চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্ময় আবারও নজির গড়ল শহর কলকাতায়। এক জটিল ও বিরল অস্ত্রোপচারে রোগীর ফুসফুস ‘ধুয়ে’ বাঁচানো হল তাঁর প্রাণ—ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ১১ লিটার স্যালাইন!
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের ৩৪ বছরের এক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও শুকনো কাশিতে ভুগছিলেন। অবশেষে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয় NRS Medical College and Hospital এ পৌঁছনোর সময় তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন নেমে গিয়েছিল মাত্র ৮০ শতাংশে—যা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।
পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তিনি আক্রান্ত এক বিরল রোগে—পালমোনারি অ্যালভিওলার প্রোটিনোসিস (Pulmonary Alveolar Proteinosis)। এই রোগে ফুসফুসের বায়ুথলিতে অস্বাভাবিক প্রোটিনজাত পদার্থ জমে গিয়ে অক্সিজেন আদানপ্রদান প্রায় বন্ধ করে দেয়।
ওষুধে বিশেষ ফল না মিলায় চিকিৎসকেরা ভরসা রাখেন এক বিশেষ পদ্ধতিতে—Whole Lung Lavage। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে ফুসফুসে স্যালাইন ঢুকিয়ে জমে থাকা পদার্থ ধুয়ে বের করা হয়, অন্যদিকে অন্য ফুসফুস দিয়ে রোগীকে শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়।
চিকিৎসকদের কথায়, অপারেশন চলাকালীন ধাপে ধাপে প্রায় ১১ লিটার উষ্ণ স্যালাইন ব্যবহার করে ফুসফুস পরিষ্কার করা হয়। বহু বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে এই জটিল প্রক্রিয়া।
অবশেষে মিলেছে সাফল্য। অস্ত্রোপচারের পর এখন রোগী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন, এমনকি অক্সিজেন সাপোর্টও আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
চিকিৎসক মহলের মতে, এই ধরনের ‘লাং ওয়াশ’ পদ্ধতি বিরল হলেও সঠিক সময়ে প্রয়োগ করলে প্রাণ বাঁচাতে পারে—এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।
বলিউডে সাফল্যের গল্প সাধারণত আলো, গ্ল্যামার আর তারকাখ্যাতির ভাষায় লেখা হয়। কিন্তু সেই চেনা ব্যাকরণ ভেঙে এক নতুন অভিধান তৈরি করেছেন যিনি তাঁর নাম মনোজ বাজপেয়ী (Manoj Bajpayee) – যেখানে অভিনয় কোনো কৃত্রিমতা নয়, বরং গভীর মানবিক সত্যের অনুসন্ধান। তিনি সেই অভিনেতা, যিনি নিজেকে নয়, চরিত্রকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর অভিনয় অযথা চমক সৃষ্টি করে না, বরং ধীরে ধীরে আমাদের গ্রাস করে। আজ তাঁর ৫৭-তম জন্মদিন।
বড় হওয়া
২৩ এপ্রিল ১৯৬৯ সালে বিহারের চম্পারণ জেলার বেলওয়া গ্রামের মাটির গন্ধ নিয়ে বড় হওয়া মনোজের যাত্রা শুরু হয় কঠিন বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করে। কৃষিজীবী বাবা ও গৃহবধূ মায়ের পরিবারে নিজের বাকি চার ভাইবোনের সাথে চরম দারিদ্রের মধ্যে কাটে কৈশোর। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নকে মনের মণিকোঠায় রেখে মনোজ পাড়ি জমান দিল্লিতে। অভিনয় শেখার প্রবল তাগিদে দিল্লির রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়ে পরপর তিনবার আবেদন সত্ত্বেও তিনি বিফল হন। মানসিক ভাবে কিছুদিন ভেঙে পড়লেও রঘুবীর যাদবের পরামর্শে তিনি নাট্য পরিচালক তথা প্রশিক্ষক ব্যারি জনের কর্মশালায় অংশ নেন। ব্যারি তাঁর অভিনয় দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের অভিনয় সহকারি হিসেবে নিয়োগ করেন আর দিল্লির থিয়েটার-ই হয়ে ওঠে তাঁর অভিনয়ের প্রথম স্কুল। কথিত আছে – নাছোড় মনোজ চতুর্থবারের জন্য রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করলে তারা তাকে শিক্ষার্থী হিসেবে গ্রহণের পরিবর্তে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। আসলে কোনো প্রত্যাখ্যানই তাঁকে ভেঙে ফেলতে পারেনি বরং তৈরি করেছে এক জেদি শিল্পী, যিনি পরবর্তীকালে তাঁর কাজের মধ্যে দিয়ে ইতিহাস রচনা করবেন এবং জনমানসের কাছে প্রমানিত হবে – প্রস্তুতি, অধ্যাবসায় ও আত্মবিশ্বাসই সাফল্যের একমাত্র রাস্তা।
পেশাদার অভিনয় জীবন
থিয়েটারের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দায় ‘সিকস্ত’ এবং ‘কলাকার’ ধারাবাহিকে অভিনয় শুরু করেন। অন্যধারার হিন্দি চলচ্চিত্রকার গোবিন্দ নিহালিনির ‘দ্রোহকাল’ (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে এক মিনিটের একটি চরিত্রে অভিনইয়ের মধ্যে দিয়ে মনোজ বড়পর্দায় পা রাখেন। দূরদর্শনে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘স্বভিমান’ (১৯৯৫) গৃহস্থ দর্শকদের কাছে তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তীকালে ‘ব্যান্ডিট কুইন’, ‘তমন্না’, ‘দাউদ’ -এর মতো বেশ কিছু হিন্দি চলচ্চিত্রে ছোট খাটো চরিত্রে কাজ করলেও সৌরভ শুক্লা ও অনুরাগ কাশ্যপ রচিত এবং রাম গোপাল বর্মা পরিচালিত ‘সত্যা’ (১৯৯৮) -তে ‘ভিকু মাতরে’ চরিত্র তাঁকে রাতারাতি ভারত জোড়া খ্যাতি এনে দেয়। শুধুমাত্র তাইই নয়, এই ছবিটি ভারতীয় সিনেমার ভাষা বদলে দেয় এবং মনোজ জাতীয় পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার সম্মানে ভূষিত হন।
পরবর্তী সময়ে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলির মধ্যের বাস্তবতা এবং বহুমাত্রিকতা দর্শককের মনে সোজাসুজি অভিঘাত সৃষ্টি করে এবং নিয়ে যায় গভীর মননশীল সংলাপে, তা সে মূলধারার কাজ হোক কিংবা স্বাধীন চলচ্চিত্র অথবা ওয়েব সিরিজ।
মনোজ বাজপায়ী। ছবি: Instagram, গ্রাফিক্স: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস
‘শূল’– এ এক সৎ পুলিশ অফিসারের রুক্ষ আপসহীন বাস্তবতা, ‘পিঞ্জর’ – এ দেশভাগের বেদনা, ‘রাজনীতি’– তে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’- এ ‘সর্দার খান’ -এর জটিল, নির্মম, ভয়ংকর রুক্ষ অথচ মানবিক রূপ, ‘অস্ক’এ মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, ‘রোড’-এর অন্ধকার চরিত্র, ‘আলীগড়’-এ অধ্যাপক সিরাসের নিঃসঙ্গতা, ‘ভোঁসলে ‘-র নীরবতা, ‘গলি গুলিয়াঁ’- এর অসহায়তা, ‘ফ্যামিলি ম্যান’-এর অতি সাধারণের জীবনযাপনের সাথে দেশের কর্তব্যপালন – সমস্ত ক্ষেত্রেই তিনি স্বমহিমায় বিরাজমান। দর্শকের কাছে তিনি কোনো স্টার কিংবা অভিনেতা নন, একজন আস্ত জ্বলজ্যান্ত মানুষ। মনোজ কেবল একটি চরিত্রের অভিনেতা নন, বরং অভিনয়ের স্বয়ং পরীক্ষাগার।
পুরস্কার
শিল্পক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় – সাফল্য কোনো শর্টকাট নয়, এটি ধৈর্য, ব্যর্থতা আর বিশ্বাসের সমষ্টি আর সেই পথেই তৈরি হয় একজন সত্যিকারের শিল্পী।
