৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

শচীন ৫৩, এখনও এক বিস্ময়ের নাম মাস্টার ব্লাস্টার, কেন তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে

শচীনের স্কুলেও উৎসব

শচীন তেন্ডুলকরের জন্মদিন এখনও মহা সমারোহে পালন করা হয় মুম্বইয়ের বান্দ্রার সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরে। এই স্কুলেই মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছিলেন তিনি। একবার এই স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেইসময় শচীন ঘরের মাঠে বিদায়ী টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবেন। ম্যাচের আগেরদিন ওই স্কুলে গিয়ে তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম। দেখে এসেছিলাম এক প্রাক্তন ছাত্রকে নিয়ে কী পরিমাণ আবেগ রয়েছে তাঁর শিক্ষক শিক্ষিকাদের। এমনকী শচীনের ছাত্র জীবনের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে একটা আস্ত স্কুল ঘরকে সংরক্ষিত করে রাখা আছে। ওই ঘরে শচীনের ছাত্রাবস্থায় তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে একটি শচীনের ছাত্র জীবনের তৈলচিত্র। শুক্রবার শচীনের ৫৩ তম জন্মদিনেও সারদাশ্রম বিদ্যামন্দির প্রাঙ্গনে উৎসবের আবহ। এমনকী স্কুলের টিফিন পিরিয়ডের সময় স্যার – ম্যাডামরা কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছেন।

শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান

শচীন নিজে খেলা ছাড়ার পরে সেবামুলক কাজে বেশি নিয়োজিত আছেন। তাঁর আপনালয়া নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে। সেই সংগঠনে মোট ২০০ অনাথ শিশুদের দেখভাল করেন তিনি। এর দায়িত্বে রয়েছেন শচীনের শাশুড়ি অ্যানাবেল মেহতা। শচীন এই বিশেষ দিনে ওই শিশুদের সঙ্গে দেখা করে তাদের নানা উপহার তুলে দেন। শচীনের সঙ্গে তাঁর গোটা পরিবার সেই সংস্থায় হাজির থাকেন।

শচীনের দুর্লভ রেকর্ড

শচীন ক্রিকেটে এমনকিছু নজির স্থাপন করেছেন, যেগুলো কারও পক্ষে ভাঙা সম্ভব নয়। যেমন ক্রিকেটে ১০০ টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। শচীন টেস্টে ৫১ এবং ওয়ান ডেতে ৪৯ টি সেঞ্চুরি করেছেন। বিরাট কোহলির সব মিলিয়ে হয়েছে ৮৫ টি সেঞ্চুরি। বাকিরা অনেক পিছনে। শচীন মোট ২০০ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এই রেকর্ড কারও নেই। আর হবেও না আগামী দিনে। শচীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৩৪৩৫৭ রান করেছেন। এত বিশাল রানের ধারেকাছে কেউ নেই। শচীন মোট ছয়টি ওয়ান ডে বিশ্বকাপ খেলেছেন। এমন নজির বিশ্বে আর কোনও ক্রিকেটারের নেই। ১৯৯২ থেকে ২০১১ সাল, যেবার তিনি ভারতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করলেন। শচীনের এক ক্যালেন্ডার বর্ষে মোট রানও বাকিদের কাছে বিস্ময়ের উপাদান। ১৯৯৮-৯৯ মরশুমে তিনি ৩৩ ইনিংসে ১৮৯৪ রান করে চমক দেখান।

তিনি সত্যিকারের কোহিনুর

শচীনের মতো ক্রিকেটার এই গোলার্ধের কাছে বিস্ময়। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট কেন সারা বিশ্বের কোহিনুর। তিনি এমন একজন চরিত্র, যিনি মাঠের বাইরে অতি সাধারণ জীবন যাপন করেন। তাঁকে নিয়ে কোনোদিন কোনও বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। তিনি শুধু ভারতরত্ন নয়, তিনি সমাজের বুকে সত্যিকারের আইডল।

মহাকাশে হঠাৎই ‘মেজাজ’ বিগড়ে গেল সূর্যের! শক্তিশালী সোলার ফ্লেয়ারের ঝাপটায় স্তব্ধ পৃথিবীর রেডিও যোগাযোগ

মহাকাশ থেকে ধেয়ে এল এক অদৃশ্য ঝড়। হঠাৎই সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে নির্গত হল প্রচণ্ড শক্তিশালী এক শক্তির ঝলকানি, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘X-class solar flare’। আর এই সৌর শিখার প্রভাবে পৃথিবীর আলোকিত অংশে (যেখানে যেখানে তখন দিন ছিল) শর্টওয়েভ রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে অকেজো হয়ে পড়ে।

কী ঘটেছিল আজ?

