

আলোর গতিকেও হার মানাল ভয়েজার ১। ছবি - Google.
১৩ই জুলাই, ২০২৬
নভেম্বর ১৫, ২০২৬। এই বিশেষ দিনে পৃথিবী থেকে বহুদূরে মহাকাশের অতল অন্ধকারে ঘটতে চলেছে এক নীরব কিন্তু অবিশ্বাস্য ইতিহাস। মহাকাশযান 'ভয়েজার ১' (Voyager 1) এমন এক দূরত্বে পৌঁছাতে যাচ্ছে, যা এর আগে মানুষের তৈরি কোনো বস্তু স্পর্শ করতে পারেনি। এদিন পৃথিবী থেকে মহাকাশযানটির দূরত্ব দাঁড়াবে ঠিক ১৬.১ বিলিয়ন মাইল বা ২৫.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার। বিজ্ঞানের ভাষায় এই দূরত্বকে বলা হয় '১ লাইট-ডে' বা এক আলোক-দিবস।
সহজ কথায়, আলোর গতিতে ছুটে চলা একটি বেতার সংকেত পৃথিবী থেকে ভয়েজার ১-এর কাছে পৌঁছাতে পুরো ২৪ ঘণ্টা সময় নেবে। আবার সেই সংকেতের ফিরতি জবাব আমাদের কাছে আসতে লাগবে আরও ২৪ ঘণ্টা। অর্থাৎ, আজ সকাল ৮টায় নাসার প্রকৌশলীরা যদি কোনো কমান্ড পাঠান, সেটির উত্তর পেতে পেতে আগামীকাল সকাল ৮টা বেজে যাবে! মহাবিশ্বের এই বিশালতা এবং দূরত্বের তীব্রতা সত্যিই আমাদের কল্পনাকে হার মানায়।
আজকের দিনে আমরা যে সাধারণ রিমোট বা গাড়ির চাবি ব্যবহার করি, ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপিত ভয়েজার ১-এর কম্পিউটারের ক্ষমতা তার চেয়েও অনেক কম। মাত্র ৬৮ কিলোবাইট মেমোরি আর ২৫০ কিলোহার্জ প্রসেসর নিয়ে এই যানটি প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে মহাকাশে ছুটে চলেছে। বর্তমানে এটি ঘণ্টায় প্রায় ৩৮,০০০ মাইল বেগে ইন্টারস্টেলার মিডিয়াম বা আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যের বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পাঠানো ক্ষীণ সংকেত ধরার জন্য পৃথিবীতে নাসাকে বিশাল অ্যান্টেনার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হয়।

ভয়েজার ১-এর ভেতরে রয়েছে একটি ১২ ইঞ্চির সোনার প্রলেপ দেওয়া তামার রেকর্ড—'দ্য গোল্ডেন রেকর্ড'। এতে আছে পৃথিবীর ৫৫টি ভাষার শুভেচ্ছা বার্তা (যার মধ্যে বাংলাও রয়েছে) এবং প্রকৃতির নানা শব্দ, যা কোনো ভিনগ্রহের সভ্যতার উদ্দেশ্যে পাঠানো এক মহাজাগতিক টাইম ক্যাপসুল। তবে ভয়েজার ১-এর পারমাণবিক শক্তি ফুরিয়ে আসছে। ২০৩০-এর দশকের কোনো এক সময়ে এর শেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রটিও বন্ধ হয়ে যাবে এবং যানটি চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবে।
তবুও তার যাত্রা থামবে না। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৩০,০০০ বছর পর এটি সৌরজগতের শেষ সীমানা 'ওওর্ট ক্লাউড' (Oort Cloud) পার হবে। এরপর লক্ষ্যহীন এক যাযাবরের মতো কোটি কোটি বছর ধরে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে ভয়েজার ১—মহাবিশ্বের বুকে মানব সভ্যতার এক অমর নীরব প্রতিনিধি হয়ে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।