আসলে, মনোজ বাজপেয়ী কোনো ক্ষণস্থায়ী আলো নন – তিনি এক দীর্ঘ প্রতিধ্বনি, যা সময় পেরিয়ে আরও গভীর হয়। যখন সব আলো নিভে যায়, গল্প শেষ হয় – তখনও কিছু অনুভূতি থেকে যায়, আর সেই অবশিষ্ট অনুভূতির নামই মনোজ বাজপেয়ী।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ— উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, দুই মেদিনীপুর থেকে পশ্চিম বর্ধমান— কার্যত গোটা রাজনীতির ‘মিনি ব্যাটলফিল্ড’ তৈরি হয়েছে এক দিনেই। কোথাও তৃণমূল বনাম বিজেপির সরাসরি সংঘর্ষ, কোথাও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি, আবার কোথাও বামেদের চুপিসারে উঠে আসার লড়াই— সব মিলিয়ে প্রথম দফাই নির্ধারণ করে দিতে পারে নির্বাচনের রূপরেখা।
নন্দীগ্রাম: আবারও ‘মহারণ’ সবচেয়ে বেশি নজর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। ২০২১-এর স্মৃতি এখনও টাটকা— যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে উঠে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ বারও ময়দানে শুভেন্দু। তবে তৃণমূলের চাল চমকপ্রদ— প্রাক্তন বিজেপি নেতা পবিত্র করকে প্রার্থী করে সরাসরি ‘ঘরের ছেলেকে ঘরে ফেরানো’র কৌশল। ফলে এই কেন্দ্রেই হতে চলেছে সবচেয়ে তীব্র লড়াই।
বহরমপুর: অধীরের অস্তিত্বের লড়াই মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্র যেন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরীক্ষাগার। লোকসভায় হার, প্রদেশ সভাপতির পদ খোয়ানো— সব চাপ নিয়েই আবার ময়দানে অধীর। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে নজর শুধু বহরমপুরে নয়, গোটা জেলার রাজনীতিতে।
সাগরদিঘি থেকে ডোমকল: দলবদলের নাটক সাগরদিঘিতে তৃণমূলের বায়রন বিশ্বাস— এক সময় কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পরে দলবদল। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী। অন্যদিকে রেজিনগর ও ডোমকল— দুই কেন্দ্রেই ‘হুমায়ুন ফ্যাক্টর’। দলবদল, নতুন দল গঠন, জোট ভাঙন— সব মিলিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা।
খড়্গপুর ও জঙ্গলমহল: পুরনো মুখ বনাম নতুন সমীকরণ খড়্গপুর সদরে ১০ বছর পর ফিরে এসেছেন দিলীপ ঘোষ । জঙ্গলমহলে তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট— বিরবাহা হাঁসদা, মানস ভুঁইয়া— নিজেদের জমি ধরে রাখতে মরিয়া।
মন্ত্রীদের লড়াই প্রথম দফাতেই ময়দানে পাঁচ মন্ত্রী— উদয়ন গুহ, মানস ভুঁইয়া, মলয় ঘটক, বিরবাহা হাঁসদা, সাবিনা ইয়াসমিন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কি ভোটবাক্সে সুবিধা দেবে, তা দেখার।
তারকা ও চমকপ্রদ প্রার্থী প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা ময়না থেকে বিজেপির প্রার্থী,অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ রাজগঞ্জে তৃণমূলের মুখ, বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল, জিতেন্দ্র তিওয়ারি— শিল্পাঞ্চলে লড়াই জমাতে প্রস্তুত
সংখ্যার অঙ্ক গতবার এই ১৫২ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ৯২টি, বিজেপি ৫৯টি। এ বার সেই অঙ্ক বদলাবে, না কি শাসক দল এগিয়েই থাকবে— তার প্রথম ইঙ্গিত মিলবে এই দফাতেই।
এক কথায় প্রথম দফার ভোট মানেই শুধু সূচনা নয়— এটাই হতে পারে গোটা নির্বাচনের ‘টোন সেটার’। নন্দীগ্রাম, বহরমপুর, জঙ্গলমহল— সব জায়গাতেই লড়াই তীব্র। এখন শুধু অপেক্ষা— ইভিএমে বন্দি জনমতের রায় কাদের দিকে ঝুঁকবে!