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সূর্য আজ যেন কিছুটা ‘খামখেয়ালি’ আচরণ করেছে। সূর্যের দাগ বা সানস্পট (Sunspot) থেকে হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic radiation) মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। আলোর গতিতে ধেয়ে আসা এই বিকিরণ মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানে। এর ফলে পৃথিবীর ওপরের স্তরে থাকা আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere) মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।

কেন স্তব্ধ হল রেডিও সিগন্যাল?

আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার উঁচুতে ‘আয়নোস্ফিয়ার’ নামক একটি স্তর থাকে। সাধারণত বিমান চালক, নৌযান এবং হ্যাম রেডিও অপারেটররা এই স্তরের সাহায্যেই সিগন্যাল আদান-প্রদান করেন। সিগন্যালগুলো এই স্তরে ধাক্কা খেয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।

কিন্তু আজকের এই শক্তিশালী সৌর শিখার ফলে আয়নোস্ফিয়ারের নীচের স্তর বা ‘D-layer’ মাত্রাতিরিক্ত চার্জ হয়ে যায়। ফলে রেডিও তরঙ্গ সেখানে প্রতিফলিত হওয়ার বদলে শোষিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা একেই ‘রেডিও ব্ল্যাকআউট’ বলছেন। ফলে পাইলট ও নাবিকদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

সাধারণ মানুষের কি চিন্তার কারণ আছে?

বিজ্ঞানীদের মতে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই ব্ল্যাকআউট সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে বড়জোর এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। তবে এই ধরণের শক্তিশালী শিখার সাথে অনেক সময় ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ বা বিশাল প্লাজমার মেঘ নির্গত (CME) হয়। যদি তেমন কোনো মেঘ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় (Geomagnetic storm) হতে পারে। যা জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।

X-class শিখা আসলে কী?

সৌর শিখাকে তাদের শক্তির ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: A, B, C, M এবং X। এদের মধ্যে X-শ্রেণি হল সবথেকে শক্তিশালী। প্রতিটি শ্রেণি তার আগেরটির তুলনায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ আজকের এই ‘X’ শ্রেণির বিস্ফোরণটি ছিল সূর্যের সবথেকে ভয়াবহ রূপের একটি ঝলক।

আপাতত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। শর্টওয়েভ রেডিওতে বিঘ্ন ঘটলেও ইন্টারনেটের ওপর এর কোনো সরাসরি প্রভাব পড়েনি বলেই জানানো হয়েছে।

কমলা বাসিন: প্রতিবাদের কণ্ঠ, পরিবর্তনের কবিতা

আজ জন্মদিন

“আমি নারী, তাই আমি সম্মানের যোগ্য” – এই উচ্চারণ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি এক বিপ্লবের সূচনা। আর সেই বিপ্লবের যিনি মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি হলেন – কমলা বাসিন।

ভারতের নারীবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে কমলা বাসিন এমন এক নাম, যাঁর কাজ ও চিন্তা সীমান্ত পেরিয়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে নাড়া দিয়েছে। নিজেকে তিনি ‘মধ্যরাত্রি প্রজন্ম’ বলে উল্লেখ করতেন। আসলে ভারত ভাগের সময়ে যাদের জন্ম তাঁরা নিজেদের প্রজন্মকে এইভাবেই অভিহিত করেন। ১৯৪৬ সালের ২৪শে এপ্রিল রাজস্থানে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই প্রখর মননশীল নারী তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন লিঙ্গসমতা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।

