৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
১৬ লক্ষ নাম ছাঁটাই: তোলপাড় বাংলা

SIR-এ বাংলায় ১৬ লক্ষ নাম ছাঁটাই। ছবি - Google, গ্রাফিক্স- The Fourth Axis

১৬ লক্ষ নাম ছাঁটাই: তোলপাড় বাংলা

calender icon 2 ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

বাংলায় ১৬ লক্ষ ভোটাধিকার হরণ

নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে পশ্চিমবঙ্গে নিঃশব্দে প্রায় ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সর্বসম্মত বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের বাধ্যবাধকতা থাকলেও একা সিইসি-র নির্দেশে এই পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

মূল বিষয়

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে এক ঝটকায় বাদ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম। তবে কোনো সাধারণ সংশোধনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নয়—পুরো বিষয়টি ঘটেছে চরম গোপনীয়তায়। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয় হল, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার অভিভাবক বলে পরিচিত নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের শীর্ষ বেঞ্চের বাকি দুই কমিশনারই জানতে পারেননি ঠিক কোন যুক্তিতে, কোন নথির ভিত্তিতে কিংবা কার নির্দেশে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল। একটি স্বাধীন তদন্তমূলক প্রতিবেদনের সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে।

অন্ধকারে দুই কমিশনার, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একা সিইসি?

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভোটাধিকার সমমানের। যে কোনো নীতিগত বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত কমিশনের সর্বসম্মত আলোচনা কিংবা অন্তত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার গুপ্তের অধীনে নেওয়া এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী—কার্যত কিছুই জানতেন না। এত বড় একটি স্পর্শকাতর রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ১৬ লক্ষ নাম বাতিলের মতো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাঁদের মতামত নেওয়া হয়নি, এমনকি কোনো আনুষ্ঠানিক রূপরেখাও পেশ করা হয়নি। সহকর্মীদের এই দীর্ঘ নীরবতা ও প্রতিবাদপত্রগুলো এখন স্পষ্ট করছে যে, কমিশনের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

আরও পড়ুন
শরতে স্মৃতির ক্যানভাস- দুর্গোৎসব ঘিরে বাঙালির নস্টালজিয়ার বহুস্বর
বঙ্গের এক স্ক্যান্ডাল থেকে জন্ম সিংহলের?
সংরক্ষণ নাকি আন্তর্জাতিক পাচারের জাল? বনতারা বিতর্ক বাংলাতেও

ভোটার তালিকা সংশোধনের অন্তরালে কীসের সমীকরণ?

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে যে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' বা এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছিল মৃত, স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটারদের বাদ দেওয়া। তবে বাস্তবে এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার বদলে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। কোনো উপযুক্ত কারণ বা নোটিস ছাড়াই ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞ ও বিরোধীদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে নিশানা করেই এই তালিকা ছোট করা হয়েছে। সিপিএম আগেই অভিযোগ তুলেছিল যে, ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়া তাদের নির্বাচনী ফলে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এখন যখন জানা যাচ্ছে যে কমিশনের ভেতরেই বিষয়টি নিয়ে অস্বচ্ছতা ছিল, তখন সেই অভিযোগের সারবত্তা আরও গভীর রূপ নিচ্ছে।

গণতন্ত্রের বিশ্বস্ত স্তম্ভের দিকে বড় প্রশ্নচিহ্ন

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া যে বিশ্বাসের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, এই ধরনের একতরফা ছাঁটাই সেই ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি রাজ্যের ১৬ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ কীভাবে দুই শীর্ষ কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে কার্যকর করা সম্ভব—তা নিয়ে খোদ প্রশাসনিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে যদিও একে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে সাধারণ নাগরিকের সবচেয়ে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার—ভোটাধিকার—যদি এভাবে নিঃশব্দে ও অস্পষ্ট প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হরণ করা হয়, তবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারণাটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক তরজা ছাপিয়ে এই ঘটনা এখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা রক্ষার এক বড় লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য