মোবাইল প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলায় একটা কথা চালু রয়েছে, কম খরচে পুষ্টিকর খাদ্য। যে কোম্পানি অপেক্ষাকৃত কম দামে এই বাজারে মোবাইল জন সাধারনের হাতে দিতে পারবে তারাই রাজা।
ভারতের বাজারে তুমুল লড়াই
এখন যা অবস্থা পেটে বিদ্যা না হলেও চলবে, ঘরে খাবার না থাকলেও চলবে, কারো হাতে যদি স্মার্ট ফোন না থাকে সে এই দুনিয়ায় অচল। তাই সাধারণ মানুষ যাতে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে মোবাইল কিনতে পারে, সেই নিয়ে ভারতের বাজারে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
বাজারে পোকো সিরিজের মোবাইল
এবার বাংলা নব বর্ষ যেতে না যেতেই বৃহস্পতিবার ভারতের বাজারে আসছে পোকো সি ৮১ সিরিজের ( POKO C 81 series) মোবাইল। কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল থেকেই অনলাইনে অর্ডার দেওয়া যাবে এই সিরিজের মোবাইল।
পোকো সি ৮১
ব্যাটারি ক্ষমতা উচ্চমানের
এই সিরিজের মোবাইলের বিশেষত্ব হল, এর ব্যাটারি ক্ষমতা। ৬৩০০ মেগা ওয়াটের এই মোবাইল কিনলে একদিনে ব্যাটারি শেষ হওয়ার কোনও ব্যাপার থাকবে না। মোবাইল এমন প্রযুক্তি দিয়ে বানানো হয়েছে যাতে মোবাইল দীর্ঘক্ষণ চললেও ঠান্ডা থাকবে।
নাগালের মধ্যেই দাম
ইতিমধ্যেই কলকাতাতেও দেখা যাচ্ছে এই সিরিজের মোবাইলের বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার। এই মোবাইলের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১১ হাজার টাকার মধ্যেই।
সঙ্গে পাবেন ফ্রি গিফট
এই সিরিজের মোবাইল কিনলে একটা ফ্রি গিফট দেওয়ারও ব্যবস্থা রেখেছে কোম্পানি। এখন যেহেতু চার্জার মোবাইলের সঙ্গে দেওয়া হয় না। মনে করা হচ্ছে চার্জার থাকবে মোবাইল প্যাকেটের সঙ্গে। এই সিরিজের ফোন দেখতে অনেকটা রেডমি এ সেভেন প্রো- এর মতো। এই মোবাইলের ক্যামেরা পিক্সেল খুবই উন্নতমানের। ১৩ এম পি উচ্চমানের ক্যামেরা কোয়ালিটি রয়েছে। ১২৮ জিবি ডেটা মেমোরি থাকবে। রয়েছে ৮ জিবি RAM।
উন্নতচার্জিং সিস্টেম
এই মোবাইলের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হল এর চার্জিং সিস্টেম। কারণ ২০ শতাংশ চার্জ থাকলে যে কোনও মোবাইল আগের মতো কাজ করে না। ডিস প্লে অনেকটাই অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। এই মোবাইল তখনও সমান সক্রিয় থাকবে। ৬.৯ ইঞ্চি HD এবং LCD ডিস প্লে থাকবে। এই মোবাইল এতই পরিবেশ বান্ধব, যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজের তাপমাত্রা বজায় রেখে সার্ভিস দিতে থাকবে। এই মোবাইল অতি ব্যবহারেও গরম হয়ে যাবে না।
মিষ্টি দেখলেই মন নরম হয়ে যায়—এ অভিজ্ঞতা প্রায় সকলেরই । কিন্তু এই টান কি শুধুই রসনার খেলা, নাকি এর পিছনে রয়েছে শরীরের গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনও জৈবিক সংকেত ? সমীক্ষা বলছে, মিষ্টির প্রতি মানুষের আকর্ষণ নিছক অভ্যাস নয়, বরং তা আমাদের শরীরের ‘বায়োলজিকাল প্রোগ্রামিং’-এরই অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের পূর্বপুরুষরা বেঁচে থাকার জন্য উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের উপর নির্ভর করতেন। সেই সময়ে মিষ্টি বা চিনি-সমৃদ্ধ খাবার ছিল শক্তির দ্রুত উৎস। ফলে বিবর্তনের ধারায় মানুষের মস্তিষ্কে তৈরি হয়েছে এমন এক প্রবণতা, যা মিষ্টির প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি করে।
