

আমেরিকার সংস্থার বানানো যুদ্ধক্ষেত্রে চালকহীন গাড়ি। ছবি: Google
২৮শে জুলাই, ২০২৬
যুদ্ধ কি খালি ধ্বংসই করে? নাকি তা থেকে সভ্যতাও এগিয়ে যায়? বলা হয়, ধ্বংস না হলে ভাল কিছু সৃষ্টি হয় না! এবার সেটাই প্রমাণ করল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এবার আমেরিকা এমনকিছু রোবট গাড়ি বের করেছে, যেখানে কোনও চালক নেই। বারুদের গন্ধের মধ্যে এগিয়ে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো চালকহীন রোবট গাড়ি। এই যুদ্ধযান বহুক্ষেত্রে ইরান ও ইউক্রেনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এমন যুদ্ধযান তৈরি করছে আমেরিকান সংস্থা ফরতেরা। তারাই এমন স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধযান বাজারে এনেছে। তাদের তৈরি শতাধিক সেলফ-ড্রাইভিং এটিভি ৯ মাস ধরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। আমেরিকায় প্রস্তুত চালকবিহীন যুদ্ধযান এবারই প্রথম যুদ্ধের ময়দানে নেমেছে।
ফরতেরার চিফ গ্রোথ অফিসার স্কট স্যান্ডার্স এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে জানিয়েছেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই একটি স্বচ্ছতা প্রয়োজন। যতক্ষণ না আপনি যুদ্ধের বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত এর আসল কার্যকারিতা বুঝতে পারবেন না।’’
মার্কিন সেনাবাহিনীর স্বয়ংক্রিয় যান কর্মসূচির প্রধান সার্জেন্ট মেজর কোরি উইলকিন্স যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিচার করে জানান, ‘‘এখন কোথাও লুকিয়ে থাকার জায়গা নেই। ড্রোন, দূরপাল্লার কামান সবকিছুর সামনে সৈন্যরা এখন অত্যন্ত অরক্ষিত। তাই যুদ্ধের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি অতি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।’’
ইউক্রেন বাহিনী আগে থেকেই নিজস্ব প্রযুক্তিতে কিছু ব্যাটারিচালিত ছোট যুদ্ধযান ব্যবহার করছিল। তবে সেগুলো সর্বোচ্চ ২৫০ কেজি ওজন বহন করতে পারত। এর বিপরীতে মার্কিন যুদ্ধযান মূলত গ্যাসোলিন জ্বালানিচালিত। এগুলো পোলারিস এটিভির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং কাস্টম সেন্সর ও কম্পিউটিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত।
চালকবিহীন এই যানগুলো ৭৫০ কেজি পর্যন্ত গোলাবারুদ বহন করতে পারে। গত বছরের অক্টোবর থেকে ইউক্রেনে পৌঁছানোর পরে চালকবিহীন গাড়িগুলো এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি অভিযানে অংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি পথ দিয়েছে এই চালকহীন রোবট গাড়ি। এমনকী মোট ৫২ জন সেনাকে উদ্ধার করতেও সমর্থ হয়েছে।
যুদ্ধে অংশ নিলেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই গাড়ির কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। গাড়িগুলো নিজে থেকে পথ চলতে পারলেও আচমকা সামনে চলে আসা শত্রুকে চিনে নিয়ে সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার এক কর্তা বলেছেন, স্কট ফিলিপস নিজে ইউক্রেনের অপারেশন সেন্টারে গিয়ে এই যানগুলোর কার্যকারিতা দেখেছেন। খুব দ্রুত এই গাড়িগুলিতে মাইক্রোচিপ বসিয়ে সেটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবেই গাড়িগুলি মানুষের মতো যে কোনও বিষয়ে চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।
