৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
পুজোয় ভুঁড়ি কমবেই কমবে! ৪ ‘সিক্রেট’

পুজোর চারদিনের স্বাস্থ্যকর ও চটজলদি ব্রেকফাস্টের আইডিয়া। ছবি - AI

পুজোয় ভুঁড়ি কমবেই কমবে! ৪ ‘সিক্রেট’

calender icon 2 ২রা অক্টোবর, ২০২৬

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

লুচি-ছোলার ডাল নয়, পুজোর চার সকালে ট্রাই করুন এই ৪ ব্রেকফাস্ট!

পুজো মানেই তেল-মশলাদার ভূরিভোজ আর ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়? পুজোর চারদিনের ডায়েট ঠিক রাখতে ট্রাই করুন ওটস, রাগি আর ডিমের এই ৪টি চটজলদি ও স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট রেসিপি।

মূল বিষয়

পুজো আসা মানেই পেটপুজোরও শুরু! সকাল থেকে লুচি আর ছোলার ডালের গন্ধ। সঙ্গে জিলিপি কিংবা রাজভোগ। তার পর সারা দিন ধরে রোল, চাউমিন, বিরিয়ানি আর মধ্যরাতে প্যান্ডেল হপিংয়ের তেলতেলে চপ-কাটলেট। ফাঁকতালে ফুচকা বা পাস্তা মর্জিমাফিক। তাহলে, এত যে জিমে ঘাম ঝরালেন সারা বছর, সে সব তো জলে গেল! গ্রিন টি, লেবু জলও ফেল। যথারীতি, দশমীর সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ালে অপরাধবোধে মনটা খচখচ করে ওঠে। মনে হয়, নিজের শরীরে নিজেই কেলেঙ্কারি করে ফেললাম!

অথচ ভেবে দেখুন, উৎসবের আসল আনন্দ কিন্তু পেট খারাপ করে বিছানায় শুয়ে থাকায় নয়। তাই বলে, বাইরে ভরপেট খাবেন না? তাও নয়। কিন্তু সকালের শুরুটা যদি একটু বুদ্ধি করে সামলে নেওয়া যায়, তবে মেটাবলিজম চাঙ্গা থাকবে, আর দুপুরে বা রাতে একটু আধটু বাড়তি তেল-মশলা ঢুকলেও শরীর বিদ্রোহ করবে না। ডায়েট আর স্বাদের এমন এক আশ্চর্য মেলবন্ধনে সাজিয়ে নেওয়া যাক পুজোর চার সকালের চারটে চটজলদি ব্রেকফাস্ট।

সপ্তমী: রাগির মশলা চিলা আর পুদিনা চাটনি

সপ্তমীর সকালে চেনা বেসন বা ময়দার ঘেরাটোপ ছেড়ে একটু অন্য রাস্তায় হাঁটুন। ময়দা বাদ দিয়ে হাত বাড়ান রাগির দিকে। রাগির ফাইবার পেটে অনেকক্ষণ থাকে, রক্তে সুগার চট করে বাড়তে দেয় না।

কীভাবে বানাবেন?

এক কাপ রাগি বা মারুয়ার আটার সঙ্গে আধ কাপ দই, সামান্য জল, মিহি করে কুচোনো পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কা আর ধনেপাতা মিশিয়ে একটা ঘন ব্যাটার বানিয়ে ফেলুন। স্বাদমতো নুন আর জিরে গুঁড়ো দিন। তাওয়ায় সামান্য একটু অলিভ অয়েল বা দেশি ঘি ব্রাশ করে ডাবু হাতা দিয়ে গোল করে ছড়িয়ে দিন। এপিঠ-ওপিঠ সেঁকলেই মুচমুচে, লালচে মশলা চিলা তৈরি। সঙ্গে টকদই, পুদিনা আর কাঁচালঙ্কার শিলনোড়ায় বাটা চাটনি। পেটও শান্ত, জিভও তৃপ্ত।

অষ্টমী: ওটস-সুজির ভেজিটেবল ইডলি

অষ্টমীর সকাল মানেই নিরামিষের দিন। অনেকেই এদিন সকালে অঞ্জলি দিতে যান, পেট খালি থাকে অনেকক্ষণ। তাই এমন কিছু খাওয়া দরকার যা সহজে হজম হয়, অথচ বুক জ্বালা করবে না।

কীভাবে বানাবেন?

