৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

‘ওভারিয়ান সিস্ট’ মানেই ভয় ? ভুল ধারণা ভাঙছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা উঠলেই একটি শব্দ প্রায়ই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ওভারিয়ান সিস্ট। অনেকেই ভাবেন, এটি মানেই গুরুতর অসুখ বা অস্ত্রোপচার অনিবার্য। কিন্তু বাস্তবটা অনেকটাই আলাদা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সিস্ট ক্ষণস্থায়ী এবং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ।

কী এই সিস্ট?
ওভারিয়ান সিস্ট হল ডিম্বাশয়ের ভিতরে তৈরি হওয়া একটি তরলভর্তি থলি বা sac। এটি অনেক সময় শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ওঠানামার ফলেই তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রজননক্ষম বয়সে এই ধরনের সিস্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কেন হয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সিস্ট হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, গর্ভাবস্থা, পেলভিক সংক্রমণ, এমনকি এন্ডোমেট্রিয়োসিস-এর মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভনিরোধক ওষুধের ব্যবহারও সিস্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

সিস্টের ধরন
একাধিক রূপ, সব সিস্ট একরকম নয়। সবচেয়ে সাধারণ হল ফলিকুলার সিস্ট—যেখানে ডিম্বাণু নির্গত না হয়ে থলির আকার নেয়। আবার কর্পাস লুটিয়াম সিস্ট হয় ডিম্বাণু বেরোনোর পরেও সেই থলি না ভাঙলে। চকোলেট সিস্ট, যা এন্ডোমেট্রিয়োসিস-এর ফল, তুলনামূলক জটিল। অন্যদিকে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম-এ ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট সিস্ট তৈরি হয়। আরও বিরল হলেও ডারময়েড সিস্টের ক্ষেত্রে চুল বা ত্বকের অংশ পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে, যা অনেককেই বিস্মিত করে।

লক্ষণ কী কী?
সব সিস্টই যে উপসর্গ তৈরি করবে, এমন নয়। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে—তলপেটে ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক, মাসিকের সময় তীব্র যন্ত্রণা, যৌনমিলনের সময় অস্বস্তি, এমনকি হরমোনজনিত কারণে ব্রণের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা
সবসময় অস্ত্রোপচার নয়, বরং অধিকাংশ সিস্ট নিজে থেকেই কয়েক মাসের মধ্যে সেরে যায়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণই অনেক সময় যথেষ্ট। তবে প্রয়োজন হলে হরমোনাল ওষুধ দেওয়া হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার জরুরি, যেমন cystectomy (সিস্ট অপসারণ) বা oophorectomy (ডিম্বাশয় অপসারণ) করতে হতে পারে, বিশেষত যদি সিস্ট বড় হয় বা জটিলতা তৈরি করে।

ভয় নয়, সচেতনতা জরুরি
‘ওভারিয়ান সিস্ট’ মানেই ক্যানসার বা গুরুতর বিপদ, এই ধারণা ভুল। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উপসর্গ উপেক্ষা না করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা থাকলে এই সাধারণ সমস্যাও সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এটাই বলছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান৷

যন্ত্রবন্দি জনরায়! বাংলার ভার কার হাতে ?

৪ মে-র সকালেই খুলবে ভাগ্যের তালা

কলকাতা: দু’দফার ভোটপর্ব পেরিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। ভোটারদের রায় আপাতত বন্দি ইভিএমের ভিতরে। সেই সিল খোলার দিন ৪ মে, সোমবার। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএম— এই ধারাতেই এগোবে গণনার প্রক্রিয়া। অভিজ্ঞতা বলছে, গণনা শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ দুপুর নাগাদ স্পষ্ট হতে শুরু করে কোন দিকে ঝুঁকছে ফলাফলের পাল্লা।

দু’দফার ভোট, সিলমোহর পড়েছে জনমতের
২৩ এপ্রিল প্রথম দফা, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা— এই দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। সেই ভোট এখন কড়া পাহারায় স্ট্রংরুমে। প্রতিটি বুথে ইভিএমের পাশাপাশি ছিল ভিভিপ্যাট, যেখানে ভোটার নিজেই নিশ্চিত হয়েছেন তাঁর ভোট সঠিক প্রার্থীর কাছেই গিয়েছে কি না। ভোটের পরেই সমস্ত মেশিন বুথ এজেন্টদের সামনে সিল করে পাঠানো হয়েছে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে।

