sex-worker-societal-value-as-workers
১লা মে, ২০২৬
বিশ্বের নানা দেশে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি মিললেও ভারতে এখনও আইনি ও সামাজিক ধোঁয়াশা, মে দিবসে প্রশ্ন আরও তীব্র
কলকাতা: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কারখানা, খনি, নির্মাণক্ষেত্র—সব শ্রমিকের অধিকারের কথা যখন সামনে আসে, তখনই আড়ালে থেকে যায় এক বিশাল অংশ—যৌনকর্মীরা। তাঁদের শ্রম আছে, আয় আছে, ঝুঁকি আছে—কিন্তু নেই পূর্ণ স্বীকৃতি। ফলে ‘শ্রমিক’ পরিচয়ের মূল স্রোত থেকে এখনও বিচ্ছিন্ন লক্ষ লক্ষ নারী, পুরুষ ও ট্রান্সজেন্ডার যৌনকর্মী।
আইনের ধূসর অঞ্চল: অপরাধ নয়, তবুও স্বীকৃত নয়
ভারতে যৌনকর্ম নিজে বেআইনি নয়, কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত বহু কার্যকলাপ—যেমন দালালি, ব্রথেল চালানো—আইনের চোখে অপরাধ। ফলে যৌনকর্মীরা এমন এক ‘গ্রে এরিয়া’-তে আটকে, যেখানে তাঁরা না পুরোপুরি বৈধ শ্রমিক, না সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত নাগরিক।
২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিছু নির্দেশিকা জারি করে যৌনকর্মীদের মানবাধিকার রক্ষার কথা বললেও, তা পূর্ণ শ্রমিক স্বীকৃতির পর্যায়ে পৌঁছয়নি।
বিশ্বের মানচিত্রে কোথায় ভারত?
নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে যৌনকর্ম পেশা হিসেবে স্বীকৃত। সেখানে যৌনকর্মীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইনি সুরক্ষা ও শ্রম অধিকার পান।
অন্যদিকে সুইডেন বা নরওয়ের মতো দেশে ক্রেতাকে অপরাধী ধরা হয়—যাকে বলা হয় ‘নর্ডিক মডেল’।
ভারত এখনও এই দুই মডেলের মাঝামাঝি অবস্থানে—যেখানে নীতিগত স্পষ্টতা নেই, ফলে বাস্তবের সমস্যাও বহুগুণ।
স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক বঞ্চনা
স্বীকৃতির অভাব মানেই নিরাপত্তাহীনতা। যৌনকর্মীরা নিয়মিত হেনস্থা, পুলিশের ভয়, দালালচক্রের শোষণ—সবকিছুর মধ্যে কাজ করেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রবেশাধিকার সীমিত। HIV প্রতিরোধে কিছু সরকারি প্রকল্প থাকলেও, সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখনও অনেকটাই অধরা। তার ওপর রয়েছে সামাজিক কলঙ্ক—যা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে।
‘শ্রমিক’ শব্দটির জন্য লড়াই
দেশের বিভিন্ন সংগঠন—যেমন দুর্গাপুর, সোনাগাছি বা কামাথিপুরার যৌনকর্মীদের সংগঠন—বহুদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছে, তাঁদের ‘সেক্স ওয়ার্কার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তাঁদের যুক্তি, “আমরা পরিষেবা দিই, আয় করি। তাহলে আমরা শ্রমিক নই কেন?” এই দাবি শুধুমাত্র আইনি স্বীকৃতির নয়, সম্মানেরও।
মে দিবসের প্রশ্ন: কে শ্রমিক?
মে দিবস শুধু ছুটি নয়, এটি শ্রমের মর্যাদার দিন। কিন্তু সেই মর্যাদা কি সকলের জন্য সমান? যখন সমাজ এখনও যৌনকর্মকে ‘নৈতিকতা’র চশমায় দেখে, তখন শ্রমের বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়।
সামনে পথ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌনকর্মীদের পূর্ণ শ্রমিক স্বীকৃতি দিলে তাঁদের উপর হওয়া শোষণ কমবে, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বাড়বে, এবং সমাজে তাঁদের অবস্থানও বদলাবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনি সংস্কার এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন।
মে দিবসে যখন ‘শ্রমিক একতা জিন্দাবাদ’ ধ্বনি ওঠে, তখন প্রশ্নটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যাঁরা সমাজের 'অন্ধকারে' দাঁড়িয়ে শ্রম দিচ্ছেন, তাঁরা কি সত্যিই শ্রমিক নন?
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।