The Fourth Axis

প্রতি পাঁচ জনে একজন ‘ধনকুবের’! কোটিপতি প্রার্থীর ঢেউয়ে ভাসছে বাংলার ভোট

west bengal election

প্রতি পাঁচ জনে একজন ‘ধনকুবের’! কোটিপতি প্রার্থীর ঢেউয়ে ভাসছে বাংলার ভোট

শেষ আপডেট: 18 April 2026 08:08

একসময় স্লোগানে বদলের হাওয়া ছিল, ছিল গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবি। ২০২৬-এর ভোটের দরজায় দাঁড়িয়ে ছবিটা যেন উল্টো— এখন রাজনীতির কেন্দ্রে ‘মানুষ’ নয়, বরং ‘মোট সম্পত্তি’!

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ-এর রিপোর্ট কার্যত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে— বাংলার ভোট মানেই এখন টাকার খেলা। প্রথম দফার ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০৬ জন কোটিপতি! অর্থাৎ, প্রতি পাঁচ জনে একজন ‘ধনকুবের’। প্রশ্ন উঠছেই, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে এত বিপুল অর্থবল কেন?

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর রিপোর্ট




তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনই কোটিপতি! শতাংশের হিসেবে প্রায় ৭২। বিরোধী বিজেপিও খুব একটা পিছিয়ে নেই, ৪৭ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। বাম ও কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও ছবিটা খুব আলাদা নয়, যদিও হার তুলনায় কম।

গড় সম্পদের হিসেবেও শীর্ষে তৃণমূল, প্রায় ২.৯০ কোটি টাকা! বিজেপি ২.৫৩ কোটি, কংগ্রেস ২.০৩ কোটি। আর ‘সর্বহারার’ তকমা জুড়ে থাকা সিপিআই(এম)-এর প্রার্থীদের গড় সম্পদ ৫০ লক্ষ টাকার আশপাশে, তাতেও কিন্তু গরিবের ছোঁয়া খুব একটা নেই!

সবচেয়ে ধনী প্রার্থীও শাসক শিবিরের— জঙ্গিপুরের সমীর কুমার, যার সম্পত্তি ১০০ কোটিরও বেশি। তালিকার ওপরের দিকেই রয়েছেন তৃণমূলের রুবি ঘোষ (২৩ কোটি) এবং বিজেপির গৌতম মিত্র (২৫ কোটি)। ভোটের লড়াই যে আর আদর্শের নয়, তা যেন এই অঙ্কই প্রমাণ করছে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা – এখন রাজনীতির নতুন মন্ত্র ‘উইনেবিলিটি’। আর সেই ‘জেতার ক্ষমতা’ নির্ধারণ করছে পকেটের ওজন। কোটি কোটি টাকা খরচ করার সামর্থ্য, প্রভাব বলয়, আর সংগঠনের ভিত— সব মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে ‘যোগ্য’ প্রার্থী। ফলে, তৃণমূল হোক বা অন্য দল— টিকিটের দৌড়ে এগিয়ে থাকছেন ধনীরাই।

কিন্তু এই ঝলমলে ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে নির্মম বৈষম্য। একই নির্বাচনে এমন প্রার্থীও আছেন, যাঁদের মোট সম্পদ ৫০০ টাকা! ডোমকলের এক নির্দল প্রার্থী থেকে শুরু করে মেদিনীপুর-মানবাজারের প্রার্থীরা, যাঁদের সম্পদ হাজার টাকারও কম। একদিকে কোটির পর কোটি, অন্যদিকে পকেটে কয়েকশো!

ভোট আসবে, ভোট যাবে। কিন্তু এই অঙ্কের হিসেব কি বদলাবে? নাকি বাংলার রাজনীতি চিরতরে ঢুকে পড়েছে ‘টাকার জৌলুসে’? উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স, কিন্তু প্রশ্নটা ইতিমধ্যেই ঘুরছে ভোটারদের মনে ৷