স্ট্রংরুমে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা, নজরদারিতে কোনও ফাঁক নেই
স্ট্রংরুম এখন কার্যত দুর্গ। ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা, সিসিটিভি নজরদারি, ডবল লক— সব মিলিয়ে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র বলেই দাবি কমিশনের। প্রতিটি স্ট্রংরুমে ন্যূনতম ২৪ জন জওয়ান মোতায়েন। কে ঢুকছেন, কে বেরোচ্ছেন— সবই নথিবদ্ধ হচ্ছে লগবুকে। বাইরে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও নজরদারিতে রয়েছেন, ফলে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট।

গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়
শুধু স্ট্রংরুম নয়, গণনাকেন্দ্রও মোড়া নিরাপত্তার কড়া বলয়ে। ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে যান চলাচল নিষিদ্ধ। প্রবেশের আগে একাধিক স্তরে তল্লাশি, বৈধ আইডি কার্ডে কিউআর কোড স্ক্যান— সব মিলিয়ে নিরাপত্তা প্রায় অভেদ্য। গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট আধিকারিক, কর্মী, প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্টদের। মোবাইল ফোন বা কোনও ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, আর গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি বাধ্যতামূলক।

কী ভাবে বেরোয় ফল? ধাপে ধাপে গণনার অঙ্ক
গণনাকক্ষে সাধারণত ১৪টি টেবিলে একসঙ্গে গণনা চলে। প্রতিটি টেবিলের গণনা শেষ হলেই একটি ‘রাউন্ড’ সম্পন্ন হয়। ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটের ‘রেজাল্ট’ বোতাম টিপলেই বেরিয়ে আসে ভোটের হিসাব। এরপর সেই তথ্য নথিভুক্ত হয় নির্দিষ্ট ফর্মে— ১৭সি ও ২০। শেষে ভিভিপ্যাট স্লিপ মিলিয়ে দেখা হয়, যাতে কোনও গরমিল না থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়াই নিশ্চিত করে চূড়ান্ত ফলাফলের নির্ভুলতা।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, পাল্টে যেতে পারে রাউন্ডে রাউন্ডে ছবি
বাংলার ভোট মানেই নাটকীয়তা। অনেক কেন্দ্রে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। এক রাউন্ডে এগিয়ে থাকা প্রার্থী পরের রাউন্ডেই পিছিয়ে পড়েন— এমন নজির ভুরিভুরি। কোথাও দুই, কোথাও আবার তিন বা তার বেশি প্রার্থীর মধ্যে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফলে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকাই স্বাভাবিক।

বুথফেরত সমীক্ষায় বিভাজিত ইঙ্গিত
বুথফেরত সমীক্ষাগুলি এককথায় বলছে— লড়াই জমজমাট। কোথাও বিজেপি এগিয়ে, কোথাও তৃণমূল। ‘চাণক্য টুডে’র পূর্বাভাসে বিজেপির বড় ব্যবধানের ইঙ্গিত মিললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করছেন— অতীতে বহুবার এই সমীক্ষা বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। ফলে সমীক্ষা যতই জোরালো হোক, শেষ কথা বলবে গণনাই।

৪ মে— শুধু ফল নয়, ভবিষ্যতের দিশা
সব জল্পনা, সব হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটবে ৪ মে-র গণনায়। যন্ত্রবন্দি জনরায় যখন সামনে আসবে, তখনই স্পষ্ট হবে— কার হাতে উঠছে বাংলার শাসনক্ষমতা।

এই দিন শুধু ফল ঘোষণার দিন নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দিন। সকাল ৮টার ঘড়ি তাই শুধু সময় নয়— অপেক্ষার অবসানের সূচনা

অদৃশ্য শ্রমের দিন! মে দিবসে অধিকারহীন যৌনকর্মীরা, স্বীকৃতির লড়াই এখনও অসম্পূর্ণ

বিশ্বের নানা দেশে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি মিললেও ভারতে এখনও আইনি ও সামাজিক ধোঁয়াশা, মে দিবসে প্রশ্ন আরও তীব্র