মাটি থেকে উঠে আসা এক কণ্ঠস্বর

বাসিন রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি গ্রহনের পর ফেলোশিপ নিয়ে পশ্চিম জার্মানির ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘উন্নয়নে সমাজবিজ্ঞান’ নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। উচ্চশিক্ষা লাভের পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইউনাইটেড নেশন-এর বিভিন্ন প্রকল্পে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অংশে নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের কাজে অংশগ্রহণ করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ধর্ষণ ও যৌন হিংসার বিরুদ্ধে পৃথিবীব্যাপী তৈরি হওয়া – ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইসিং’ ক্যাম্পেইনের দক্ষিণ এশিয়ার দ্বায়িত্বভার সামলেছেন বাসিন। তবে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে উন্নয়ন কিংবা প্রতিবাদ নয়, তিনি বিশ্বাস করতেন বাস্তব পরিবর্তন আসে মানুষের চিন্তার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।

সহজ ভাষায় জটিল তত্ত্ব

নারীবাদকে একাডেমিক গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের জীবনে নিয়ে এসেছিলেন কমলা। তাঁর কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয় – “কিঁউকি ম্যায়  লড়কি হুঁ, মুঝে পঢ়না হ্যায়’ -এর মতো কবিতা। ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা “What is Patriarchy?”, “Understanding Gender” কিংবা “Exploring Masculinity” এবং হিন্দি ভাষায় বিন্দিয়া থাপার-এর সাথে যৌথ ভাবে লেখা – “হসনা তো সংঘর্ষকে দিন মে ভি জরুরী হ্যায়”  -এর মতো বইগুলোতে তিনি পিতৃতন্ত্র ও লিঙ্গবৈষম্যের মতো জটিল বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছেন অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্ত ভাষায়। ফলে তাঁর লেখা যেমন তথ্যসমৃদ্ধ, তেমনই পাঠকের জন্য হয়ে উঠেছে সহজবোধ্য। তাঁর লেখা – “Borders & Boundaries: Women in India’s Partition’ -এর মতো বইয়ে উঠে এসেছে দেশভাগ, জাতিপ্রথা, ব্রাহ্মণ্যবাদ, নারী বৈষম্য –  কীভাবে প্রতীয়মান এবং দেশের রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থায় এইগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। পাশাপাশি কমলা বাসিন শিশুদের জন্য ’লাল পরী’, ‘ধমক ধম’ -এর মতো মজার ছড়া ও কবিতার বই রচনা করেছেন, যেখানে তারা একেবারে সাবলীল ভাষায় লিঙ্গ, নারীবাদ এবং পিতৃতন্ত্র সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।

সংগঠন, সংহতি ও সংগ্রাম

কমলা বাসিন ছিলেন একজন অসাধারণ সংগঠক। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘সঙ্গত’ দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী আন্দোলনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নারী অধিকারকর্মীরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা নারী স্বাধীনতার এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এরই সাথে রাজস্থানে ‘সেবা মন্দির’’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুবাদে ভারতভূমিতে জল, জঙ্গল, জমি, আদিবাসী অধিকার ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা – ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীবাদ কোনো একক দেশের বিষয় নয়; এটি এক আন্তঃসীমান্ত মানবাধিকার আন্দোলন আর যার সাথে গভীর ভাবে জড়িয়ে আছে একজন প্রান্তিক মানুষের জীবন, জীবিকা ও বেঁচে থাকার প্রশ্ন এবং স্বাধীন নাগরিক অধিকার। তবে  শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয় – গান, কবিতা ও নাটকের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনকে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসেন। তাঁর কণ্ঠে নারীবাদ হয়ে উঠত এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা। ফলে সাধারণ মানুষও সহজে এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পেরেছে।

কমলা বাসিন (Kamla Bhasin), গ্রাফিক্স – ছবি: Google, গ্রাফিক্স: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

স্বীকৃতি ও সম্মান

কমলা বাসিন কখনও পুরস্কারের জন্য কাজ করেননি, কিন্তু সমাজবিজ্ঞানে  তাঁর অসামান্য অবদান বিভিন্ন স্তরে স্বীকৃত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বহু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান তাঁকে নারী অধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্মানিত করেছে। তবে যেদিন অন্তত ভারতবর্ষে নারী তথা সাধারণ মানুষের সামাজিক ন্যায় ও সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে সেইদিন হয়তো আমরা তাঁকে প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করতে পারবো।

