hcourt-ECI
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬
ভোটের আগে বাইক চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করতেই কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তীব্র মন্তব্য করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও, “আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। সাধারণ নাগরিককে এ ভাবে হেনস্থা করা যায় না।”
আদালতের পর্যবেক্ষণের জেরে কমিশনকে শুক্রবার হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন ভোটের দু’দিন আগে থেকে এই ধরনের কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হল। অতীতে বাইকবাহিনী ঘিরে অশান্তির যে নজির রয়েছে, তাও আদালতে তুলে ধরতে পারে কমিশন।
শুনানিতে বিচারপতির আরও কটাক্ষ, “এই যুক্তি মানলে গাড়িও বন্ধ করে দিন! তাতেও তো অস্ত্র নিয়ে গোলমাল হতে পারে।” তাঁর প্রশ্ন, গত পাঁচ বছরে ঠিক কত ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে— তার পরিসংখ্যান আদালতে পেশ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটের দু’দিন আগে থেকে বাইক মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাইক চালানো গেলেও পিলিয়ন রাইডার বহন করা যাবে না। ভোটের দিনও একই নিয়ম বহাল থাকবে— শুধুমাত্র ভোট দেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারের অনুমতি মিলবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন বা শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। সামাজিক অনুষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও শিথিলতা রয়েছে। অ্যাপভিত্তিক বাইক পরিষেবাগুলিকেও এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এর বাইরে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় পেতে হলে স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী। সেই মামলার শুনানিতেই বৃহস্পতিবার কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। এখন নজর শুক্রবারের হলফনামায়, কমিশন কী যুক্তি দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।