

নেইমার এমন একজন ফুটবলার, যিনি একই সঙ্গে মুগ্ধতা ও বিরক্তির জন্ম দিয়েছেন। ছবি - Google.
২২শে জুন, ২০২৬
নেইমার জুনিয়র – গোল, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত সাফল্যের বাইরেও তাঁর গল্পটি প্রত্যাশা, চাপ, প্রতিভা, বিতর্ক ও অপূর্ণতার এক জটিল মিশ্রণ। ২০১০ বিশ্বকাপের হতাশার পরে ব্রাজিল যখন নতুন পথ খুঁজছিল, তখন মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে নেইমারের। সে সময় বিশ্ব ফুটবলে লিওনেল মেসি ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এক সুপারস্টার। ব্রাজিলও যেন নেইমারের মধ্যে মেসির ছায়া খুঁজে পেয়েছিল।
নেইমার এমন একজন ফুটবলার, যিনি একই সঙ্গে মুগ্ধতা ও বিরক্তির জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অসাধারণ দক্ষতা যেমন দর্শকদের বিমোহিত করেছে, তেমনি মাঠে তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। কিন্তু দর্শকেরা প্রায়ই ভুলে যায়, তিনি এমন একজন মানুষ, যাঁর ওপর আরোপিত প্রত্যাশার ভার হয়তো তাঁর প্রকৃত সত্তাকে আড়াল করে দিয়েছে।
২০১৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে পরাজয়ের পরে কাজানের স্টেডিয়ামের বাইরে একা দাঁড়িয়ে থাকা নেইমারের ছবি আজও অনেকের মনে গেঁথে রয়েছে। মাথা নিচু, কাঁধ নুয়ে থাকা সেই দৃশ্য যেন একজন খেলোয়াড়ের নয়; বরং একটি দেশের অপূর্ণ স্বপ্নের প্রতীক। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়তো হাতছাড়া হয়ে গেছে। সমস্যার শুরু আরও আগে।
২০১১ সালের কোপা আমেরিকায় সান্তোসের হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস জয়ের নায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান নেইমার। কিন্তু ভেনেজুয়েলার রবার্তো রোসালেস এবং পরে প্যারাগুয়ের দারিও ভেরনের কঠোর মার্কিংয়ের সামনে তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। সেখান থেকেই প্রতিপক্ষরা একটি বিষয় বুঝে যায়—শারীরিক চাপে নেইমারকে বিচলিত করা সম্ভব। পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁকে নিয়মিত কঠিন ট্যাকলের মুখে পড়তে হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রায়ই প্লে অ্যাকটিং করে বিতর্ক বাড়িয়েছেন।

নেইমারের প্রধান সমস্যা, খেলা থেকে মাঝেমধ্যে হারিয়ে গিয়ে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় জড়িয়ে যাওয়া। তিনি বেহিসেবি জীবন বয়ে চলেন। তিনি অনুশীলনের থেকে পানশালায় বেশি সময় দেন। জামাকাপড় বদলের মতো বান্ধবী বদলান। তিনি এতই চোটপ্রবণ যে দল থেকে ছিটকে যান বারবারই।
এবার তাঁকে তারপরেও দলে রেখেছেন কোচ আনচেলত্তি। খোদ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন নেইমারকে দলে রাখার জন্য।
ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ ঝুঁকি নিয়েছেন কিনা সেটি বোঝা যাবে নেইমার মাঠে নামার পরেই। দলে এই মুহূর্তে তিনি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো রয়েছেন। প্রস্তুতিতে আসছেন ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণ থেকে আগেই নিজের মতো করে হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। এমনকী গত মরক্কো ম্যাচের পরে পুরো দল টিম বাসে গেলেও নেইমার ভাড়া গাড়িতে নিজেই হোটেলে চলে যান। সেই নিয়েও বিতর্ক হয়।
একটাই আশার কথা, পরের ম্যাচে নেইমার খেলতে পারেন, বরং চোট পেয়ে অনিশ্চিত হয়ে গেলেন রাফিনহা। এবার দেখার, কুনিয়া-ভিনিসিয়াস-নেইমার ত্রিফলা কতটা ভয়ঙ্কর হয় ব্রাজিলের ক্ষেত্রে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