উত্তরাধিকার 

তিনি বিশ্বাস করতেন-পুঁজিবাদী ও পশ্চিমী পরিসর নয় বরং এই ভারতবর্ষের শিকড়েই লুকিয়ে আছে মুক্তির গান। ২০২১ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর  তাঁর প্রয়াণ ঘটে, কিন্তু তাঁর চিন্তা ও আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আজকের সমাজে যখন লিঙ্গবৈষম্য ও সহিংসতা এখনও বিদ্যমান, তখন কমলা বাসিন আমাদের শিখিয়ে যান -পরিবর্তন শুরু হয় প্রশ্ন থেকে, আর সেই প্রশ্নই মুক্তির পথ দেখায়।

ভারতে কি ভোটদান বাধ্যতামূলক? প্রশ্ন, বিল ও বিতর্ক

ভোট না দিলে কি কোনও শাস্তি হয়? কেউ কি ভোট দেওয়ার জন্য জোর করতে পারেন? ভোটদানে বিরত থাকলে কি আইনি পরিচয়পত্র অবৈধ হয়ে যায়? প্রশ্নগুলো নতুন নয়, অসঙ্গতও নয়। মানুষের মনে মিশ্র ধারণা আছে এ নিয়ে। আসুন, উত্তর খুঁজে নেওয়া যাক।

বহু দেশে নাগরিকের ভোটদান বাধ্যতামূলক

ডব্লিউপিআর (World Population Review)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ২৭ টি দেশে ভোটদান বাধ্যতামূলক। এই তালিকায় ব্রাজিল, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, পেরু, তাইল্যান্ড, উত্তর কোরিয়া, ইজিপ্ট, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, গ্রিস, প্যারাগুয়ে, সিঙ্গাপুর, টার্কি, চিলি, বলিভিয়া প্রভৃতি দেশ মনে করে ভোট দেওয়া নাগরিকের ইচ্ছাধীন নয়। এমনকি, বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির বিধানও আছে ভোট না দিলে।

ভোটদান বাধ্যতামূলক নয় যেসব দেশে

বিশ্বের প্রায় ১৮০ টি দেশে ভোটদান নাগরিকের ইচ্ছার ওপর ছাড়া আছে। ভারতসহ যুক্ত্রারাষ্ট্র (US), যুক্তরাজ্য (UK), চিন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জাপান, রাশিয়া, নাইজেরিয়া, ইরান, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইতালি, কেনিয়া, মায়ানমার, কলম্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের অবস্থান, বিতর্ক ও বিল

দেখা যায়, গণতন্ত্রপ্রধান দেশে সাধারণভাবে ভোটদান নাগরিকের ইচ্ছাধীন। ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, পালটা প্রস্তাব এসেছে, বিতর্ক আছে এ নিয়ে।

২০১৯ ও ২০২২ সালে এ নিয়ে সংসদে প্রস্তাব ওঠে।

অগস্ট ৫, ২০২২

বিজেপি সাংসদ জনার্দন সিগ্রিওয়াল প্রস্তাবিত Compulsory Voting Bill, 2019-কে কেন্দ্র করে তিন বছর ধরে চলা আলোচনার জবাবে অগস্ট ৫, ২০২২-এ লোকসভা-তে কেন্দ্রীয় সরকার জানায় যে নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ভোটদান একটি “অবাস্তব ধারণা” এবং এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে, কারণ ভোটদান একটি অধিকার, বাধ্যতামূলক কর্তব্য নয়।