তবে শুধু বিবর্তনই নয়, আধুনিক জীবনের চাপও এই আকর্ষণকে বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাকে আরও তীব্র করে তোলে। কর্মব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা কিংবা ক্লান্তির মুহূর্তে তাই অনেকেই অজান্তেই হাত বাড়ান চকোলেট বা মিষ্টির দিকে।
এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকদের দাবি, চিনি জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে মিষ্টি খাওয়া এক ধরনের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-এ পরিণত হয়, যেখানে সুখের অনুভূতি পেতে মানুষ বারবার একই অভ্যাসে ফিরে যায়।
রসগোল্লা।
অন্যদিকে, শরীরে সেরোটোনিনের ঘাটতি থাকলেও মিষ্টির প্রতি চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। কারণ, এই হরমোন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মন খারাপ বা ক্লান্তির সময় অনেকেই মিষ্টি খেয়ে স্বস্তি খোঁজেন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এই ‘জৈবিক প্রোগ্রামিং’কে অজুহাত করে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া কিন্তু বিপজ্জনক। ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে অনিয়ন্ত্রিত মিষ্টি গ্রহণে। তাই সমাধান একটাই—সংযম। মিষ্টির প্রতি টান স্বাভাবিক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
প্রথম দফার ভোটের ঠিক এক দিন আগে প্রশাসনিক স্তরে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আধিকারিকদের জন্য জারি হল স্পষ্ট নির্দেশ—ফোন সর্বক্ষণ খোলা রাখতে হবে, এবং কোনও অবস্থাতেই কল এড়ানো চলবে না। ফোন বন্ধ রাখা বা ইচ্ছাকৃতভাবে না ধরার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। সোমবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই সব স্তরের নির্বাচনী আধিকারিকদের ‘রিয়েল-টাইম’ যোগাযোগে থাকতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব ধরনের পর্যবেক্ষক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ সুপার, রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নিজেদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট ডিইও-র ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার বা প্রার্থী—কেউ যদি জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, তা হলে সেটিকে দায়িত্বে গাফিলতি হিসেবে ধরা হবে। শুধু ফোন খোলা রাখাই নয়, সেটি যাতে কার্যকর থাকে, তার জন্য পর্যাপ্ত চার্জ বজায় রাখার ব্যবস্থাও রাখতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের সময়ে বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে জরুরি মুহূর্তে ফোনে পাওয়া যায় না দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের। বিশেষ করে বুথে অশান্তি, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের মতো ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশনের এই কড়া অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকের মোবাইল নম্বর জনসমক্ষে তুলে ধরা। পাশাপাশি রাজ্য, জেলা এবং বিধানসভা কেন্দ্র স্তরের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বরও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন। কমিশনের এই নির্দেশ শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভোটের দিন থেকে শুরু করে তার পরের দিন পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ গণনা-পূর্ববর্তী সংবেদনশীল সময়েও যাতে কোনও ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে দ্রুত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অন্যদিকে কিছু মহল মনে করছে, শুধুমাত্র নির্দেশ জারি করলেই হবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ কতটা হচ্ছে, সেটাই আসল পরীক্ষা। ভোটের আগে কমিশনের এই কড়া বার্তা যে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়াবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, মাঠের লড়াইয়ে এই ‘ফোন অন’ নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়।
টি ২০ বিশ্বকাপের সময় যখন অভিষেক শর্মা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন, তখন খুব কথা হচ্ছিল। বলা হয়েছে, এমন তারু ব্যাটারদের এটাই সমস্যা। তাঁরা যখন রান পান, মনে হয় ফাঁকা বাইপাসের রাস্তায় মসৃণ গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন, কিন্তু একটু জ্যাম থাকলেই তাঁদের ব্যাটে আর রান থাকে না। মেগা আসরে অভিষেক শূন্য রানের হ্যাট্রিকও করেছিলেন। তারপরেও টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর প্রতি আস্থা হারায়নি। তার প্রতিদান অভিষেক দিয়েছিলেন ফাইনালে দুরন্ত ইনিংস খেলে। বড় তারকারা সবসময় বড় মঞ্চ খোঁজেন সফল হওয়ার জন্য। ফাইনালে সেই একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস তাঁকে আবারও শিরোনামে এনে দেয়।
আইপিএলে উত্থান অভিষেকের
আইপিএলে দুরন্ত ছন্দই অভিষেককে জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছিল। তিনি গতবার আইপিএলে যা খেলেছেন, সেটা ছিল অলৌকিক ঘটনা। এবারও তিনি সেই সেরা ছন্দে। মঙ্গলবার হায়দরাবাদের হয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে ৬৮ বলে ১৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পরে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তিনি এমনভাবে ব্যাটিং করছেন মনে হচ্ছে মাঠে কোনও ফিল্ডারই নেই! তিনি গত ম্যাচে প্রথম ৫০ রান করেছেন ২৫ বলে। পরের ৫০ এসেছে ২২ বলে। ইনিংসে রয়েছে ১০ টি চার এবং ১০টি ছক্কা।
যুবরাজের মতোই অকুতোভয়
অভিষেক শর্মার এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য কোথায়, সেই নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গেছে। কেউ বলছেন, তিনি সহজাত প্রতিভার অধিকারী। কেউ বলছেন তিনি অকুতোভয়। তাঁর স্নায়ু এতটাই শক্তিশালী যে তিনি বিপক্ষের বোলারদের মাথায় চড়তে দেন না। কিন্তু আসল ব্যাপার কী? সেই নিয়ে অনেকেই বলছেন, তাঁর কোচ এমন একজন তারকা যিনিও এমনই ছিলেন, তাঁর নাম যুবরাজ সিং। চন্ডিগড় থেকে উঠে আসা অভিষেকের কোচ এই যুবরাজ, যিনি জীবন যুদ্ধেও ক্যান্সারকে হারিয়ে মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন
বাবাই প্রেরণা
অভিষেক অবশ্য জানিয়েছেন তাঁর এই উত্থানের পিছনে তাঁর বাবার অবদানও কম নয়। ছোটবেলায় শুরুতে বাবাই কোচ ছিলেন অভিষেকের। বাবা এখনও তাঁর যে কোনও ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে হাজির থাকেন। বাবা বসেন মাঠের সাইট স্ক্রিনের পাশে, যাতে ছেলে খেলতে খেলতে কোনও ভুল করলে তিনি সেটি দেখিয়ে শুধরে দিতে পারেন। অভিষেক জানিয়েছেন, বাবা আমার প্রেরণা। বাবা আমাকে এখনও ব্যাটিং টেকনিক বুঝিয়ে দেন। যখন আমি সব বলে মারতে থাকি বাবা আমাকে মাঠের বাইরে থেকে ইশারা করেন যে শান্ত থাকো। অভিষেক এও বলেছেন, আমার বাবা আমাকে নিয়ে এতটাই ভাবিত যে একটা ক্যামেরা থাকলে বোঝানো যেত তিনি ঠিক মাঠের বাইরে আমার উদ্দেশে কী করেন!