কলকাতা: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কারখানা, খনি, নির্মাণক্ষেত্র—সব শ্রমিকের অধিকারের কথা যখন সামনে আসে, তখনই আড়ালে থেকে যায় এক বিশাল অংশ—যৌনকর্মীরা। তাঁদের শ্রম আছে, আয় আছে, ঝুঁকি আছে—কিন্তু নেই পূর্ণ স্বীকৃতি। ফলে ‘শ্রমিক’ পরিচয়ের মূল স্রোত থেকে এখনও বিচ্ছিন্ন লক্ষ লক্ষ নারী, পুরুষ ও ট্রান্সজেন্ডার যৌনকর্মী।

আইনের ধূসর অঞ্চল: অপরাধ নয়, তবুও স্বীকৃত নয়
ভারতে যৌনকর্ম নিজে বেআইনি নয়, কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত বহু কার্যকলাপ—যেমন দালালি, ব্রথেল চালানো—আইনের চোখে অপরাধ। ফলে যৌনকর্মীরা এমন এক ‘গ্রে এরিয়া’-তে আটকে, যেখানে তাঁরা না পুরোপুরি বৈধ শ্রমিক, না সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত নাগরিক।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিছু নির্দেশিকা জারি করে যৌনকর্মীদের মানবাধিকার রক্ষার কথা বললেও, তা পূর্ণ শ্রমিক স্বীকৃতির পর্যায়ে পৌঁছয়নি।

বিশ্বের মানচিত্রে কোথায় ভারত?
নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে যৌনকর্ম পেশা হিসেবে স্বীকৃত। সেখানে যৌনকর্মীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইনি সুরক্ষা ও শ্রম অধিকার পান।
অন্যদিকে সুইডেন বা নরওয়ের মতো দেশে ক্রেতাকে অপরাধী ধরা হয়—যাকে বলা হয় ‘নর্ডিক মডেল’।
ভারত এখনও এই দুই মডেলের মাঝামাঝি অবস্থানে—যেখানে নীতিগত স্পষ্টতা নেই, ফলে বাস্তবের সমস্যাও বহুগুণ।

স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক বঞ্চনা
স্বীকৃতির অভাব মানেই নিরাপত্তাহীনতা। যৌনকর্মীরা নিয়মিত হেনস্থা, পুলিশের ভয়, দালালচক্রের শোষণ—সবকিছুর মধ্যে কাজ করেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রবেশাধিকার সীমিত। HIV প্রতিরোধে কিছু সরকারি প্রকল্প থাকলেও, সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখনও অনেকটাই অধরা। তার ওপর রয়েছে সামাজিক কলঙ্ক—যা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে।

‘শ্রমিক’ শব্দটির জন্য লড়াই
দেশের বিভিন্ন সংগঠন—যেমন দুর্গাপুর, সোনাগাছি বা কামাথিপুরার যৌনকর্মীদের সংগঠন—বহুদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছে, তাঁদের ‘সেক্স ওয়ার্কার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তাঁদের যুক্তি, “আমরা পরিষেবা দিই, আয় করি। তাহলে আমরা শ্রমিক নই কেন?” এই দাবি শুধুমাত্র আইনি স্বীকৃতির নয়, সম্মানেরও।

মে দিবসের প্রশ্ন: কে শ্রমিক?
মে দিবস শুধু ছুটি নয়, এটি শ্রমের মর্যাদার দিন। কিন্তু সেই মর্যাদা কি সকলের জন্য সমান? যখন সমাজ এখনও যৌনকর্মকে ‘নৈতিকতা’র চশমায় দেখে, তখন শ্রমের বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়।

সামনে পথ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌনকর্মীদের পূর্ণ শ্রমিক স্বীকৃতি দিলে তাঁদের উপর হওয়া শোষণ কমবে, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বাড়বে, এবং সমাজে তাঁদের অবস্থানও বদলাবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনি সংস্কার এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন।

মে দিবসে যখন ‘শ্রমিক একতা জিন্দাবাদ’ ধ্বনি ওঠে, তখন প্রশ্নটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যাঁরা সমাজের ‘অন্ধকারে’ দাঁড়িয়ে শ্রম দিচ্ছেন, তাঁরা কি সত্যিই শ্রমিক নন?