বাধ্যাতামূলক ভোটিং বিল, ২০২২

তৎকালীন আইন ও বিচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এস. পি. সিং বাঘেল আরও বলেন, বিলটিতে ভোটদান বাধ্যতামূলক করার জন্য যে প্রস্তাবগুলি দেওয়া হয়েছে—যেমন, যারা ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা তালিকায় ভোটাধিকারপ্রাপ্ত অথচ ভোট দেননি তাদের উপর ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ—সেগুলি শুধু অবাস্তবই নয়, বরং নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর কথায়, “…কোনো দিনমজুরকে ভোট না দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে বলা হলে তা অত্যন্ত অন্যায্য হবে। আবার, ভোট না দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হলে, প্রভাবশালী প্রার্থীরা সেটিকে নির্বাচনের পরে প্রতিশোধ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেভারতের আইন কমিশন-ও মনে করছে যে এই ধারণাকে উৎসাহিত করা উচিত নয়।” বাধ্যতামূলক ভোটদানের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের শাসন। ভোট না দেওয়ার জন্য জনগণকে শাস্তি দেওয়া যায় না।”

পরবর্তীকালে জনার্দন সিগ্রিওয়াল এস. পি. সিং বাঘেল-এর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি প্রত্যাহার করে নেন।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনো ভোটারকে শাস্তি দেওয়া বা “গ্রেফতার” করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভোটারের নিজস্ব অধিকারের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ, Compulsory Voting Bill (২০১৯, ২০২২)-এর মতো কিছু ব্যক্তিগত সদস্যের বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো আইন হিসেবে পাস হয়নি।

ভারতে ভোটদান একটি আইনগত অধিকার (statutory right), এটি মৌলিক কর্তব্য (duty) নয়।

আবহাওয়া আপডেট: আজ বিকেলে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

আংশিক মেঘলা আকাশ। বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে: ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ০.৯ ডিগ্রি বেশি।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হতে পারে: ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৪ ডিগ্রি বেশি।

বাতাসে সর্বাধিক আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৮৯%

বাতাসে সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৫৫%

গত চব্বিশ ঘন্টায় শহরে কোনও বৃষ্টিপাত হয়নি।

ভোটের সুনামিতে টালমাটাল বাংলা! ৯১.৩৫%, রেকর্ড ভাঙার দোরগোড়ায় প্রথম দফা

বিকেল ৫টা পর্যন্ত

দুপুর গড়াতেই স্পষ্ট ছিল ইঙ্গিত, বিকেলে তা পরিণত হল বিস্ময়ে। প্রথম দফার ভোটে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৮৯.৯৩ শতাংশ! এক ঘণ্টা বাকি থাকতেই ‘৯০ শতাংশ’-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা। কমিশনের অন্দরের হিসেব বলছে, এই গতিতে চললে বহু কেন্দ্রে ভোটের হার ৯৫ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলতে পারে— যা কার্যত নজিরবিহীন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যে প্রথম দফা ভোটে শতকরা হার ৯১.৩৫ শতাংশ৷

