৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

জন্ডিস মানেই কি রোগ? কোন ‘সতর্কবার্তা’ দিচ্ছে এই উপসর্গ?

জন্ডিস মানেই কি রোগ? কোন ‘সতর্কবার্তা’ দিচ্ছে এই উপসর্গ?

জন্ডিস মানেই কোনও রোগ নয়। প্রতীকী ছবি - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস

জন্ডিস মানেই কি রোগ? কোন ‘সতর্কবার্তা’ দিচ্ছে এই উপসর্গ?

চোখ হলুদ, প্রস্রাবের রং গাঢ়, শরীর দুর্বল— অনেকেই ভাবেন এটাই বুঝি জন্ডিস রোগ। কিন্তু জন্ডিস নিজে কোনও রোগ নয়, বরং শরীরের ভিতরে লুকিয়ে থাকা একাধিক সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং কখনও শরীরের অন্যান্য অংশ হলুদ হয়ে যায়। আর তখনই ধরা পড়ে জন্ডিসের উপসর্গ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মূলত তিন ধরনের জন্ডিস দেখা যায়— প্রি-হেপাটিক, হেপাটিক ও পোস্ট-হেপাটিক।

১) প্রি-হেপাটিক জন্ডিস

এই ধরনের জন্ডিসে অতিরিক্ত হারে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ফলে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। লিভার সেই অতিরিক্ত বিলিরুবিন সামলাতে পারে না।

কোন কোন কারণে হতে পারে?

  • ম্যালেরিয়া
  • সিকল সেল ডিজিজ
  • জেনেটিক সমস্যা

কীভাবে বোঝা যায়?

  • রক্তে Unconjugated bilirubin বেশি থাকে
  • প্রস্রাবে Bilirubin থাকে না
  • প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক থাকে
  • মলের রং গাঢ় খয়েরি হয়
  • Liver enzyme সাধারণত স্বাভাবিক থাকে

২) হেপাটিক জন্ডিস

লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিলিরুবিন প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হলে এই জন্ডিস হয়।

কোন কোন কারণে হতে পারে?

  • হেপাটাইটিস
  • লিভার সিরোসিস
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কীভাবে বোঝা যায়?

  • রক্তে Conjugated ও Unconjugated— দুই ধরনের বিলিরুবিনই বাড়ে
  • প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়
  • প্রস্রাবে Conjugated bilirubin পাওয়া যায়
  • Liver enzyme-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়

৩) পোস্ট-হেপাটিক জন্ডিস

পিত্তনালীতে বাধা তৈরি হলে বিলিরুবিন শরীর থেকে বেরোতে পারে না। তখন এই ধরনের জন্ডিস হয়।

কোন কোন কারণে হতে পারে?

  • গলস্টোন
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস
  • টিউমার

কীভাবে বোঝা যায়?

  • রক্তে Conjugated bilirubin অত্যন্ত বেশি থাকে
  • প্রস্রাবে Urobilinogen অনুপস্থিত থাকে
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়
  • মল ফ্যাকাশে বা মাটির মতো সাদা হয়ে যায়
  • Liver enzyme অত্যন্ত বেশি থাকে

জন্ডিসের সাধারণ লক্ষণ

  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা খয়েরি হওয়া
  • ফ্যাকাশে মল
  • শরীরে চুলকানি
  • দুর্বলতা ও খিদে কমে যাওয়া
  • বমিভাব বা জ্বর

কী চিকিৎসা প্রয়োজন?

জন্ডিসের চিকিৎসা নির্ভর করে আসল কারণের উপর। তাই শুধুমাত্র ঘরোয়া টোটকা নয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকেরা সাধারণত যে পরামর্শ দেন—

  • পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে
  • তৈলাক্ত ও মশলাদার খাবার এড়াতে হবে
  • বিশ্রাম নিতে হবে
  • লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ওষুধ এড়াতে হবে
  • প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বা লিভার ফাংশন টেস্ট করাতে হবে

তাই জন্ডিসকে হালকাভাবে নিলে বিপদ বাড়তে পারে। কারণ এর পিছনে লিভারের মারাত্মক অসুখ, সংক্রমণ বা পিত্তনালীর জটিল সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই চোখ বা ত্বকে হলুদ ভাব দেখলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
ডাঃ পৌলমী রায়চৌধুরী

ডাঃ পৌলমী রায়চৌধুরী

কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য