মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা উঠলেই একটি শব্দ প্রায়ই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ওভারিয়ান সিস্ট। অনেকেই ভাবেন, এটি মানেই গুরুতর অসুখ বা অস্ত্রোপচার অনিবার্য। কিন্তু বাস্তবটা অনেকটাই আলাদা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সিস্ট ক্ষণস্থায়ী এবং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ।
কী এই সিস্ট?
ওভারিয়ান সিস্ট হল ডিম্বাশয়ের ভিতরে তৈরি হওয়া একটি তরলভর্তি থলি বা sac। এটি অনেক সময় শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ওঠানামার ফলেই তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রজননক্ষম বয়সে এই ধরনের সিস্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কেন হয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সিস্ট হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, গর্ভাবস্থা, পেলভিক সংক্রমণ, এমনকি এন্ডোমেট্রিয়োসিস-এর মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভনিরোধক ওষুধের ব্যবহারও সিস্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত।
সিস্টের ধরন
একাধিক রূপ, সব সিস্ট একরকম নয়। সবচেয়ে সাধারণ হল ফলিকুলার সিস্ট—যেখানে ডিম্বাণু নির্গত না হয়ে থলির আকার নেয়। আবার কর্পাস লুটিয়াম সিস্ট হয় ডিম্বাণু বেরোনোর পরেও সেই থলি না ভাঙলে। চকোলেট সিস্ট, যা এন্ডোমেট্রিয়োসিস-এর ফল, তুলনামূলক জটিল। অন্যদিকে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম-এ ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট সিস্ট তৈরি হয়। আরও বিরল হলেও ডারময়েড সিস্টের ক্ষেত্রে চুল বা ত্বকের অংশ পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে, যা অনেককেই বিস্মিত করে।
লক্ষণ কী কী?
সব সিস্টই যে উপসর্গ তৈরি করবে, এমন নয়। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে—তলপেটে ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক, মাসিকের সময় তীব্র যন্ত্রণা, যৌনমিলনের সময় অস্বস্তি, এমনকি হরমোনজনিত কারণে ব্রণের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা
সবসময় অস্ত্রোপচার নয়, বরং অধিকাংশ সিস্ট নিজে থেকেই কয়েক মাসের মধ্যে সেরে যায়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণই অনেক সময় যথেষ্ট। তবে প্রয়োজন হলে হরমোনাল ওষুধ দেওয়া হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার জরুরি, যেমন cystectomy (সিস্ট অপসারণ) বা oophorectomy (ডিম্বাশয় অপসারণ) করতে হতে পারে, বিশেষত যদি সিস্ট বড় হয় বা জটিলতা তৈরি করে।
ভয় নয়, সচেতনতা জরুরি
‘ওভারিয়ান সিস্ট’ মানেই ক্যানসার বা গুরুতর বিপদ, এই ধারণা ভুল। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উপসর্গ উপেক্ষা না করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা থাকলে এই সাধারণ সমস্যাও সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এটাই বলছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান৷