কেন্দ্রভিত্তিক পরিসংখ্যান

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ ৯৫.৩৪%

ভগবানগোলা ৯৫.৩১%

বহরমপুর ৮৯.৬০%

দক্ষিণ দিনাজপুর ৯৩.১২%

নন্দীগ্রাম ৯০.০৩%

কালিম্পঙ ৮১.৯৮%

সব মিলিয়ে একাধিক আসনে ভোট যেন ‘সর্বোচ্চ সীমা’ ছুঁতে চলেছে।
এই পরিসংখ্যান শুধু চমকপ্রদ নয়, ঐতিহাসিকও বটে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনগুলিতে গড় ভোটদানের হার ছিল ৮৩.২%, ২০২৪ সালের লোকসভায় তা নেমে এসেছিল প্রায় ৭৯.৮ শতাংশে। এ বার ভোট শেষ হওয়ার আগেই সেই সব রেকর্ড ভেঙে কার্যত নতুন মানদণ্ড গড়ে ফেলেছে বাংলা।
দেশের নিরিখেও ছবিটা তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির ছিল পুদুচেরির (৮৯.৯৩%), তার আগে অসমে (৮৫.৩৮%)। এ দিনের বিকেলের হিসেবেই সেই দুই রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলার প্রথম দফা। এখন প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত সর্বভারতীয় রেকর্ড কি ভাঙবে?
তবে এই ‘ভোট-বিস্ফোরণ’-এর ব্যাখ্যা কি শুধুই জনউৎসাহ? বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ’ (SIR)। মৃত, ডুপ্লিকেট বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রে ভোটার তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে। ফলে একই সংখ্যক ভোট পড়লেও শতাংশের হিসেব লাফিয়ে বাড়ছে।
অঙ্কটা সহজ— আগে ২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১.৬ লক্ষ ভোট পড়লে হার ৮০%। তালিকা সংশোধনের পর ভোটার কমে ১.৮ লক্ষ হলে, একই ভোটে হার দাঁড়ায় প্রায় ৯১%। অর্থাৎ, ভোটের শতাংশ বৃদ্ধির পেছনে ‘তালিকা সঙ্কোচন’-এর প্রভাবও যথেষ্ট।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মনস্তত্ত্ব। অনেক ভোটারের মধ্যে আশঙ্কা— ভোট না দিলে নাম তালিকা থেকে মুছে যেতে পারে। ফলে সকাল থেকেই বুথমুখী ভিড়, লম্বা লাইন, দ্রুত বাড়তে থাকা ভোটের হার— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ভোট-সুনামি’র আবহ।
ইতিহাস বলছে, বাংলায় সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে— ৮৪.৩৩ শতাংশ। সেই রেকর্ড এ বার ভাঙা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও এখন বড় প্রশ্ন— এই বিপুল ভোট কার পক্ষে যাবে?
প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ বলে, বেশি ভোট মানেই শাসকবিরোধী হাওয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনের ফল সেই ধারণায় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে বাংলার এই নজির গড়া ভোটের ফল কোন দিকে ঝুঁকবে, তার উত্তর আপাতত ইভিএমেই বন্দি। গণনার দিনই খুলবে সেই রহস্য।

বাইক-নিষেধাজ্ঞায় হাইকোর্টের ধমক, কমিশনকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ তকমা, হলফনামার নির্দেশ

ভোটের আগে বাইক চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করতেই কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তীব্র মন্তব্য করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। সাধারণ নাগরিককে এ ভাবে হেনস্থা করা যায় না।”

আদালতের পর্যবেক্ষণের জেরে কমিশনকে শুক্রবার হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন ভোটের দু’দিন আগে থেকে এই ধরনের কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হল। অতীতে বাইকবাহিনী ঘিরে অশান্তির যে নজির রয়েছে, তাও আদালতে তুলে ধরতে পারে কমিশন।

শুনানিতে বিচারপতির আরও কটাক্ষ, “এই যুক্তি মানলে গাড়িও বন্ধ করে দিন! তাতেও তো অস্ত্র নিয়ে গোলমাল হতে পারে।” তাঁর প্রশ্ন, গত পাঁচ বছরে ঠিক কত ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে— তার পরিসংখ্যান আদালতে পেশ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটের দু’দিন আগে থেকে বাইক মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাইক চালানো গেলেও পিলিয়ন রাইডার বহন করা যাবে না। ভোটের দিনও একই নিয়ম বহাল থাকবে— শুধুমাত্র ভোট দেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারের অনুমতি মিলবে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন বা শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। সামাজিক অনুষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও শিথিলতা রয়েছে। অ্যাপভিত্তিক বাইক পরিষেবাগুলিকেও এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এর বাইরে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় পেতে হলে স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী। সেই মামলার শুনানিতেই বৃহস্পতিবার কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। এখন নজর শুক্রবারের হলফনামায়, কমিশন কী যুক্তি দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

প্রথম চার ঘণ্টায় ৪১ শতাংশ! বিপুল এই ভোটদানের রহস্য কী, কার হাসি চওড়া হবে?

প্রথম দফার ভোট শুরু হতেই বাংলায় রেকর্ড ভোটদানের স্পষ্ট ইঙ্গিত । বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যেই গড় ভোট পড়ে ১৯ শতাংশ। মাত্র দু’ঘণ্টার ব্যবধানে সেই হার এক লাফে পৌঁছে যায় প্রায় ৪১ শতাংশে । নজরকাড়া পরিস্থিতি পশ্চিম মেদিনীপুরে, সেখানে গড় ভোটদানের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ৷

সকাল সকাল এমন ‘ভোট-জোয়ার’ ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার, সবার মধ্যেই কৌতূহল চরমে। অনেকেরই অনুমান, এ বার বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছুঁতে পারে।

