arrest-centralforce-bengal
২৮শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদানের নজির—এবার কি সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে দ্বিতীয় দফা? এই প্রশ্ন ঘিরেই বুধবারের ভোটকে সামনে রেখে তুঙ্গে কৌতূহল। খুচরো অশান্তি ছাড়া প্রথম দফা মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও, দ্বিতীয় দফার আগে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি প্রশাসনের কড়া প্রস্তুতি স্পষ্ট।
দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ, যার বড় অংশই শহরাঞ্চল। প্রথম দফায় গ্রামবাংলায় ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু শহরে সেই সাড়া কতটা মিলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে নজর থাকছে—প্রথম দফার মতোই কি অশান্তিমুক্ত থাকবে দ্বিতীয় দফাও?
নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই জোর। সেই লক্ষ্যে জেলায় জেলায় কড়া নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ, পুলিশের টহল ও তল্লাশি—সব মিলিয়ে নজরদারির বলয় কার্যত অটুট।
কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬০ ঘণ্টায় ভোটমুখী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২,৪৭৩ জনকে। অর্থাৎ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪১ জন। শুধু সোমবার রাতেই ধরা পড়েছেন ৮০৯ জন। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। যদিও কোথায় কী অভিযোগে এই গ্রেফতারি—তা স্পষ্ট করেনি কমিশন। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য গোলমালকারীদের আগাম চিহ্নিত করেই এই ধরপাকড়। এর আগেও, প্রথম দফার আগে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ১,০৯৫ জনকে। ফলে দ্বিতীয় দফার আগে কড়াকড়ি যে আরও বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
এরই মাঝে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জমায়েত, বিক্ষোভ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত কোনও রিপোর্ট চাওয়া হচ্ছে না। তবে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা রিপোর্ট দিলে তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হবে।
সিইওর কড়া বার্তা—ভোটারদের ভয় দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ হুমকি দিলে অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। কমিশনের কন্ট্রোল রুমে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে ‘ওয়াচ লিস্ট’ তৈরি করে পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

ফলতায় পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত না করার সতর্কবার্তা দেন উত্তরপ্রদেশের ওই পুলিশ আধিকারিক। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া। পরের দিন তাঁর কনভয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভও দেখান তৃণমূল কর্মীরা।
ঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ভোটের দিন পর্যন্ত কোনও হস্তক্ষেপ নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তাদের অভিযোগ, একাংশ পর্যবেক্ষক এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। যদিও সিইওর সাফ বক্তব্য—অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে।
প্রথম দফায় ভয় দেখানোর শতাধিক অভিযোগ পেয়েছিল কমিশন। কুমারগঞ্জে প্রার্থীকে মারধরের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দ্বিতীয় দফায় আরও সতর্ক প্রশাসন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ জমায়েত বা ভয় দেখানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভোটারদের জন্য চালু হয়েছে টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০৩৪৫০০৮। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকেও হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটের দিন সরাসরি অভিযোগ জানানো যায়।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার আগে বার্তা স্পষ্ট—কড়া নজরদারি, দ্রুত পদক্ষেপ এবং ‘জিরো টলারেন্স’। এখন দেখার, এই আবহে শহর কি ছাপিয়ে যেতে পারে প্রথম দফার ৯৩ শতাংশের রেকর্ড, নাকি ভোটের সমীকরণ বদলে দেবে শহুরে বাস্তবতা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।