৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

শাড়ির গণ্ডি ভেঙে সাহসী পদক্ষেপ! ভারতীয় সিনেমায় প্রথাভাঙা তিন কন্যা

আজকের দর্শকের কাছে পর্দায় সুইমস্যুট বা বিকিনি নতুন কিছু নয়। ওটিটি যুগে সাহসী দৃশ্য এখন প্রায় স্বাভাবিক। কিন্তু একসময় এই পোশাকই ছিল রীতিমতো বিতর্কের বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে ফিরে তাকালে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে উঠে আসে এক বিস্মৃত অথচ যুগান্তকারী নাম—মীনাক্ষী শিরোদকর।

মীনাক্ষী শিরোদকর – ১৯৩৮

মারাঠি ছবি ‘ব্রহ্মচারী’-তে প্রথমবার সুইমস্যুট পরে পর্দায় আসেন তিনি। ছবির একটি গানে সহ-অভিনেতা মাস্টার বিনায়ক-এর সঙ্গে অভিনয়ের সময় এই পোশাক পরেছিলেন মীনাক্ষী। সেই সময়ের সমাজে যেখানে নারীর পোশাক নিয়ে ছিল কঠোর বিধিনিষেধ, সেখানে এই দৃশ্য ছিল একেবারেই বিপ্লবাত্মক। দর্শকদের একাংশ চমকে উঠলেও, ছবির জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হয়।

নলিনী জয়বন্ত – ১৯৫০

অনেকেই মনে করেন, হিন্দি সিনেমায় প্রথম সুইমস্যুট পরেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। কিন্তু তথ্য বলছে, সেই কৃতিত্ব শর্মিলার আগেই ছুঁয়ে ফেলেছিলেন নলিনী জয়বন্ত। ১৯৫০ সালের ছবি ‘সঙ্গরম’-এ তাঁকে এই সাহসী রূপে দেখা যায়। স্বাধীনতার পর নতুন ভারত যখন নিজস্ব পরিচয় খুঁজছে, তখন ভারতীয় সিনেমাতেও ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে রক্ষণশীলতার প্রাচীর।

শর্মিলা ঠাকুর ১৯৬৭

এরপর একে একে এই ধারা আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নার্গিস অভিনীত ‘আওয়ারা’-তে আধুনিকতার ছোঁয়া, নূতন-এর দিল্লি কা ঠগ-এ স্টাইলিশ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে বদলে যেতে থাকে পর্দার ভাষা। আর শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’-এ সুইমস্যুট পরে হাজির হয়ে শর্মিলা ঠাকুর যেন সেই ধারাকে মূলস্রোতে নিয়ে আসেন। তাঁর সেই লুক আজও বলিউডের ইতিহাসে আইকনিক হয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র ফ্যাশনের ছিল না—এটি ছিল সমাজের মানসিকতার বদলের প্রতিফলন। নারীর স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশ এবং আত্মবিশ্বাসের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল এইসব দৃশ্য।

তবে সবকিছুর শুরুটা হয়েছিল অনেক আগেই—যখন সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে মীনাক্ষী শিরোদকর সাহসিকতার সঙ্গে নতুন পথ দেখিয়েছিলেন। আজকের গ্ল্যামারাস দুনিয়ার পিছনে লুকিয়ে থাকা সেই প্রথম পদক্ষেপের গল্পই যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম। উল্লেখ্য, মীনাক্ষির দুই নাতনি শিল্পা শিরোদকর ও নম্রতা শিরোদকরও সিনেমার জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন।

হিংসামুক্ত ভোট, ৯২% উপস্থিতি ! ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলা, রায় কোন পথে?

কলকাতা: আর কয়েক ঘণ্টা। তারপরই খুলবে ভাগ্যের জট। সোমবার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে গণনা—টানটান স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে চোখ গোটা বাংলার। মুখোমুখি দুই প্রধান শক্তি—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। তবে ফল ঘোষণার আগেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নিজেকে আলাদা করে ফেলেছে—নজিরে, সংখ্যায়, আর বার্তায়।

সবচেয়ে বড় চমক—হিংসামুক্ত ভোট

বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে যা প্রায় ব্যতিক্রম, সেখানে এবারের দুই দফাতেই মৃত্যুহীন ভোটগ্রহণ নিঃসন্দেহে এক নতুন দিশা দেখাল। কড়া নিরাপত্তা, নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—সব মিলিয়ে নির্বাচন পরিণত হয়েছে এক ‘টেস্ট কেস’-এ।
তবে আসল প্রশ্ন—এই শান্ত ভোট কি ঝড় তুলবে ফলাফলে?

সংখ্যা বলছে, হ্যাঁ—সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোটদান, যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রথম দফায় ১৫২ আসনে প্রায় ২১ লক্ষ অতিরিক্ত ভোট, দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ৯ লক্ষাধিক বৃদ্ধি—এই বিপুল অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্ককে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা এই ভোটবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।

কি-ফ্যাক্টর

জনবিন্যাসও এবার বড় ফ্যাক্টর। কোথাও গ্রামীণ প্রাধান্য, কোথাও শহুরে ভোটারের আধিক্য—সংখ্যালঘু, তফসিলি ও উপজাতি ভোটের অনুপাত দুই দফায় আলাদা ছবি এঁকেছে। ফলে এক রাজ্যের ভিতরেই তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক স্রোত।

বিরোধী শিবির বিজেপি ভরসা রেখেছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায়। দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতির অভিযোগ, চাকরি বাতিল—এই সব ইস্যু শহুরে মধ্যবিত্তের একাংশকে প্রভাবিত করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক অসন্তোষ ও আঞ্চলিক মেরুকরণও বিজেপির পক্ষে যেতে পারে।

অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস লড়ছে সংগঠন ও প্রকল্পের জোরে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প এখনও গ্রামবাংলা ও মহিলা ভোটব্যাঙ্কে দৃঢ় প্রভাব রাখে। বুথস্তরের শক্ত সংগঠন শেষ মুহূর্তে ভোট টানার বড় অস্ত্র।

তবে সরাসরি এই দ্বৈরথের বাইরে রয়েছে একাধিক ‘এক্স ফ্যাক্টর’। এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ক্ষোভ, মহিলাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি, বেকারত্ব, ডিএ—সব মিলিয়ে ভোটের রসায়ন জটিল। সঙ্গে তৃতীয় শক্তি—বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ—তাদের ভোটকাটার ক্ষমতাও অনেক আসনের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

সব মিলিয়ে, একমুখী ঢেউ নয়—এ এক বহুমাত্রিক নির্বাচন। এখন শুধু অপেক্ষা, লজনতার রায় কোন দিকে ঘুরবে, আর কার হাতে উঠবে বাংলার ভবিষ্যতের হাল।

‘মিষ্টি লড়াই’! ‘মোদি ভোগ’ বনাম ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’

কলকাতা: রাত পোহালেই বাংলার আগামী পাঁচ বছরের শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। এনিয়ে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখন সেই লড়াই নেমে এল মিষ্টির থালাতেও। একদিকে ‘মোদি ভোগ’, অন্যদিকে ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’! নামের মধ্যেই যেন ধরা পড়ছে ভোটের রং!
শহরের একাধিক জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান ইতিমধ্যেই এই বিশেষ ভোট-থিম মিষ্টি তৈরি শুরু করেছে, আর চাহিদা এতটাই বেশি যে বরাত অনুযায়ীই পাওয়া যাচ্ছে তা।

বিভিন্ন মিষ্টি দোকানেরব্যবসায়ী ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী আবহকে মাথায় রেখেই এই অভিনব উদ্যোগ। ‘মোদি ভোগ’-এ থাকছে বিশেষ ধরনের লাড্ডু ও শুকনো মিষ্টির সংমিশ্রণ, অন্যদিকে ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’ তৈরি হচ্ছে আলাদা রেসিপিতে—স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই নামেও রাজনৈতিক বার্তা। ক্রেতাদের মধ্যে এই নতুনত্ব নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। কেউ দলীয় সমর্থনের কারণে কিনছেন, কেউ আবার শুধুই অভিনবত্বের টানে।