সাইবার যুদ্ধের নতুন অস্ত্র ‘মাইথোস’: হ্যাকারদের হাতে কি চলে গেল তুরুপের তাস?

অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল ‘মাইথোস’ সাইবার নিরাপত্তার জগতে এক নতুন এবং জটিল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ অ্যান্টি-ভাইরাস বা স্ক্যানারের বদলে এই মডেলটি একজন অভিজ্ঞ সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারের মতো কাজ করে, যা এক নাগাড়ে সফটওয়্যারের গভীরে লুকিয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র ত্রুটিগুলোও খুঁজে বের করতে পারে। অ্যানথ্রোপিক টেক জায়ান্টদের নিয়ে ‘প্রজেক্ট গ্লাসউইং’ নামক একটি জোট গঠন করে এই মডেলের ব্যবহার নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল, যাতে হ্যাকারদের আগেই ডিফেন্ডাররা সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করে তা সারিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই পরিকল্পনার নৈতিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

নিরাপত্তার রক্ষক যখন নিজেই অরক্ষিত

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, যে কোম্পানি বিশ্বকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তাদের নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থাই অত্যন্ত পলকা বলে প্রমাণিত হয়েছে। অনুমোদনা নেই এমন একটি গোষ্ঠী কোনও জটিল উপায় হ্যাকিং না করেই কেবল ইউআরএল (URL) আন্দাজ করে এবং সাধারণ ক্রেডেনশিয়াল ব্যবহার করে মিথোস মডেলে ঢুকে পরে। এর আগে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ প্রায় ৩,০০০ ফাইলও ভুলবশত জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ৩৮০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সংস্থার এমন অপেশাদার নিরাপত্তা ত্রুটি প্রমাণ করে যে, অতি-শক্তিশালী এই প্রযুক্তিগুলো আসলে কতটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

এক অসম যুদ্ধের হাতছানি

মাইথোসের ক্ষমতা এতটাই বেশি যে এটি বর্তমানের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্রাউজারগুলোর হাজার হাজার গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেছে। কিন্তু মুশকিল হল, এই শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলোর ১ শতাংশেরও কম এখনো পর্যন্ত মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে এক বিশাল ‘দুর্বলতার মানচিত্র’ তৈরি হচ্ছে, যা ভুল হাতে পড়লে বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো মুহূর্তেই ধসিয়ে দিতে পারে। হ্যাকারদের জন্য এখন মাসের কাজ কয়েক মিনিটে করা সম্ভব হচ্ছে, অথচ ‘ডিফেন্ডারদের’ জন্য প্যাচ তৈরি বা সিস্টেম আপডেট করার ধীরগতি আগের মতোই রয়ে গেছে। এই গতির অসমতা সাইবার যুদ্ধের ভারসাম্য পুরোপুরি আক্রমণকারীদের কোর্টে বল ঠেলে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও অবিশ্বাসের বাতাবরণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল অ্যানথ্রোপিক নয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের ক্ষমতা সম্পন্ন সস্তা এবং ওপেন-সোর্স মডেলও বাজারে আসবে। তখন একক কোনও  প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গেটকিপার হিসেবে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। যখন হ্যাকারদের কাছে এই ধরনের ‘মাইথোস-লেভেল’ প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে, তখন পুরনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ধীরগতির প্যাচ সাইকেল দিয়ে তাদের মোকাবিলা করা যাবে না। সব মিলিয়ে, অ্যানথ্রোপিকের তৈরি এই ‘প্রতিকার’ নিজেই একটি বড় রোগে পরিণত হয়েছে কি না, সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল। কারণ রক্ষাকবচ যদি নিজেই ভেঙে পড়ে, তবে তা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে।

বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি

শুক্রবার থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার এবং ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড বা ‘ছোটু’ সিলিন্ডারের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৩ টাকা এবং ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের দাম ২৬১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানিয়েছে যে, এই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারগুলো তাদের মোট নেটওয়ার্কের মাত্র ১ শতাংশ ব্যবহারের আওতায় পড়ে।

