১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
ভারতের দাবা জগতের জ্যোতিষ্ক প্রজ্ঞানন্দ

রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। ছবি - Google

ভারতের দাবা জগতের জ্যোতিষ্ক প্রজ্ঞানন্দ

মূল বিষয়

ভারতের দাবা জগতের বিস্ময় রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। মাত্র ২১ বছর বয়সেই চেন্নাইয়ের এই বিস্ময় প্রতিভা সারা বিশ্বেই দাবা জগতে আলোড়িত এক নাম। একটা সময় চেন্নাইয়ের বেসান্ত নগর থেকে উঠে এসেছিলেন বিশ্বনাথন আনন্দ। ওই শহর থেকেই প্রজ্ঞানন্দের উত্থান বেশ চমকপ্রদ। মাত্র ১২ বছর বয়সেই প্রজ্ঞানন্দ গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে গিয়েছিল। তারপর বাকি আট বছরে তাঁর মাথায় জুড়েছে বহু মুকুট। এই তরুণ ভারতীয় বিশ্বের একনম্বর দাবাড়ু, সুইডেনের ম্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।

প্রজ্ঞানন্দের শুরু

ক্রিকেট হোক কিংবা দাবা, যে কোনও খেলাতেই বোঝা যায় প্রতিভাধরদের। শচীন তেন্ডুলকার যেমন তাঁর অভিষেক পাকিস্তান সফরে প্রমাণ করেছিলেন তিনি এসে গিয়েছেন। তেমনি দাবাতেও প্রজ্ঞানন্দ বোঝান জুনিয়র বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে খেতাব জিতে। সাত বছরেই যে ছেলেটি অনূর্ধ্ব ৮ জুনিয়র বিভাগে ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল আনন্দের উত্তরসূরী ভারত পেয়ে গিয়েছে।

প্রজ্ঞানন্দের বাবা চেন্নাইয়ের এক বেসরকারী ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, মা গৃহবধূ। কিন্তু এখন আর ঘরে থাকা হয় না তাঁর। ছেলের সঙ্গে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়ান। প্রজ্ঞানন্দের দিদিও নামী দাবাড়ু, বৈশালী। তবে ভাই এই বয়সেই যা কীর্তি গড়েছে, সেটি আনন্দের পক্ষেও সম্ভব হয়নি।  

আরও পড়ুন
ডিকা ইস্টবেঙ্গলের এক স্বপ্নের নাম, ভরসারও
অ্যাথলেটিক্সের ‘মানব রোবট’ উসেইন বোল্ট
গোষ্ঠ পালের পায়েই জব্দ হয় গোরারা

প্রথম কোনও ভারতীয় হিসেবে নরওয়ে ওপেন জিতেছেন চেন্নাইয়ের এই ছেলেটি। যাঁর একটা সময় ইচ্ছে ছিল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হবেন। জার্মানির ভিনসেন্ট কিমারকে হারিয়ে তিনি এই বড় সাফল্য পান। ২০১৩ সালের পর থেকে এই টুর্নামেন্টে ভারতীয় কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ কেউই এই খেতাব অর্জন করতে পারেননি। প্রজ্ঞানন্দ সেটি দেখিয়ে দিয়েছেন।

প্রজ্ঞানন্দের ক্যারিশ্মা

কঠিন ও চাপের পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞানন্দ একেবারে শান্ত ও ঠান্ডা মাথায় খেলেন, এটাই তাঁর এগিয়ে থাকার শক্তি। শুরু থেকেই তিনি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে চাল দিতে থাকেন, পাশাপাশি বিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতাও আগেও জেনে রাখেন। তাই তাঁর ম্যাচে কৌশল করতে সুবিধে হয়। ম্যাচের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর খেলায় গভীর চিন্তাভাবনা এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে। তিনি অযথা ঝুঁকি নিতে ভালবাসেন না, বরং বিপক্ষ ভুল করলে তিনি সেটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। তাই প্রজ্ঞানন্দকে হারানো চাপের, সেটি স্বীকার করছেন বিশ্বের কিংবদন্তি দাবাড়ুরাও।

তিনিও ধোনির মতো ক্যাপ্টেন কুল। একটা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতেও তিনি নির্লিপ্ত থাকতে পারেন। এই গুণ তিনি মায়ের থেকে পেয়েছেন। ম্যাচ জয়ের পরে মিডিয়ার সামনে এসেও জানান, ‘‘আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না এরকম যে একটা করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল, প্রতিপক্ষের খেলা বিশ্লেষণ করে নিজের চালের দিকে মন দেওয়া, সেই কাজটি করতে পেরেছি বলে জয় এসেছে।’’ 

প্রজ্ঞানন্দ এই কথা যে কোনও টুর্নামেন্টে জিতেই বলে থাকেন। কোনও নতুনত্ব নেই, বরং কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে আবারও তিনি প্র্যাকটিসে নেমে পড়েন। এখনও প্রজ্ঞানন্দের প্র্যাকটিস পার্টনার বিদেশী কেউ নন, এমনকী কোনও কম্পিউটারও নয়। বরং দিদির সঙ্গে খেলেই এগোতে ভালবাসেন। এমন একজন প্রতিভা যাকে পেয়ে আজ দেশ গর্বিত।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য