মিষ্টির ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোট মানেই বাঙালির কাছে উৎসব। আর উৎসব মানেই মিষ্টি। তাই রাজনীতির সঙ্গে মিষ্টির এই মেলবন্ধন নতুন কিছু নয়, তবে এবারের মতো এতটা সরাসরি রাজনৈতিক নামকরণ আগে দেখা যায়নি। বিশেষ করে রসগোল্লা, যা বাঙালির গর্বের প্রতীক—জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর থেকেই যার গুরুত্ব আরও বেড়েছে । এবার সেই মিষ্টিকেই রাজনৈতিক প্রতীকে ব্যবহার করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

শুধু নাম নয়, প্যাকেজিংয়েও থাকছে আলাদা চমক। কোথাও দলীয় রঙে সাজানো বাক্স, কোথাও আবার নেতাদের ছবি-প্রেরিত ডিজাইন। তবে দোকান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও পক্ষ নেওয়া নয়—এটি নিছকই বাজারের চাহিদা এবং সৃজনশীলতার ফল।

ক্রেতাদের একাংশের মতে, “ভোট নিয়ে উত্তেজনা তো থাকেই, তার সঙ্গে যদি একটু মজার ছোঁয়া যোগ হয়, ক্ষতি কী!” আবার কেউ কেউ বলছেন, “রাজনীতিকে এতটা বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া ঠিক কি না, তা নিয়েও ভাবা দরকার।”

ভোটের ফলাফল সামনে। তার আগেই মিষ্টির দোকানে ‘মোদি ভোগ’ আর ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’ যেন এক আলাদা লড়াই শুরু করে দিয়েছে, যেখানে জেতার প্রশ্ন নয়, বরং স্বাদ আর অভিনবত্বই আসল আকর্ষণ।

চীন-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: সাংহাইয়ে পা রাখলেন নতুন রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চীনে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে সাংহাইয়ে পৌঁছালেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক বিক্রম দোরাইস্বামী। শনিবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান সাংহাইয়ের ভারতীয় কনসাল জেনারেল প্রতীক মাথুরসহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা। ১৯৯২ ব্যাচের এই ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) অফিসার রবিবার বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন এবং বিদায়ী রাষ্ট্রদূত প্রদীপ কুমার রাওয়াতের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

৫৬ বছর বয়সী দোরাইস্বামীর এই নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক এবং কৌশলগত মহলে তাঁকে নিয়ে ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়েছে। মজার বিষয় হল, দোরাইস্বামী নিজের জন্য একটি চীনা নামও পছন্দ করেছেন— ‘ওয়েই জিয়ামং’। চীনা গবেষকদের মতে, এই নামের অর্থ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘ওয়েই’ একটি ঐতিহ্যবাহী চীনা বংশনাম, আর ‘জিয়ামং’ শব্দের অর্থ হল ‘এক শুভ বা প্রশংসনীয় মিত্র’। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের দূতের এমন নাম বেছে নেওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির এক ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বিক্রম দোরাইস্বামী কেবল অভিজ্ঞই নন, তিনি সাবলীলভাবে মান্দারিন ভাষায় কথা বলতে পারেন। কেরিয়ারের শুরুর দিকে হংকং এবং বেইজিং—উভয় মিশনেই কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বেইজিংয়ে আসার আগে তিনি যুক্তরাজ্যে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে পূর্ব লাদাখের সীমান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে ফাটল দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা চলছে। গত চার বছরের টানাপোড়েন মিটিয়ে এখন ভিসা পরিষেবা চালু এবং সরাসরি বিমান চলাচল ফের শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। এমন এক সন্ধিক্ষণে দোরাইস্বামীর নিয়োগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ানও তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, ভারত-চীন সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক অবদান রাখবেন। এখন দেখার বিষয়, দোরাইস্বামীর হাত ধরে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক কতটা বন্ধুত্বের পথে এগোয়।

হাড়ের সমস্যায় জীবনের গতি থমকে! বয়স নয়, জীবনযাপনও দায়ী

চলতে গেলেই যন্ত্রণা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট, সকালে উঠে গাঁট শক্ত! এই চেনা সমস্যাই এখন বহু মানুষের নিত্যসঙ্গী। আর্থারাইটিস, অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন গাঁটের যন্ত্রণা, ধীরে ধীরে সাধারণ অসুখের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বার্ধক্য নয়, বদলে যাওয়া জীবনযাপনও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কেন হয় এই গাঁটের যন্ত্রণা?
আর্থারাইটিসের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করে। সবচেয়ে প্রচলিত অস্টিওআর্থারাইটিস, যা মূলত বয়সজনিত। হাড়ের ক্ষয় এবং গাঁটের মাঝখানের সাইনোভিয়াল ফ্লুইড কমে গেলে হাড়ে হাড়ে ঘর্ষণ তৈরি হয়, সেখান থেকেই ব্যথার সূত্রপাত।

অন্যদিকে, রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস একেবারেই আলাদা ধরণের। এখানে শরীরের নিজস্ব অনাক্রম্যতা শক্তিই গাঁটের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে। ফলে গাঁট ফুলে ওঠে, ব্যথা বাড়ে। এছাড়া রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে মেটাবলিক আর্থারাইটিস দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকেও গাঁটে প্রদাহ ও যন্ত্রণা তৈরি হয়।

কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?
আর্থারাইটিসের লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রেই শুরুতে হালকা হলেও সময়ের সঙ্গে তা তীব্র হয়। গাঁট ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে ওঠা ও স্পর্শে গরম লাগা—এগুলি প্রাথমিক লক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জড়তা, বিশেষ করে সকালে উঠে। অনেক ক্ষেত্রে গাঁটের আকৃতি বদলে যায়, চলাফেরা বা হাত-পা নাড়ানো কঠিন হয়ে ওঠে।

রোগ ধরা পড়বে কীভাবে?
সঠিক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষার মাধ্যমে মেটাবলিক আর্থারাইটিস ধরা পড়ে। রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস শনাক্ত করতে RA factor, anti-CCP ও CRP পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষায় হাড়ের ক্ষয় বা গাঁটের গঠনগত সমস্যা বোঝা যায়।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়?
আর্থারাইটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত যোগব্যায়াম ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
প্রয়োজনে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ, স্টেরয়েড বা DMARD দেওয়া হয়। সংক্রমণজনিত ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে। গুরুতর অবস্থায় ব্রেস বা স্প্লিন্ট ব্যবহার করতে হয়। সবশেষে, অবস্থা জটিল হলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারিই একমাত্র ভরসা।

ঘুমের আগে ‘ভূতের গল্প’ শোনেন? অজান্তেই মানসিক ফাঁদে বন্দি! চুপিসারে বাড়ছে বিপদ

রাত বাড়লেই হেডফোন কানে, মোবাইলে ভৌতিক অডিও স্টোরি- অনেকের কাছেই এ যেন নিত্যদিনের অভ্যাস। অন্ধকার ঘরে শুয়ে অতিলৌকিক গল্পের রোমাঞ্চে ডুবে যাওয়ার সেই অনুভূতি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস যদি নেশায় পরিণত হয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে সরাসরি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে।

মনোবিদদের ব্যাখ্যা, নিয়মিত ভয়ঙ্কর গল্প শুনলে মস্তিষ্কে তৈরি হয় এক ধরনের কৃত্রিম ‘ভয়ের পরিবেশ’। বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। ফলে সাধারণ শব্দ, ছায়া কিংবা নিঃশব্দ পরিবেশও অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। এর জেরে তৈরি হয় অকারণ আতঙ্ক ও উদ্বেগ।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। রাতের পর রাত ভয়ের গল্প শুনতে শুনতে মস্তিষ্ক এক ধরনের উত্তেজিত অবস্থায় থাকে, যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা বা অস্থিরতা—এসব লক্ষণ ক্রমশ বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তা অনিদ্রার দিকে ঠেলে দেয়, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের স্নায়ু তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। অতিরিক্ত ভয় ও উত্তেজনা স্নায়ুতন্ত্রে চাপ সৃষ্টি করে। বুক ধড়ফড়, অকারণ কাঁপুনি বা মানসিক অবসাদ—এসব উপসর্গ দেখা দেওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

এছাড়াও, ভৌতিক গল্পের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে সন্দেহপ্রবণ করে তুলতে পারে। অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রতি অযৌক্তিক বিশ্বাস বাড়তে থাকলে তা সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। বাস্তবের চেয়ে অলৌকিক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরতা বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
মনোবিদরা আরও বলছেন, কোনও কিছু বারবার শুনতে শুনতে তা অবচেতনে ‘স্বাভাবিক সত্য’ বলে গ্রহণ করতে শুরু করে মস্তিষ্ক। ফলে গল্প না শুনলে ঘুম না আসার মতো নির্ভরতা তৈরি হয়, যা এক ধরনের মানসিক পরাধীনতার লক্ষণ।

তবে সবকিছুরই রয়েছে মাত্রা। মাঝেমধ্যে ভৌতিক গল্প শুনে রোমাঞ্চ খোঁজা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু সেটাই যদি প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে ওঠে, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমের আগে হালকা সঙ্গীত, বই পড়া বা মেডিটেশনের মতো অভ্যাস গড়ে তুললে মনের শান্তি বজায় থাকে।

রোমাঞ্চের খোঁজে ভয়কে সঙ্গী করা মন্দ নয়, কিন্তু সেই ভয় যেন জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ না নেয়—সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

একটা আসনও হবে? লড়াই তৃণমূল-বিজেপির, খাতা খোলার অঙ্কে ব্যস্ত আলিমুদ্দিন

বিমান বসু আগেই বলেছেন, “সিপিএম আর মহাশূন্যে থাকবে না।”

কলকাতা: একদিকে যখন রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই কার্যত দুই মেরুতে সীমাবদ্ধ—তৃণমূল বনাম বিজেপি, তখন তৃতীয় শক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজত্ব করা বামফ্রন্টে চলছে অন্য অঙ্ক। ৩৪ বছরের শাসনের স্মৃতি এখন ইতিহাস, বর্তমানের লড়াই ‘খাতা খোলা’ নিয়েই। প্রশ্ন একটাই—অন্তত একটি আসন কি মিলবে?
ভোটের আগে থেকে শুরু করে মে দিবসের মিছিল, এমনকী গণনার দু’দিন আগেও সব জায়গাতেই একই কৌতূহল ঘুরপাক খাচ্ছে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। কেউ যদি আশার কথা বলেন, সঙ্গে সঙ্গেই উঠে আসছে পরের প্রশ্ন, “কোন আসন?” এই অনিশ্চয়তার আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে ভেসে উঠছে বিচিত্র সব পরিসংখ্যান। কোথাও বামফ্রন্টকে এক-দুটি আসনে এগিয়ে দেখানো হচ্ছে, আবার কোথাও অতিরঞ্জিতভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে!

তবে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাম শিবিরের একাংশ খুব একটা আশাবাদী নয়। তাঁদের মতে, এই নির্বাচনে ফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের সংগঠন গড়ে তোলা। “মানুষের সঙ্গে সংযোগটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ,” বলছেন এক কর্মী।

এরই মাঝে আলোচনায় ঢুকে পড়েছে এআই বা স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে, 2031 সালের মধ্যে নাকি সিপিএম আবার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে পারে। যদিও এই ধরনের পূর্বাভাসকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ দলের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব।

বিমান বসু আগেই বলেছেন, “সিপিএম আর মহাশূন্যে থাকবে না।” কিন্তু এই আশ্বাসেও তৃপ্ত নন তৃণমূল-বিজেপির চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়া নীচুতলার কর্মীরা। তাঁদের মূল দুশ্চিন্তা, গত কয়েক বছরে বিজেপির দিকে সরে যাওয়া ভোট কি আদৌ ফিরবে ?

এক কর্মীর কথায়, “মানুষের কাছে বিজেপির রাজনীতির বিপদ বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু সেটা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।”

অন্যদিকে বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলায় বামেদের অবস্থা শোচনীয় । তাই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে গ্রাউন্ড রিপোর্টে। পাঁচ বছর বিধানসভায় প্রতিনিধিহীন থাকার পর, এবার অন্তত একজন বিধায়ক পাঠানো যাবে কি না—সেই হিসেবেই ব্যস্ত বাম নেতৃত্ব।

ফল ঘোষণার আগে তাই বাম শিবিরে এখন মিশ্র সুর—আশা, সংশয় আর বাস্তববোধের টানাপোড়েন। ৪ মের গণনার দিনই জানা যাবে, লাল পতাকার সেই ‘একটি’ স্বপ্ন আদৌ পূরণ হয় কি না।

৪ মে-র আগে আবির-বাজারে কোন ঝড়ের সংকেত? ফলাফলের আগেই লাভের গুড় ঘরে তুলছেন ব্যবসায়ীরা

আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ। কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক অলিন্দে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তখন সল্টলেকের ড্রয়িংরুম থেকে বড়বাজারের গলি—সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত ‘ট্রেড মার্কেট’ ট্রেন্ড। হোলি বা দোল উৎসবের পাট চুকেছে মাসখানেক আগে। কিন্তু বাজারের হালহকিকত বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়িক মানচিত্রে এখন সবচেয়ে ‘হট কমোডিটি’ হল আবির। বিশেষ করে সবুজ এবং গেরুয়া আবিরের চাহিদা যেভাবে তুঙ্গে উঠেছে, তাতে বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা একে ‘অকাল হোলি’ নয়, বরং ‘ইলেকশন বোনানজা’ হিসেবে দেখছেন।

কলকাতার বড়বাজারের রং ব্যবসায়ী রঘুনাথ সান্যালের গুদামে এখন পা ফেলার জায়গা নেই। সাধারণত দোলের পর আবিরের স্টক খালি করে দিয়ে তাঁরা অন্য রঙের ব্যবসায় মন দেন। কিন্তু এবার ছবিটা উল্টো। রঘুনাথবাবু জানালেন, “গত এক সপ্তাহে শুধু সবুজ আবিরেরই অর্ডার এসেছে কয়েকশো কুইন্টাল। বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার খুচরো বিক্রেতারা অগ্রিম টাকা দিয়ে স্টক বুক করে রাখছেন। তাঁদের ধারণা, ৪ তারিখের পর সবুজের আকাল দেখা দিতে পারে।” বাজারের এই তেজি ভাব দেখে অনেক ব্যবসায়ী আবার নতুন করে ওড়িশা বা উত্তরপ্রদেশ থেকে আবিরের লরি আনিয়েছেন।

ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, আবিরের এই বিপুল বিক্রি আসলে এক ধরণের ‘সেন্টিমেন্টাল ইনভেস্টমেন্ট’। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় ইউনিট বা নিচুতলার কর্মীরা হার-জিতের তোয়াক্কা না করেই জয়ের উৎসবের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছেন। শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটের ব্যবসায়ী কমল সাহার কথায়, “মার্কেটে এখন গেরুয়া আবিরের ডিমান্ডও বেশ শক্তিশালী। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে যে পরিমাণ নগদ কেনাকাটা হচ্ছে, তা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে লাল আবিরের মার্কেটও নেহাত ফেলনা নয়।” ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবে লাল আবির বিক্রি হয়নি এবার কেউ কেউ কিনছেন লাল আবির কিন্তু সংখ্যাটা অনেক কম।

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক বা ঘাটালের আবির কারখানাগুলোতে এখন ওভারটাইম কাজ চলছে। কারখানা মালিকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই আগাম মজুত করার প্রবণতা খুচরো বাজারে আবিরের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা। দোলের সময় যে আবির ৮০-১০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তার দাম কোথাও কোথাও ১২০-১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। মুনাফার অংক দেখে খুশি ব্যবসায়ীরাও।

৪ মে ইভিএম মেশিন কী রায় দেবে তা সময় বলবে, কিন্তু আবিরের বাজারের এই গতিপ্রকৃতি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে রাজনৈতিক দলগুলো ফলের ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী। ট্রেড মার্কেটের এই  ট্রেন্ড কি সত্যিই জনমতের সঠিক প্রতিফলন, নাকি স্রেফ আবেগতাড়িত খরচ—তার উত্তর মিলবে সোমবার বেলা গড়ালেই। আপাতত আবিরের গন্ধে ম ম করছে বাজার, আর লাভের গুড় ঘরে তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

বুড়ো আঙুলে ‘ওভারটাইম’, জীবনে ‘আন্ডারটাইম’! রিল-গেমে ডুবে শহরের যুবসমাজ

স্ক্রিনে স্ক্রল, বাস্তবে শূন্যতা! ডোপামিনের ফাঁদে আটকে পড়ছে নতুন প্রজন্ম

কলকাতা: মেট্রো থেকে মেস, কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কর্পোরেট অফিস—একই ছবি। চোখ স্ক্রিনে, আঙুল অবিরাম স্ক্রল করছে। ‘আর একটা রিল’, ‘আর একটা গেম’—এই অদৃশ্য লুপেই বন্দি শহরের তরুণরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে আচরণগত আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে মানুষ নিজের সময়ের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।

ডোপামিনের দখলে মগজ
ছোট ছোট ভিডিও, তাত্ক্ষণিক আনন্দ—এ যেন মস্তিষ্কের জন্য ‘ফাস্ট ফুড’। গবেষণা বলছে, রিল বা শর্ট ভিডিও মস্তিষ্কে দ্রুত আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে, ফলে বারবার একই অভ্যাসে ফিরে যেতে চায় মানুষ। এতে মনোযোগ কমে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয় এবং বাস্তব জীবনের প্রতি আগ্রহ কমতে থাকে।

রিল, গেম দখল করে নিচ্ছে জেনজি-দের বেশিরভাগ সময়? নিজস্ব ছবি: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

সময়ের অপচয়, জীবনের ক্ষয়
একসময় খেয়ালই থাকে না—কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নেওয়া, কখন ঘন্টায় গড়িয়ে যায়। পড়াশোনা, কাজ, সম্পর্ক—সব কিছুতেই পড়ছে প্রভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আসক্তি ধীরে ধীরে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং বাস্তব সামাজিক যোগাযোগকে দুর্বল করে দেয়।

ঝুঁকির খেলা: ‘ভাইরাল’ হতে গিয়ে বিপদ
শুধু মানসিক নয়, শারীরিক ঝুঁকিও বাড়ছে। রিল বানাতে গিয়ে বিপজ্জনক স্টান্ট—রাস্তায়, রেললাইনে—এর ফলে দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়ছে। কখনও প্রাণও যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ‘লাইক’-এর লোভে বাস্তব বিপদের হিসেব হারিয়ে ফেলছে তরুণরা।

অন্তর্মুখী সমাজ: পাশে মানুষ, তবু একা
পরিবারের মধ্যে কথোপকথন কমছে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ভার্চুয়ালে সীমাবদ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনামূলক জীবনযাপন (comparison culture) থেকে তৈরি হচ্ছে হীনমন্যতা, উদ্বেগ, এমনকি হতাশাও।

সমাধান কোথায়? সচেতনতার পথে হাঁটা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডিটক্স নয়—বরং ‘মাইন্ডফুল ইউজ’ দরকার। নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে ব্যবহার, অফলাইন কার্যকলাপে অংশগ্রহণ, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

