

কিকি রামোস। ছবি - Google, গ্রাফিক্স - The Fourth Axis
৫ই আগস্ট, ২০২৬
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেনের মতো দেশে ফুটবলার তৈরির কারখানা রয়েছে। কেউ ভালো খেললে তাকে সেইভাবে প্রস্তুত করা হয়। ভারতে বহু প্রতিভা হারিয়ে যায় স্রেফ দেখভালের অভাবে। ওই দেশগুলিতে ফুটবলার গড়ে ওঠে প্রায় প্রতি ঘরে।
এবারই যেমন আর্জেন্টিনা দলে বহু নবীন প্রতিভা দেখা গিয়েছে, যারা গত বিশ্বকাপেও ছিল না। তারা হয়তো ফাইনালে হেরেছে, কিন্তু মেসি প্রতি ম্যাচের পরে নিজের দেশের সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁর অবর্তমানে আর্জেন্টিনার কোনও সমস্যা হবে না, হলেও সেটি সাময়িক। কেন মেসি এই কথা বলেছেন, সেটি একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে।
হাইতির রাজধানী পোর্ট অফ প্রিন্সের একটি অনাথ আশ্রমে জন্ম হয়েছিল স্টিফেন ‘কিকি’ রামোসের। জীবনের শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়, যখন আর্জেন্টিনার একটি পরিবার তাঁকে দত্তক নেয়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা এবং নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেই শিশুই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আলোচনায়।
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দল থেকে উঠে এসে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে। বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলছেন রামোস। তাঁর স্বাভাবিক পজিশন লেফট উইং হলেও প্রয়োজনে ডান প্রান্তেও সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলতে পারেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছে।
চলতি সিজনে ভেলেজের যুব দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন রামোস। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই করেছেন ১২টি গোল। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকো ডি’ রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে নিজের প্রতিভার বড় প্রমাণ দিয়েছেন। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। তাঁকে আগামীদিনের রিকেলমে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রামোস বলেন, আর্জেন্টিনাই তাঁর বেড়ে ওঠার দেশ। এখানেই তিনি স্প্যানিশ ভাষা শিখেছেন, এখানেই গড়ে উঠেছে তাঁর জীবন। ভেলেজের মূল দলে অভিষেক করা এবং আর্জেন্টিনার হয়ে আগামী বিশ্বকাপে খেলা এই দুটি স্বপ্নই এখন তাঁকে অনুপ্রাণিত করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে স্বাভাবিক লেফট উইঙ্গার পজিশনে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে দলটির কোচিং স্টাফ। সেই জায়গায় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে রামোসকে। বয়স, দক্ষতা এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে, যখন তার বয়স হবে মাত্র ২১ বছর, তখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও দেখছে সেই দেশের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
রামোসের গল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হলো তাঁর শিকড়। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। হাইতিতে জন্ম নেওয়া এবং পরে আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা রামোস মার্টিনেজদের সফল সতীর্থ হতে পারেন। নিয়মিত খেলতে পারলে তিনি হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে নতুন এক ইতিহাসের অংশ হবেন। তাই তাঁর গল্প শুধু প্রেরণাদায়ক নয়, পাশাপাশি এক ব্যতিক্রমী সংগ্রামের কাহিনিও।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