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এলেও আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ইরানের সঙ্গে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ মেয়াদ আরও বাড়াতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) এই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সাময়িক উত্তেজনা কমল।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাফল্য
জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাঁদের সেই প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়েই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান যাতে একটি ‘সুসংহত শান্তি প্রস্তাব’ (unified proposal) নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসতে পারে, তার জন্যই এই বাড়তি সময় দেওয়া হলো।
থমকে আছে কূটনৈতিক আলোচনা
শান্তির পথে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফরের কথা ছিল, যেখানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তেহরান আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ অভিযোগ তুলে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করায় ভ্যান্সের সেই সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
অবরোধ জারি রাখছে আমেরিকা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিমান হামলা বা বোমাবর্ষণ বন্ধ থাকলেও ইরানের বন্দর এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ইরান শর্ত দিয়েছে যে তারা আলোচনায় তখনই ফিরবে, যখন আমেরিকা এই অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ তুলে নেবে।
চরম উত্তেজনার আবহ
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ট্রাম্পের ভাষায় ঝাঁজ কমেনি। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সমঝোতা না হলে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ শুরু হবে। পাল্টা জবাবে ইরানও জানিয়েছে, তাদের হাতেও যুদ্ধের ‘নতুন তুরুপের তাস’ আছে এবং যুদ্ধ শুরু হলে এই অঞ্চলের তেল শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে পরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ থেকে ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে।
আপাতত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হলেও, দুই দেশের অনড় অবস্থান ও সামরিক প্রস্তুতির কারণে গোটা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে আছে।
ভোটের মুখে আচমকা ‘বাইক-বিধি’ জারি করে কার্যত আগুনে ঘি ঢেলেছিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাতের সেই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাংলাজুড়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ। শেষমেশ জনরোষের চাপে কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হল কমিশন—তবু বিতর্কের আঁচ কমেনি একচুলও।
কমিশনের নির্দেশ ছিল, ভোটের দু’দিন আগে থেকেই কার্যত নিয়ন্ত্রণে থাকবে মোটরবাইক চলাচল। রাত ৬টা থেকে সকাল ৬টা—সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। দিনের বেলাতেও একাধিক বিধিনিষেধ—বাইক চালানো যাবে ঠিকই, কিন্তু পিছনে যাত্রী নয়। ভোটের দিন বাইক বের করতে হলে দেখাতে হবে ‘জরুরি কারণ’। চিকিৎসা, পারিবারিক কাজ কিংবা স্কুলে শিশুদের আনা-নেওয়ার মতো ক্ষেত্রেই মিলবে ছাড়। অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়বে থানার লিখিত অনুমতির।
এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। কারণ, বাংলার বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াত থেকে শুরু করে জীবিকার জন্য নির্ভর করেন দু’চাকার যানেই। শুধু কলকাতাতেই নথিভুক্ত বাইকের সংখ্যা ১৪ লক্ষেরও বেশি। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—ভোট মানেই কি জীবনের গতি থামিয়ে দেওয়া?
দুর্গনগরের বাসিন্দা বুবাই বিশ্বাস, সল্টলেকের আইটি কর্মী, ক্ষোভে বলেন, “বাইক আমার, তেল আমার টাকায়, ট্যাক্সও দিই—তাহলে কেন চালাতে পারব না? এটা কেমন নিয়ম?” তাঁর মতোই লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রশ্ন—নিয়ন্ত্রণের নামে কি সাধারণ মানুষকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে?
রাজনৈতিক মহলও চুপ থাকেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মানুষ ঘরে ফিরবে কীভাবে? এত মানুষ বাইকের উপর নির্ভরশীল। এটা একপ্রকার জোরজুলুম।”
কমিশনের যুক্তি ছিল, বাইক মিছিলের নামে দুষ্কৃতী কার্যকলাপ রুখতেই এই কড়াকড়ি। কিন্তু জনমতের চাপে শেষমেশ কিছুটা নরম হতে হয়। অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি পরিষেবা ও বাইক ট্যাক্সি—যেমন র্যাপিডো বা জোম্যাটোর কর্মীদের এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হয়, যদিও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে বিতর্ক এখানেই থামেনি। কারণ, একই সঙ্গে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে—ভোটের সময় ‘অশান্তিপ্রবণ’ এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে কেন্দ্রীয় বাহিনীই ব্যবহার করবে বাইক। তার জন্য জেলাগুলিকে বাইক ‘রিকুইজিশন’-এর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মালিকদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও, তাতেও আশঙ্কা কাটছে না।
রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন, “বাইক চলছে, বাইক চলবে। কিন্তু দল বেঁধে ঘুরে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতেই এই নিয়ম।”
তবু প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—আইনশৃঙ্খলার নামে কি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে এভাবে বেঁধে ফেলা যায়? ভোটের আগে এই ‘বাইক-বিতর্ক’ এখন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে।