৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

যন্ত্রবন্দি জনরায়! বাংলার ভার কার হাতে ?

যন্ত্রবন্দি জনরায়! বাংলার ভার কার হাতে ?

vote-in-bengal-2026

যন্ত্রবন্দি জনরায়! বাংলার ভার কার হাতে ?

৪ মে-র সকালেই খুলবে ভাগ্যের তালা

কলকাতা: দু’দফার ভোটপর্ব পেরিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। ভোটারদের রায় আপাতত বন্দি ইভিএমের ভিতরে। সেই সিল খোলার দিন ৪ মে, সোমবার। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএম— এই ধারাতেই এগোবে গণনার প্রক্রিয়া। অভিজ্ঞতা বলছে, গণনা শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ দুপুর নাগাদ স্পষ্ট হতে শুরু করে কোন দিকে ঝুঁকছে ফলাফলের পাল্লা।

দু’দফার ভোট, সিলমোহর পড়েছে জনমতের
২৩ এপ্রিল প্রথম দফা, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা— এই দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। সেই ভোট এখন কড়া পাহারায় স্ট্রংরুমে। প্রতিটি বুথে ইভিএমের পাশাপাশি ছিল ভিভিপ্যাট, যেখানে ভোটার নিজেই নিশ্চিত হয়েছেন তাঁর ভোট সঠিক প্রার্থীর কাছেই গিয়েছে কি না। ভোটের পরেই সমস্ত মেশিন বুথ এজেন্টদের সামনে সিল করে পাঠানো হয়েছে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে।

স্ট্রংরুমে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা, নজরদারিতে কোনও ফাঁক নেই
স্ট্রংরুম এখন কার্যত দুর্গ। ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা, সিসিটিভি নজরদারি, ডবল লক— সব মিলিয়ে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র বলেই দাবি কমিশনের। প্রতিটি স্ট্রংরুমে ন্যূনতম ২৪ জন জওয়ান মোতায়েন। কে ঢুকছেন, কে বেরোচ্ছেন— সবই নথিবদ্ধ হচ্ছে লগবুকে। বাইরে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও নজরদারিতে রয়েছেন, ফলে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট।

গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়
শুধু স্ট্রংরুম নয়, গণনাকেন্দ্রও মোড়া নিরাপত্তার কড়া বলয়ে। ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে যান চলাচল নিষিদ্ধ। প্রবেশের আগে একাধিক স্তরে তল্লাশি, বৈধ আইডি কার্ডে কিউআর কোড স্ক্যান— সব মিলিয়ে নিরাপত্তা প্রায় অভেদ্য। গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট আধিকারিক, কর্মী, প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্টদের। মোবাইল ফোন বা কোনও ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, আর গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি বাধ্যতামূলক।

কী ভাবে বেরোয় ফল? ধাপে ধাপে গণনার অঙ্ক
গণনাকক্ষে সাধারণত ১৪টি টেবিলে একসঙ্গে গণনা চলে। প্রতিটি টেবিলের গণনা শেষ হলেই একটি ‘রাউন্ড’ সম্পন্ন হয়। ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটের ‘রেজাল্ট’ বোতাম টিপলেই বেরিয়ে আসে ভোটের হিসাব। এরপর সেই তথ্য নথিভুক্ত হয় নির্দিষ্ট ফর্মে— ১৭সি ও ২০। শেষে ভিভিপ্যাট স্লিপ মিলিয়ে দেখা হয়, যাতে কোনও গরমিল না থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়াই নিশ্চিত করে চূড়ান্ত ফলাফলের নির্ভুলতা।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, পাল্টে যেতে পারে রাউন্ডে রাউন্ডে ছবি
বাংলার ভোট মানেই নাটকীয়তা। অনেক কেন্দ্রে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। এক রাউন্ডে এগিয়ে থাকা প্রার্থী পরের রাউন্ডেই পিছিয়ে পড়েন— এমন নজির ভুরিভুরি। কোথাও দুই, কোথাও আবার তিন বা তার বেশি প্রার্থীর মধ্যে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফলে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকাই স্বাভাবিক।

বুথফেরত সমীক্ষায় বিভাজিত ইঙ্গিত
বুথফেরত সমীক্ষাগুলি এককথায় বলছে— লড়াই জমজমাট। কোথাও বিজেপি এগিয়ে, কোথাও তৃণমূল। ‘চাণক্য টুডে’র পূর্বাভাসে বিজেপির বড় ব্যবধানের ইঙ্গিত মিললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করছেন— অতীতে বহুবার এই সমীক্ষা বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। ফলে সমীক্ষা যতই জোরালো হোক, শেষ কথা বলবে গণনাই।

৪ মে— শুধু ফল নয়, ভবিষ্যতের দিশা
সব জল্পনা, সব হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটবে ৪ মে-র গণনায়। যন্ত্রবন্দি জনরায় যখন সামনে আসবে, তখনই স্পষ্ট হবে— কার হাতে উঠছে বাংলার শাসনক্ষমতা।

এই দিন শুধু ফল ঘোষণার দিন নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দিন। সকাল ৮টার ঘড়ি তাই শুধু সময় নয়— অপেক্ষার অবসানের সূচনা

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য