শহরভেদে বর্তমান দর ও জনজীবনে প্রভাব

নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩,০৭১.৫০ টাকা এবং মুম্বাইতে ৩,০২৪ টাকা। ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারগুলোর দাম দিল্লিতে প্রায় ৩৩৯ টাকা করা হয়েছে। গত মাসেও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো এই ধরনের সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছিল। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং বেকারির মতো খাদ্য ব্যবসার ওপর। ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য বাইরে খাওয়ার খরচ বা হোটেলের খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

স্থিতিশীল পেট্রোল-ডিজেল ও গৃহস্থালির গ্যাস

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহৃত পেট্রোল, ডিজেল এবং ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আইওসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক যারা নিয়মিত এই জ্বালানিগুলো ব্যবহার করেন, তাদের আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। এছাড়া রেশন ব্যবস্থার (PDS) কেরোসিনের দামও বাড়ানো হয়নি।

বিমান জ্বালানি ও শিল্পের ভারসাম্য

দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সুবিধার্থে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমান জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক বিমানের ক্ষেত্রে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম স্থির রাখা হয়েছে, ৪ শতাংশের দাম কমেছে এবং কেবল ১৬ শতাংশ শিল্প-জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তেল সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিকাগোর আগুন থেকে ডিজিটাল যুগ— শ্রমের মর্যাদা কি সত্যিই সুরক্ষিত?

বদলে যাচ্ছে সময়, পাল্টাচ্ছে কর্মসংস্কৃতি, শ্রমিকের সংজ্ঞা। ১৮৮৬ সালে শিকাগোয় ওঠা ঝড় সারা দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল, তৈরি হল ইতিহাস – বদলে গেল নিয়ম। পয়লা মে। শুধু একটা তারিখ নয়। তার রক্তক্ষয়ী বেদনার ইতিহাস আমরা বয়ে চলেছি যুগ থেকে যুগান্তরে। চলমান সভ্যতা পালটে দেয় নিয়ম, পালটে দেয় সংজ্ঞা।

শিকাগো: যেখানে প্রতিবাদ হয়ে উঠল ঝড়

শিল্প বিপ্লবের ধোঁয়াটে আকাশের নীচে যখন কারখানার সাইরেনই ছিল জীবনের একমাত্র ছন্দ, তখন শ্রমিক মানেই ছিল ‘যন্ত্রের অংশ’। দিনে ১৪-১৬ ঘণ্টার কাজ, নগণ্য মজুরি, আর নিরাপত্তাহীন জীবন—এই অমানবিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে জন্ম নিল এক স্লোগান।

১৮৮৬ সালের ১ মে, আমেরিকার শিকাগো শহর দেখেছিল অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রায় তিন লক্ষ শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে এলেন। শিল্পপতিদের চাপে থাকা প্রশাসন তখন বুঝতে শুরু করে—এ লড়াই থামানো সহজ নয়।

হেমার্কেট অ্যাফেয়ার (Haymarket Affair): ইতিহাসের মোড়বদল

৪ মে, ১৮৮৬। প্রায় তিন লক্ষ শ্রমিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে নেমে এসেছেন পথে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের শেষে আচমকা বোমা বিস্ফোরণ, তারপর পুলিশের গুলি। মুহূর্তে লুটিয়ে পড়ে একের পর এক দেহ। সেই রাত শুধু শিকাগো নয়, কাঁপিয়ে দেয় গোটা বিশ্বকে। শ্রমিকদের দাবি আর উপেক্ষা করার মতো থাকেনি।

ফাঁসির মঞ্চে ভবিষ্যতের ভাষা

ঘটনার দায় চাপানো হল শ্রমিক নেতাদের উপর। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও শাস্তি ছিল নির্মম। ১৮৮৭ সালে ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী ও একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক, অগস্ট স্পাইস (August Spies)-সহ চারজনকে ফাঁসি দেওয়া হল। মৃত্যুর আগে স্পাইস বলেছিলেন, “আজ আমাদের নীরবতা, একদিন তোমাদের কণ্ঠস্বরের থেকেও জোরে কথা বলবে।” সেই ভবিষ্যদ্বাণী সফল হয়েছিল, বলাই বাহুল্য।

