central-force-wbae2026
২৮শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: ভোট মানেই কড়া নিরাপত্তা—এ নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের কলকাতা যেন সেই চেনা ছবিকেও ছাপিয়ে গেল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এতটা সক্রিয়, এতটা সূক্ষ্ম নজরদারির ছবি দেখছে শহর। শুধু বড় রাস্তা নয়, এবার নির্বাচন কমিশনের কড়া নজর পৌঁছে গিয়েছে কলকাতার অলিগলিতেও।
ইতিমধ্যেই শহরের রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি ‘মার্কসম্যান’। মোড়ে মোড়ে স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম, শহরজুড়ে ঘুরছে ফ্লাইং স্কোয়াড। তবুও আশ্বস্ত নয় কমিশন। কেন্দ্রের নথিতে কলকাতা ‘নিরাপদতম’ শহর হলেও ভোটের প্রেক্ষিতে ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা।
তাই এবার নতুন পদক্ষেপ—শহরের ৭০০টি গলিকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বসানো হচ্ছে হাজারের বেশি অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

উত্তর কলকাতায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২৫০টি গলি চিহ্নিত হয়েছে। এন্টালি, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া—এই এলাকাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ‘সংবেদনশীল’ গলি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে ৩০০-রও বেশি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, উত্তর কলকাতার প্রায় ৭৩ শতাংশ বুথকেই ইতিমধ্যে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ ঘোষণা করেছে কমিশন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ছবিটা আরও চমকপ্রদ। ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ ও কলকাতা বন্দর—এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ১০০ শতাংশ বুথকেই ‘অতি-স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪৫০টি গলিকে ধরা হয়েছে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ তালিকায়। সেখানে বসানো হবে ৬৫০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা গলিগুলিতে থাকবে নজরদারি। কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকেই চলবে সরাসরি পর্যবেক্ষণ। কোথাও অবৈধ জমায়েত, রাজনৈতিক পতাকা বা সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানাকে সতর্ক করা হবে।
সব মিলিয়ে এবারের ভোটে কলকাতা যেন এক বিশাল ‘নজরবন্দি’ শহর। নিরাপত্তার এই বহুমাত্রিক বলয় কি নিশ্চিত করবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভোট? নাকি এত কড়াকড়ির মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে অশান্তির আশঙ্কা—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরবাসীর মনে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।