কিন্তু এই হঠাৎ উল্লম্ফনের নেপথ্যে কি শুধুই ভোটারের উৎসাহ? নাকি রয়েছে অন্য কোনও ‘অঙ্ক’?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ছবির এক বড় অংশ লুকিয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ (SIR)-এ। এই প্রক্রিয়ায় মৃত, ডুপ্লিকেট বা অন্যত্র সরে যাওয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ায় একাধিক কেন্দ্রে ভোটার তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে। কোথাও ২০ হাজার, কোথাও আবার ৫০ হাজার পর্যন্ত নাম কাটা গিয়েছে। ফলে শতাংশের খেলাটা বদলে গিয়েছে আমূল।

ধরা যাক, কোনও কেন্দ্রে আগে ভোটার ছিল ২ লক্ষ। ভোট দিয়েছিলেন ১ লক্ষ ৬০ হাজার—অর্থাৎ ৮০ শতাংশ। এবার তালিকা সংশোধনের পর মোট ভোটার কমে দাঁড়াল ১ লক্ষ ৮০ হাজারে। একই ১ লক্ষ ৬০ হাজার ভোট পড়লেও শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৯১। অর্থাৎ, ভোটার সংখ্যা না বাড়লেও শুধুমাত্র তালিকা ‘ছোট’ হওয়ার কারণেই শতাংশ এক ধাক্কায় ১০-১১ পয়েন্ট বাড়তে পারে!

তবে শুধু অঙ্ক নয়, কাজ করছে মনস্তত্ত্বও
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিপুল হারে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় অনেক ভোটারের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভোট না দিলে হয়তো স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে নাম মুছে যেতে পারে। সেই ভীতিই অনেককে সকাল সকাল বুথমুখী করছে। ফলে লাইনে ভিড়, আর তাতেই দ্রুত বাড়ছে ভোটের হার।

প্রসঙ্গত, বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রথম দফায় ভোটদানের হার বেড়েছিল প্রায় ৮.৫ শতাংশ। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণে লাফ দেখা গিয়েছিল—প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি। বাংলায় যেখানে গড় ভোটদানের হার বরাবরই ৮০-৮২ শতাংশ, সেখানে এ বার সেই সীমা কতটা ছাড়াবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই বাড়তি ভোট কার ঘরে যাবে?

প্রচলিত রাজনৈতিক তত্ত্ব বলছে, বেশি ভোট পড়া মানেই শাসকবিরোধী হাওয়া। কিন্তু বিহারের ফল সেই ধারণাকে ধাক্কা দিয়েছে। সেখানে বাড়তি ভোট গিয়েছে শাসক জোটের দিকেই। ফলে বাংলায় ‘ভোট-সুনামি’ ঠিক কার পক্ষে যাবে, তার উত্তর আপাতত ইভিএমেই বন্দি। ফল মোদি না দিদি, কার মুখের হাসি চওড়া হল, তা জানা যাবে গণনার পরই !

ভোটের সকালে অন্য ছবি! প্রতিদ্বন্দ্বীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম বিজেপি প্রার্থীর

বাঁকুড়া, তালডাংরা: বাংলার ভোট মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ, শাসক-বিরোধীর সংঘাত, আর একে অপরকে নিশানা করে তীব্র বাক্যবাণ। সেই চেনা ছবির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রে ধরা পড়ল একেবারে অন্যরকম দৃশ্য, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সামনে এল সৌজন্যের রাজনীতি।
তালডাংরার তালদা বুথে ভোট দিতে এসে বিজেপি প্রার্থী সৌভিক পাত্র হঠাৎই এগিয়ে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহকে। বয়সে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনের মুহূর্তটি চোখে পড়তেই উপস্থিত ভোটার, কর্মী এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহল। উত্তপ্ত নির্বাচনী পরিবেশে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না বলেই অনেকেই তা মোবাইলবন্দি করেন।