রিলের দুনিয়া মুগ্ধতার, কিন্তু সেই মুগ্ধতা যদি নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়, তবে তা বিপজ্জনক। বুড়ো আঙুলের এই ‘ওভারটাইম’ শেষ পর্যন্ত জীবনের ‘আন্ডারটাইম’ হয়ে উঠছে না তো—সেই প্রশ্নই এখন সামনে উঠে আসছে।

লাল গোলাপেই খুলছে ভাগ্য! পশ্চিমবঙ্গে ফুলচাষে নতুন দিশা, ভরসা উৎসব-বিয়ের বাজার

একসময় শখের ফুল হিসেবে পরিচিত ছিল গোলাপ। এখন সেই গোলাপই পশ্চিমবঙ্গে পরিণত হয়েছে লাভজনক কৃষি ব্যবসার অন্যতম ভরকেন্দ্রে। উৎসবের মরসুম, বিয়েবাড়ির চাহিদা এবং শহুরে বাজার—সব মিলিয়ে গোলাপ চাষ এখন বহু কৃষকের কাছে আয়ের নতুন রাস্তা খুলে দিয়েছে।

কোথায় হচ্ছে সবচেয়ে বেশি চাষ?
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ হলেও উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, ডেবরা—এই অঞ্চলগুলি গোলাপ চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ৷ নদিয়ার রানাঘাট ও কৃষ্ণগঞ্জেও রয়েছে বড় বাজার ৷ এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজারহাট, শিকড়পুর, ভাঙড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নার্সারি ও চাষের জমি ৷ হাওড়ার বাগনান ও উলুবেড়িয়াও পিছিয়ে নেই ৷ পাশাপাশি দার্জিলিং (কালিম্পং), জলপাইগুড়ি ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও বাড়ছে গোলাপ ফুলের চাষ ৷

সরকারি ভর্তুকি ও ঋণে উৎসাহ
গোলাপ চাষকে এগিয়ে দিতে একাধিক প্রকল্পে জোর দিচ্ছে সরকার ৷ ন্যাশনাল হর্টিকালচার মিশন (NHM) প্রতি হেক্টরে ১০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়৷ এছাড়াও ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড (NHB) প্রকল্প খরচের ২০%–৪০% পর্যন্ত ক্যাপিটাল সাবসিডি দিয়ে থাকে ৷
ওছাড়াও ‘আমার ফসল আমার গোলার মাধ্যমে বীজ ও সার কেনায় আর্থিক সহায়তা ৷ এছাড়াও পিএম মুদ্রা যোজনা সহ বিভিন্ন স্কিমে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়৷

গোলাপ চাষ। ছবি: Google

ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতা
ভারতে গোলাপ চাষের ইতিহাস বহু পুরনো। ঊনবিংশ শতকে শিবপুর বোটানিক গার্ডেনে ‘চায়না রোজ’ সংরক্ষণ আধুনিক গোলাপের বিকাশে বড় ভূমিকা নেয়। ১৯৮০ সালে বেঙ্গল রোজ সোসাইটি গঠনের পর রাজ্যে এই চাষে আসে আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্তমানে ‘ডাচ রোজ’ উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। পলিহাউস ও গ্রিনহাউস প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত মানের ফুল উৎপাদন করছেন চাষিরা।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও গোলাপের জৌলুস
দেশের সবচেয়ে বড় গোলাপ উৎসব সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চণ্ডীগড়ে৷ এর পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছিল, জাকির হুসেন রোজ ফেস্টিভ্যাল৷ চলতি বছরের ২০–২২ ফেব্রুয়ারি এই গোলাপ উৎসবে প্রায় ১৬০০ প্রজাতির ৫০ হাজারের বেশি গোলাপ প্রদর্শিত হয়৷ ফুলের ভাস্কর্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভিনটেজ কার প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে এই উৎসবে ছিল আন্তর্জাতিক মানের আকর্ষণ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজারের চাহিদা, সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির জোরে পশ্চিমবঙ্গে গোলাপ চাষ এখন শুধু ফুল নয়—এ এক সম্ভাবনার ‘লাল’ গল্প!