনগুলোর কথা মনে আছে? দিল্লির গুরগাঁও থেকে মুম্বই বা বেঙ্গালুরু—শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরে আবার ফিরে এসেছে সেই চেনা ছবি। সাতসকালে সবজি কাটা, অফিসের আগে তাড়াহুড়ো করে ঘর ঝাড় দেওয়া, আর রাত জেগে এঁটো বাসন মাজা। তবে এবার কোনো অতিমারি নয়, ঘরের লক্ষ্মীদের এই আকস্মিক 'অন্তর্ধানের' কারণ পশ্চিমবঙ্গ বা অন্য রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন।

দিল্লি-এনসিআর বা বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলো যাদের অদৃশ্য হাতের পরিশ্রমে সচল থাকে, সেই পরিযায়ী গৃহকর্মীদের এক বিশাল অংশ ভোট দিতে নিজেদের গ্রামে ফিরে গিয়েছেন। আর তার ফলেই কার্যত ধসে পড়েছে শহরের দৈনন্দিন ছন্দ। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন দিশেহারা। ১০ মিনিটের পরিষেবায় ঘর পরিষ্কার বা রান্নার লোক দেওয়ার যে অ্যাপগুলো বাজারে রয়েছে, চাহিদার চাপে সেগুলোও এখন আর 'ইনস্ট্যান্ট' পরিষেবা দিতে পারছে না।

গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা সুস্মিতা মারিকের পরিস্থিতিই ধরা যাক। সদ্য মা হওয়া সুস্মিতাকে একদিকে যেমন অফিসের কাজ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনাও করতে হচ্ছে। তাঁর পরিচারিকা পশ্চিমবঙ্গের জওগ্রামের বাসিন্দা। ভোট দিতে যাওয়ার সময় তিনি বলে গিয়েছেন, "যেতেই হবে, নাহলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেবে।" সুস্মিতার আক্ষেপ, "মা সাহায্য করতে চান, কিন্তু এই বয়সে তাঁকে দিয়ে কাজ করাতে ইচ্ছা করে না। আবার অফিসের কাজ সামলে একা সবটা করাও অসম্ভব হয়ে পড়ছে।"

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন গৃহবধূদের অসহায়তার ভিডিও ভাইরাল। রান্নাবান্না, ঘর মোছা আর অফিসের কাজ—সব মিলিয়ে শরীর ও মন দুই-ই আর সায় দিচ্ছে না। মহামারির সময়ে তাও 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন অফিস যাওয়া আর ঘরের কাজ সামলানো এক চরম অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপণন পেশার সাথে যুক্ত সুকুমার দাস জানাচ্ছেন, অফিসের কাজের চাপে বা ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য ছুটি চাওয়াটাও এখন এক বড় বিড়ম্বনা।

মজার বিষয় হল, ভোট দিতে যাওয়ার পেছনে এই কর্মীদের মনে কাজ করছে এক গভীর আতঙ্ক ও প্রত্যাশা। কেউ বলছেন, "ভোট না দিলে নাকি নাগরিকত্ব থাকবে না।" আবার কারওর কপালে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে—"ভোট না দিলে কি আর এই সরকারি সাহায্য পাওয়া যাবে?" সরকারি প্রকল্পের সুবিধা হারানো বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় তাঁদের কয়েক হাজার কিলোমিটার উজিয়ে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করছে।

শহরের মানুষ এখন গুগল ক্যালেন্ডারে কাজের সময় ভাগ করে বা ভোরের অ্যালার্ম কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে দিয়ে কোনওমতে ঘর সামলাচ্ছেন। সবাই জানেন এই সমস্যা সাময়িক, ভোট মিটলেই আবার সব স্বাভাবিক হবে। কিন্তু এই কয়েকটা সপ্তাহ ভারতের নগরকেন্দ্রিক জীবনকে এক অমোঘ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল—যে কাজগুলোকে আমরা এতদিন 'সামান্য' বলে এড়িয়ে চলতাম, সেই কাজগুলো থেমে গেলেই যে আসলে থমকে যায় আস্ত একটা শহর।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য