আরও পড়ুন
ছানা কাটানোই ছিল ‘পাপ’! বাঙালির মিষ্টি-বিপ্লবের অজানা গপ্পো
একঘেয়ে দার্জিলিং? সস্তায় পাহাড় ঘুরুন এই ৫ রুটে!
 চিনির দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে কি তবে ইথানল নীতি?

মিক্সিতে এক কাপ ওটস হালকা গুঁড়ো করে নিন। তার সঙ্গে আধ কাপ সুজি আর আধ কাপ টকদই মেশান। ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন গ্রেট করা গাজর, ক্যাপসিকাম আর সামান্য আদা কুচি। অল্প জল দিয়ে ইডলির মিশ্রণ তৈরি করে দশ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর সামান্য ইনো বা বেকিং সোডা মিশিয়ে ইডলি স্ট্যান্ডে তেল ব্রাশ করে ভাপে বসিয়ে দিন আট থেকে দশ মিনিটের জন্য। গরম ধোঁয়া ওঠা নরম ইডলি আর পাশে শুকনো নারকেল-ধনেপাতার চাটনি। পেট ঠান্ডা রেখে দীর্ঘ অঞ্জলির লাইনে দাঁড়ানোর সেরা এনার্জি।

নবমী: ডিম-পালংয়ের রোস্টেড টোস্ট

নবমীর দুপুর আর রাত মানেই মাংসের ঢালাও উৎসব। তাই সকালটা হওয়া চাই একদম নির্ভেজাল প্রোটিন ও ফাইবারে ঠাসা, যাতে অপ্রয়োজনীয় চর্বি গায়ে না বসে।

কীভাবে বানাবেন?

কড়াইতে এক চামচ মাখন বা অলিভ অয়েলে কয়েক কোয়া রসুন আর একমুঠো কুচোনো পালং শাক হালকা সতে করে নিন। ওপর থেকে সামান্য গোলমরিচ আর বিটনুন ছড়ান। দুটো ডিম পোচ কিংবা অল্প দুধে ফেটিয়ে স্ক্র্যাম্বলড করে নিন। এবার একটা ব্রাউন ব্রেড বা মাল্টিগ্রেন টোস্টের ওপর সেই রসুন-পালংয়ের স্তর বিছিয়ে তার ওপর বসিয়ে দিন ডিমের পোচ। সামান্য চিলি ফ্লেক্স ছড়িয়ে দিন। পুরো ব্যাপারটা বানাতে সময় লাগে বড়জোর সাত মিনিট। প্রোটিনে ভরপুর এই ব্রেকফাস্ট সারা দিন অপ্রয়োজনীয় খাই-খাই ভাব থেকে আপনাকে দূরে রাখবে।

দশমী: চিঁড়ের ঝাল ওটমিল বা ওটস পোহা

দশমীর সকাল মানেই মনে একটা হালকা বিষাদের সুর। সেই আলসেমিতে হেঁশেলে বেশি সময় কাটাতে কার ভালো লাগে? ভারী চিঁড়ের পোহার বদলে বানিয়ে ফেলুন হালকা ওটস পোহা।

কীভাবে বানাবেন?

ওটসগুলোকে সামান্য জল ছিটিয়ে একটু নরম করে রাখুন। কড়াইতে নামমাত্র তেলে সর্ষে, কারিপাতা আর শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। একটু বাদাম আর পেঁয়াজ ভাজুন। ইচ্ছে হলে মটরশুঁটি বা বিনস দিতে পারেন। এবার ওটসটা কড়াইতে ঢেলে হলুদ, নুন আর লেবুর রস মিশিয়ে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন। নামানোর আগে ওপর থেকে একটু ধনেপাতা কুচি।

ব্যাস, শিখে নিলেন তো? মুখরোচক চটজলদি এই ব্রেকফাস্টে শরীরের পাশাপাশি মনও দিনভর চাঙ্গা থাকবে। ফুরফুরে সকাল মানেই ফুরফুরে দিনভর। যতই হোক, রসনার তৃপ্তি তো চাইই, মুখে ভাল লাগবে না এমন খাবার খেয়ে ডায়েট নয়। আবার উৎসবের নামে শরীরটাকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলারও প্রয়োজন নেই। থাকুক ব্যালান্স ব্রেকফাস্টে। সকালের পাতে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে নিলেই ভুঁড়ির ভয় ভুলে উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত চুটিয়ে উপভোগ করা যাবে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য