

এমবাপ্পে ও ইয়ামাল। ছবি - Google
১৩ই জুলাই, ২০২৬
লড়াইটা সেয়ানে-সেয়ানে হবে, এটা বলাই যায়। একজনের কাছে এটাই অভিষেক বিশ্বকাপ, তিনি চাইবেন প্রথম আসর স্মরণীয় করে রাখতে। তিনি স্পেনের লামিনে ইয়ামাল। অন্যজন, এবারও মেগা ইভেন্টে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। তিনি দৌড়ানো মানে পুরো ফ্রান্স দলটি টগবগে থাকে, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথ দেখবে ফুটবল দুনিয়া।
২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ে গোল করার সময় এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর ২০৭ দিন। ১৯৫৮ সালে ১৭ বছর বয়সী পেলের পরে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা মাত্র দ্বিতীয় টিনএজার ফুটবলারের তালিকায় নাম লেখান এমবাপ্পে।
ইয়ামালের কাছেও এবার ঘটনাটি অনেকটা তাই। দাদাদের সঙ্গে তিনি ভাই হিসেবে খেলছেন! কিন্তু তাঁর ফুটবলশৈলী জুনিয়র তারকাদের মতো নয়, বরং তিনি ছাপিয়ে যান কখনো কখনো বড় তারকাদেরও। এই যেমন, ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সের বিপক্ষে ইয়ামালের দুর্দান্ত গোল স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করেছিল। ইয়ামালের ১৭তম জন্মদিনের দু’দিন আগে সেটি ঘটেছিল। সেই জন্মদিন এই স্প্যানিশ স্মরণীয় করে রেখেছিলেন ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে। ইয়ামাল সেবার ইউরো কাপের সেরা তারকাও হন।
এত অল্প বয়সেই তিনি বিশ্বফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। অথচ তাঁর সামনে পড়ে দীর্ঘ কেরিয়ার। এবার বিশ্বকাপের আগে বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় চোট চিন্তায় রেখেছিল তাঁকে। তারপরেও দ্রুত সুস্থ হয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন ইয়ামাল।
চলতি আসরে তিনি যে প্রতি ম্যাচে গোল পাচ্ছেন, তা নয়। একটি ম্যাচেই গোল করেছেন। যেহেতু বড় মঞ্চের তারকা, তাই সেমিতে যদি ফ্রান্সের বিপক্ষে জ্বলে ওঠেন, বলার কিছুই থাকবে না।
পাশাপাশি ফ্রান্স শিবিরের মধ্যমণি কিলিয়ান। মনে করা হচ্ছে, গতবার এমবাপ্পে যেভাবে কাপ মিস করেছিলেন, এবার তিনি চাইবেন না ওইভাবে মিস হোক। তাই প্রতি ম্যাচে এই গোলমেশিন নতুন কোনো গল্প লিখছেন। এই বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত তাঁর গোলসংখ্যা আট, যা মেসির সমান। বিশ্বকাপে মেসির সর্বকালের ২১টি গোলের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপ্পে। এবার তাঁর লক্ষ্য টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা। এটি করতে পারলে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুলব্যাক কাফুর কীর্তির পাশে নাম লেখাবেন। কাফু ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ - টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিলেন। অথচ পেলে ও মারাদোনা দুজনই খেলেছেন মাত্র দুটি করে ফাইনাল।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে হারানোর পরে এমবাপ্পে বলেছিলেন, "মানুষ পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলে, আমি টিভিও দেখি। কিন্তু আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো দলকে সাহায্য করা এবং ১৯ জুলাই আবার এখানে ফিরিয়ে আনা।"
ইয়ামাল ও এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই নিজ নিজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত দুই আইকন- আধুনিক ইউরোপের প্রতীক। অভিজ্ঞতায় অবশ্য এমবাপ্পে অনেক এগিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে একটা দিনই বদলে দিতে পারে সব প্রেক্ষাপট।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
