আইএমএফের রিপোর্টে শোরগোল। ছবি - Google
৩০শে মে, ২০২৬
আইএমএফের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) কিছুটা বেশি হতে পারে। বর্তমান মার্কিন ডলারের মূল্যে এই বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে ২,৯১১ ডলারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি হবে ২,৮১২ ডলার। অর্থনৈতিক এই লড়াইয়ে ভারতের মতো বিশাল বাজারকে একটি ছোট প্রতিবেশী দেশ টেক্কা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
চলতি ডলারের হিসাবে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হওয়ার ঘটনা কিন্তু এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর এই সূচকে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে গত ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশি টাকার মান ডলারের বিপরীতে আচমকা অনেকটাই কমে যাওয়ায় ভারত আবার সাময়িকভাবে শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু ভারতের এই পিছিয়ে পড়াকে 'স্তম্ভিত করার মতো' বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওঠানামার পেছনে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে দুই দেশের মুদ্রার বিনিময় হারের (Exchange Rate) তারতম্যই প্রধান কারণ。
চলতি ডলারের হিসাব আমাদের সাময়িক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি চিত্র দিলেও, কোন দেশের সাধারণ মানুষ বাস্তবে কেমন আছেন তা পুরোপুরি স্পষ্ট করে না। এর জন্য দেখতে হবে 'ক্রয়ক্ষমতার সমতা' বা পার্চেজিং পাওয়ার প্যারিটি (PPP) ভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপি। এই সূচকে মুদ্রার ওঠানামাকে বাদ দিয়ে দেখা হয় যে, স্থানীয় মুদ্রা দিয়ে নিজ দেশে একজন মানুষ বাস্তবে কতটা পণ্য বা সেবা কিনতে পারছেন। আর এই পিপিপি (PPP) সূচকে আধুনিক যুগে সবসময়ই ভারত বাংলাদেশের চেয়ে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পিপিপি ডলারে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হল ১১,৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের (১০,২৭১ ডলার) চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। আইএমএফের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্ষেপণ বলছে, ২০২৬ সালের এই সাময়িক ধাক্কা কাটিয়ে ২০২৭ সালেই ভারত আবার চলতি ডলারের হিসাবেও নিজের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করবে। শুধু তাই নয়, ২০৩১ সালের মধ্যে এই দুই প্রতিবেশীর পিপিপি ব্যবধান আরও বেড়ে প্রায় ২৪ শতাংশে পৌঁছাবে, যেখানে ভারতের মাথাপিছু আয় হবে ১৮, ৪৮৫ ডলারে এবং বাংলাদেশের হবে ১৪,৮৫৭ ডলার। ফলে সাময়িক বৈচিত্র্য থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক দৌড়ে ভারত নিজের আধিপত্য বজায় রাখছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
লেখকের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই যোগ করা হবে।