প্যারিস থেকে বিশ্ব, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৮৮৯ সালে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে শুরু হয় বিশ্বজোড়া পালন। সীমান্ত ভেঙে শ্রমিকদের এই ঐক্যই মে দিবসকে পরিণত করে এক বৈশ্বিক চেতনায়।

ভারতীয় মাটিতে মে দিবসের পদচারণা

ভারতে ১৯২৩ সালে চেন্নাইয়ে প্রথম মে দিবস পালিত হয়। সেই থেকে এই দিনটি শুধু স্মরণ নয়, সংগ্রামেরও প্রতীক। স্বাধীনতার পর শিল্পাঞ্চল থেকে আইটি পার্ক—সব জায়গাতেই ১ মে নতুন করে প্রশ্ন তোলে: শ্রমিকের প্রাপ্য কি সত্যিই নিশ্চিত?

অর্জনের গল্প! আইনের ভাষায় অধিকার

মে দিবসের আন্দোলন কেবল আবেগ নয়, এনে দিয়েছে বাস্তব পরিবর্তন। ৮ ঘণ্টার কর্মদিবস, সাপ্তাহিক ছুটি, ন্যূনতম মজুরি, পেনশন—সবই এই সংগ্রামের ফল। International Labour Organization-এর স্বীকৃতিতে এই অধিকারগুলি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মর্যাদা। শ্রমিকের জীবন আর আগের মতো নেই—কিন্তু লড়াই শেষও হয়নি।

নতুন যুগ

ডিজিটাল যুগে এসে প্রশ্ন বদলেছে। অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—কাজ কেড়ে নিচ্ছে, আবার নতুন কাজও তৈরি করছে। কিন্তু গিগ ইকোনমির শ্রমিকরা? অ্যাপ-ভিত্তিক কাজ, নেই স্থায়ী চুক্তি, নেই সামাজিক সুরক্ষা। ফলে ১ মে আজও জিজ্ঞাসা তোলে—প্রযুক্তির উন্নতি কি মানুষের উন্নতিও নিশ্চিত করছে?

সব শ্রমিক (Worker)-ই কর্মী (Employee) কিন্তু সব কর্মীই শ্রমিক নন

শ্রমিক আইন (labour law) এখন শ্রমিক কোড (Labour code)।

সেই কোড অনুযায়ী, শ্রমিক (Worker) হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি মজুরি বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করেন। হাতের কাজ (Manual), দক্ষ ও অদক্ষ (Skilled and unskilled) কাজ, যান্ত্রিক (Technical), কেরানির কাজ (Clerical) ইত্যাদির আওতায় আসেন শ্রমিক। যেমন,- ফ্যাক্টরি শ্রমিক, দোকানের সেলসম্যান, ডেলিভারি কর্মী, ক্লার্ক / ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, টেকনিশিয়ান, গুদাম কর্মী, সাফাই কর্মী প্রভৃতি।
যাঁরা ম্যানেজার বা প্রশাসনিক পদে এবং উচ্চ বেতনের সুপারভাইজার পদে নিযুক্ত তাঁরা শ্রমিক নন।

আগামীর চ্যালেঞ্জ, সমতার নতুন সংজ্ঞা, নতুন প্রশ্ন

আজকের কর্মজগতে শারীরিক পরিশ্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়। টার্গেট, ডেডলাইন, ‘অলওয়েজ অন’ সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠছে চাপের কেন্দ্র। তাই মে দিবস এখন শুধু মজুরি নয়, কাজ ও জীবনের সমতার (Work-life balance) প্রশ্নও তুলে ধরছে।

রিমোট ওয়ার্কে কাজের সময়ের সীমা কোথায়? জলবায়ু পরিবর্তনে শিল্প বদলালে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী? নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি কি বাস্তবে আসবে? এই প্রশ্নগুলিই আগামী দিনের মে দিবসের মূল সুর।

১ মে নেহাতই ছুটির দিন?

শতাব্দী পেরিয়েছে, সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, শ্রমের মর্যাদা কি আজও সুরক্ষিত? প্রশ্ন থাকবে।