ফাইল চিত্র।

সাধারণত ভোটের দিন প্রার্থীদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখাই রীতি। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, উত্তেজনা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি থাকে তীব্র। কিন্তু সেই পরিবেশেই সৌভিক পাত্রের এই আচরণ যেন মুহূর্তের জন্য বদলে দিল আবহ। রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক সংস্কারের এক আলাদা ছবি সামনে এল।
ঘটনার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী সৌভিক বলেন, “আমরা সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করা আমাদের সংস্কৃতি। সেই জায়গা থেকেই আমি প্রণাম করেছি।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক লড়াইকে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে চাইছেন।

তবে এই সৌজন্যের মধ্যেও কটাক্ষের সুর শোনা গেল তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহের কথায়। তিনি বলেন, “ছেলেটা ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো। কিন্তু ভুল দলে রয়েছে। ভবিষ্যতে ঠিক সিদ্ধান্ত নেবে আশা করি।” তাঁর এই মন্তব্যে যেমন স্নেহের ইঙ্গিত, তেমনই রাজনৈতিক খোঁচাও স্পষ্ট।

তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্র এ বারও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ইস্যু, উন্নয়ন, এবং দলীয় সংগঠনের শক্তি—সব মিলিয়ে এখানে লড়াই বেশ জমজমাট। দুই প্রার্থীই নিজের নিজের দলীয় কর্মীদের নিয়ে সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরে পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছিলেন। তার মাঝেই হঠাৎ এই সৌজন্যের মুহূর্ত যেন আলাদা মাত্রা যোগ করল দিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে যেখানে প্রতিনিয়ত সংঘাতের ছবি সামনে আসে, সেখানে এই ধরনের ঘটনা বিরল হলেও তা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়। গ্রামবাংলার সামাজিক কাঠামোয় এখনও বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করার সংস্কার প্রবল। সেই সংস্কৃতিরই প্রতিফলন ঘটেছে এই ঘটনায়।

ভোটের ময়দানে জয়-পরাজয় সময় বলবে। কিন্তু তালডাংরার এই সকাল মনে করিয়ে দিল—রাজনীতির কড়া লড়াইয়ের মধ্যেও মানবিকতা ও সৌজন্যের জায়গা এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং কখনও কখনও সেই মুহূর্তই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ছবি।

ভোটের লাইনে ‘রামলাল’! জিতুশোলে বুথের সামনে হাতি

ঝাড়গ্রাম: ভোট শুরু হতে না হতেই চমক! লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের মাঝখানে আচমকাই এসে হাজির এক ‘অতিথি’—একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি!

ঝাড়গ্রামের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনায় মুহূর্তেই ছড়ায় চাঞ্চল্য, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন ভোটারদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। তার মধ্যেই ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি কেন্দ্রেও চলছে ভোট। সকাল সকাল ভোট দিতে এসে এমন দৃশ্য দেখবেন, তা বোধহয় ভাবতেও পারেননি কেউ।

স্থানীয়দের কাছে ‘রামলাল’ নামে পরিচিত ওই হাতিটি হঠাৎই এসে দাঁড়ায় বুথের সামনে। তবে স্বভাব শান্ত—কাউকে আক্রমণ তো দূরের কথা, কৌতূহলী চোখে সামনের একটি পণ্যবাহী গাড়িতে খানিক উঁকি দিয়েই নিজের মতো এগিয়ে যায় সে। তবুও হাতির উপস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় লোধাশুলি রেঞ্জের বনদফতরের কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কোনও বাধা ছাড়াই শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এল জঙ্গলমহলে হাতির আনাগোনার চিরচেনা ছবি।

বনদফতরও প্রস্তুত—হাতির উপদ্রব মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে ১৫ জনের বিশেষ দল, সঙ্গে রয়েছে ‘ঐরাবত’ গাড়ি। পাশাপাশি জেলা জুড়ে নজরদারিতে রয়েছে ‘এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম’ এবং অভিজ্ঞ হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়ে গঠিত কুইক রেসপন্স টিম, যারা ২৪ ঘণ্টা তৎপর।

ভোটের দিনে ‘অতিথি’ রামলালের এমন অবতরণে চমক যেমন ছিল, তেমনই স্বস্তিও—কারণ, শেষ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিতেই শুরু হল গণতন্ত্রের উৎসব।