ফোর্ট উইলিয়াম, কলকাতা। ছবি -Google, গ্রাফিক্স - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস
৪ঠা জুন, ২০২৬
কলকাতার ইতিহাস যতটা নথিতে লেখা, ততটাই ছড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তিতে। আর সেই কিংবদন্তির অন্যতম জনপ্রিয় অধ্যায়—গোপন সুড়ঙ্গের রহস্য।
কেউ বলেন, ফোর্ট উইলিয়াম থেকে রাজভবন পর্যন্ত ছিল ভূগর্ভস্থ গোপন পথ। কারও দাবি, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের নীচে লুকিয়ে ছিল এমন এক সুড়ঙ্গ, যা বিপদের সময় ব্রিটিশ আধিকারিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। পুরনো কলকাতার অলিগলি ঘুরলেই আজও শোনা যায় এইসব গল্প।
কিন্তু ইতিহাস কী বলছে?
১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণের অভিঘাতের পর ব্রিটিশরা নতুন করে গড়ে তোলে ফোর্ট উইলিয়াম। সামরিক কৌশল মাথায় রেখে নির্মিত এই দুর্গে ছিল ভূগর্ভস্থ গুদামঘর, অস্ত্রভাণ্ডার এবং সেনাদের চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে দুর্গের ভিতরে কিছু ভূগর্ভস্থ পথ থাকার সম্ভাবনা ইতিহাসবিদরাও উড়িয়ে দেন না।

তবে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে রাজভবন বা রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত দীর্ঘ গোপন সুড়ঙ্গ ছিল—এমন কোনও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। সরকারি নথি, মানচিত্র কিংবা সমসাময়িক দলিলে তার স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় না।

তবু রহস্যের আগুন নিভে যায়নি।
বিগত কয়েক দশকে কলকাতার বহু প্রাচীন ভবনের সংস্কারের সময় মিলেছে বন্ধ ইটের করিডর, অচেনা ভূগর্ভস্থ কক্ষ কিংবা অদ্ভুত স্থাপত্যের চিহ্ন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলি ছিল পুরনো নিকাশি ব্যবস্থা, খাদ্য মজুতঘর, বায়ু চলাচলের পথ অথবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্থাপত্যের অংশ। কিন্তু লোকমুখে সেগুলিই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে ‘গুপ্ত সুড়ঙ্গ’-এর গল্পে।
রাজভবনকে ঘিরেও কম কাহিনি নেই। শোনা যায়, গভর্নর জেনারেলের নিরাপত্তার জন্য সেখানে বিশেষ পালানোর রাস্তা তৈরি ছিল। একইভাবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কর্মচারীদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল ‘বন্ধ সুড়ঙ্গ’-এর গল্প। কিন্তু কৌতূহল যতই থাক, প্রমাণের ঝুলি এখনও প্রায় ফাঁকাই।
আসলে কলকাতা এমন এক শহর, যেখানে ইতিহাস আর লোককথা প্রায়শই হাত ধরাধরি করে চলে। পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সামরিক বাংকার, ভূগর্ভস্থ গুদামঘর কিংবা পরিত্যক্ত কক্ষ—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলিই মানুষের কল্পনায় হয়ে উঠেছে রহস্যময় সুড়ঙ্গের জাল।
তাই ফোর্ট উইলিয়াম থেকে রাজভবন পর্যন্ত সত্যিই কোনও গোপন রাস্তা ছিল কি না, তার উত্তর আজও অধরা। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত—কলকাতার মাটির নীচে যেমন লুকিয়ে আছে বহু অজানা ইতিহাস, তেমনই লুকিয়ে আছে অসংখ্য অমীমাংসিত রহস্য।
আর সেই রহস্যই হয়তো আজও শহরটাকে নতুন করে আবিষ্কার করার প্রলোভন জাগিয়ে রাখে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
লেখকের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই যোগ করা হবে।