শচীনের স্কুলেও উৎসব
শচীন তেন্ডুলকরের জন্মদিন এখনও মহা সমারোহে পালন করা হয় মুম্বইয়ের বান্দ্রার সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরে। এই স্কুলেই মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছিলেন তিনি। একবার এই স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেইসময় শচীন ঘরের মাঠে বিদায়ী টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবেন। ম্যাচের আগেরদিন ওই স্কুলে গিয়ে তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম। দেখে এসেছিলাম এক প্রাক্তন ছাত্রকে নিয়ে কী পরিমাণ আবেগ রয়েছে তাঁর শিক্ষক শিক্ষিকাদের। এমনকী শচীনের ছাত্র জীবনের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে একটা আস্ত স্কুল ঘরকে সংরক্ষিত করে রাখা আছে। ওই ঘরে শচীনের ছাত্রাবস্থায় তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে একটি শচীনের ছাত্র জীবনের তৈলচিত্র। শুক্রবার শচীনের ৫৩ তম জন্মদিনেও সারদাশ্রম বিদ্যামন্দির প্রাঙ্গনে উৎসবের আবহ। এমনকী স্কুলের টিফিন পিরিয়ডের সময় স্যার – ম্যাডামরা কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছেন।
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান
শচীন নিজে খেলা ছাড়ার পরে সেবামুলক কাজে বেশি নিয়োজিত আছেন। তাঁর আপনালয়া নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে। সেই সংগঠনে মোট ২০০ অনাথ শিশুদের দেখভাল করেন তিনি। এর দায়িত্বে রয়েছেন শচীনের শাশুড়ি অ্যানাবেল মেহতা। শচীন এই বিশেষ দিনে ওই শিশুদের সঙ্গে দেখা করে তাদের নানা উপহার তুলে দেন। শচীনের সঙ্গে তাঁর গোটা পরিবার সেই সংস্থায় হাজির থাকেন।
শচীনের দুর্লভ রেকর্ড
শচীন ক্রিকেটে এমনকিছু নজির স্থাপন করেছেন, যেগুলো কারও পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়। যেমন ক্রিকেটে ১০০ টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। শচীন টেস্টে ৫১ এবং ওয়ান ডেতে ৪৯ টি সেঞ্চুরি করেছেন। বিরাট কোহলির সব মিলিয়ে হয়েছে ৮৫ টি সেঞ্চুরি। বাকিরা অনেক পিছনে। শচীন মোট ২০০ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এই রেকর্ড কারও নেই। আর হবেও না আগামী দিনে। শচীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৩৪৩৫৭ রান করেছেন। এত বিশাল রানের ধারেকাছে কেউ নেই। শচীন মোট ছয়টি ওয়ান ডে বিশ্বকাপ খেলেছেন। এমন নজির বিশ্বে আর কোনও ক্রিকেটারের নেই। ১৯৯২ থেকে ২০১১ সাল, যেবার তিনি ভারতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করলেন। শচীনের এক ক্যালেন্ডার বর্ষে মোট রানও বাকিদের কাছে বিস্ময়ের উপাদান। ১৯৯৮-৯৯ মরশুমে তিনি ৩৩ ইনিংসে ১৮৯৪ রান করে চমক দেখান।
তিনি সত্যিকারের কোহিনুর
শচীনের মতো ক্রিকেটার এই গোলার্ধের কাছে বিস্ময়। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট কেন সারা বিশ্বের কোহিনুর। তিনি এমন একজন চরিত্র, যিনি মাঠের বাইরে অতি সাধারণ জীবন যাপন করেন। তাঁকে নিয়ে কোনোদিন কোনও বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। তিনি শুধু ভারতরত্ন নয়, তিনি সমাজের বুকে সত্যিকারের আইডল।


