জঁ দ্রেজ। ছবি - Google
১২ই জুন, ২০২৬
প্যারিসের বিশ্বমঞ্চে যখন তাঁর নাম ঘোষণা করা হল, হাততালিতে ফেটে পড়ল চারপাশ। ‘গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ হাতে নিয়ে সাদা দাড়ি-গোঁফে ঢাকা চেনা হাসিতে হাসলেন জঁ দ্রেজ। কিন্তু এই আন্তর্জাতিক গৌরব মুহূর্তেই যেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ঝাড়খণ্ডের কোনো এক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে, যেখানে ভাঙা মাটির দাওয়ায় বসে এক বৃদ্ধা এখনো তাঁর রেশন কিংবা ১০০ দিনের কাজের খাতার দিকে তাকিয়ে দিন গোনেন।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে দ্রেজ স্পষ্ট ভাষায় বললেন, এই পুরস্কার তাঁর একার নয়; এটি ভারতের সেই অজস্র সাধারণ মানুষ আর একনিষ্ঠ সমাজকর্মীদের যৌথ লড়াইয়ের স্বীকৃতি, যাঁরা প্রতিনিয়ত অসমতার বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। বহু বছর আগে বেলজিয়ামের সচ্ছল জীবন ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন তিনি। এ দেশের ধুলোবালি, দারিদ্র্য আর মানুষের সরলতা তাঁকে এমনভাবে বেঁধেছিল যে, তিনি এ দেশেরই একজন হয়ে গেলেন। অর্থনীতি তাঁর কাছে শুধু খাতা-কলমের জটিল অঙ্ক বা বড় বড় তত্ত্ব ছিল না; তা ছিল ফুটপাতে শুয়ে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার অধিকার। ভারতের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন কিংবা ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টির (NREGA) মতো যুগান্তকারী নীতিগুলোর রূপকার হিসেবে তিনি চিরকাল পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করতে ভালোবাসতেন।
আজকের ভারতকে নিয়ে তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট। দ্রেজ মনে করিয়ে দিলেন, এ দেশের অসমতা শুধু টাকার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর শিকড় ছড়িয়ে আছে জাতপাত, লিঙ্গবৈষম্য আর শিক্ষার অধিকারের চরম বৈষম্যের মধ্যে। ডিজিটাল ব্যবস্থার কড়াকড়িতে যখন গরিবের রেশন বন্ধ হয়, তখন আশি পেরোনো এই মানুষটি এখনো রাজপথে এসে দাঁড়ান। প্যারিসের আলো ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়েও তাঁর চোখ যেন খুঁজছিল ভারতের সেই প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসকে, যা আজও মানুষকে নিজের অধিকারের জন্য লড়তে শেখায়। কারণ জঁ দ্রেজ জানেন, আসল পুরস্কার কোনো মঞ্চে থাকে না, তা থাকে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে এক চিলতে হাসির জয়ে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।