৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

ভারতে কি ভোটদান বাধ্যতামূলক? প্রশ্ন, বিল ও বিতর্ক

ভারতে কি ভোটদান বাধ্যতামূলক? প্রশ্ন, বিল ও বিতর্ক

mandatory voting-world view

ভারতে কি ভোটদান বাধ্যতামূলক? প্রশ্ন, বিল ও বিতর্ক

ভোট না দিলে কি কোনও শাস্তি হয়? কেউ কি ভোট দেওয়ার জন্য জোর করতে পারেন? ভোটদানে বিরত থাকলে কি আইনি পরিচয়পত্র অবৈধ হয়ে যায়? প্রশ্নগুলো নতুন নয়, অসঙ্গতও নয়। মানুষের মনে মিশ্র ধারণা আছে এ নিয়ে। আসুন, উত্তর খুঁজে নেওয়া যাক।

বহু দেশে নাগরিকের ভোটদান বাধ্যতামূলক

ডব্লিউপিআর (World Population Review)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ২৭ টি দেশে ভোটদান বাধ্যতামূলক। এই তালিকায় ব্রাজিল, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, পেরু, তাইল্যান্ড, উত্তর কোরিয়া, ইজিপ্ট, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, গ্রিস, প্যারাগুয়ে, সিঙ্গাপুর, টার্কি, চিলি, বলিভিয়া প্রভৃতি দেশ মনে করে ভোট দেওয়া নাগরিকের ইচ্ছাধীন নয়। এমনকি, বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির বিধানও আছে ভোট না দিলে।

ভোটদান বাধ্যতামূলক নয় যেসব দেশে

বিশ্বের প্রায় ১৮০ টি দেশে ভোটদান নাগরিকের ইচ্ছার ওপর ছাড়া আছে। ভারতসহ যুক্ত্রারাষ্ট্র (US), যুক্তরাজ্য (UK), চিন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জাপান, রাশিয়া, নাইজেরিয়া, ইরান, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইতালি, কেনিয়া, মায়ানমার, কলম্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের অবস্থান, বিতর্ক ও বিল

দেখা যায়, গণতন্ত্রপ্রধান দেশে সাধারণভাবে ভোটদান নাগরিকের ইচ্ছাধীন। ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, পালটা প্রস্তাব এসেছে, বিতর্ক আছে এ নিয়ে।

২০১৯ ও ২০২২ সালে এ নিয়ে সংসদে প্রস্তাব ওঠে।

অগস্ট ৫, ২০২২

বিজেপি সাংসদ জনার্দন সিগ্রিওয়াল প্রস্তাবিত Compulsory Voting Bill, 2019-কে কেন্দ্র করে তিন বছর ধরে চলা আলোচনার জবাবে অগস্ট ৫, ২০২২-এ লোকসভা-তে কেন্দ্রীয় সরকার জানায় যে নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ভোটদান একটি “অবাস্তব ধারণা” এবং এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে, কারণ ভোটদান একটি অধিকার, বাধ্যতামূলক কর্তব্য নয়।

তৎকালীন আইন ও বিচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এস. পি. সিং বাঘেল আরও বলেন, বিলটিতে ভোটদান বাধ্যতামূলক করার জন্য যে প্রস্তাবগুলি দেওয়া হয়েছে—যেমন, যারা ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা তালিকায় ভোটাধিকারপ্রাপ্ত অথচ ভোট দেননি তাদের উপর ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ—সেগুলি শুধু অবাস্তবই নয়, বরং নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর কথায়, “...কোনো দিনমজুরকে ভোট না দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে বলা হলে তা অত্যন্ত অন্যায্য হবে। আবার, ভোট না দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হলে, প্রভাবশালী প্রার্থীরা সেটিকে নির্বাচনের পরে প্রতিশোধ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে...ভারতের আইন কমিশন-ও মনে করছে যে এই ধারণাকে উৎসাহিত করা উচিত নয়।" বাধ্যতামূলক ভোটদানের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের শাসন। ভোট না দেওয়ার জন্য জনগণকে শাস্তি দেওয়া যায় না।”

পরবর্তীকালে জনার্দন সিগ্রিওয়াল এস. পি. সিং বাঘেল-এর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি প্রত্যাহার করে নেন।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনো ভোটারকে শাস্তি দেওয়া বা “গ্রেফতার” করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভোটারের নিজস্ব অধিকারের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ, Compulsory Voting Bill (২০১৯, ২০২২)-এর মতো কিছু ব্যক্তিগত সদস্যের বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো আইন হিসেবে পাস হয়নি।

ভারতে ভোটদান একটি আইনগত অধিকার (statutory right), এটি মৌলিক কর্তব্য (duty) নয়।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য