

মামলার পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রীরা। ছবি - Google
৬ই আগস্ট, ২০২৬
দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রীদের একাংশও আইনি বিতর্কের বাইরে নন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দেশের বর্তমান ৩১ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি দু'জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে একজন কোনও না কোনও মামলায় অভিযুক্ত। তবে আইনের চোখে মামলা থাকা মানেই অপরাধী নন তাঁরা। আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তই নির্দোষ বলে গণ্য হন।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR) এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ (NEW)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রকৃতি এক নয়। কোথাও রাজনৈতিক আন্দোলন, মিছিল বা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে, কোথাও সরকারি কর্মীর কাজে বাধা, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন কিংবা জনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধির গুরুতর ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র মামলার সংখ্যা দেখে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো আইনসম্মত নয়।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি মামলার মুখোমুখি তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি। তাঁর বিরুদ্ধে ৮৯টি বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই মামলাগুলির বড় অংশ দায়ের হয়েছে বলে তাঁর শিবিরের দাবি।
এর পরেই রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু এবং কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। দু'জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ১৯টি করে মামলা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৭টি মামলা। এই তালিকায় আরও কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর নাম রয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক বিচারাধীন মামলা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামও এই তালিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তাঁর হলফনামায় ২৯টি বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার উল্লেখ রয়েছে। এর অধিকাংশই রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিক্ষোভ, পথ অবরোধ, আইন অমান্য আন্দোলন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়েছে। বিজেপির দাবি, বিরোধী রাজনীতির কারণে বহু মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের রাজনীতিতে বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মামলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বহু ক্ষেত্রে সরকার বদলের পর পুরনো মামলার তদন্তের গতি বা আইনি অবস্থানও বদলায়। ফলে মামলার সংখ্যা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হলেও, বিচারিক সত্য নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি নয়।
ADR-এর রিপোর্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, 'গুরুতর ফৌজদারি মামলা'-ও বিচারাধীন রয়েছে। খুনের চেষ্টা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, নির্বাচনী অপরাধ-সহ বিভিন্ন অভিযোগ সেই তালিকায় রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিচারপ্রক্রিয়া চলমান এবং কোনও মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীদের আইনত দোষী বলা যায় না।
জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা, সম্পদের পরিমাণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করেই ADR প্রতি বছর এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। এর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক রায় দেওয়া নয়; বরং ভোটারদের সামনে তথ্যভিত্তিক একটি স্বচ্ছ ছবি তুলে ধরা। কারণ গণতন্ত্রে শেষ সিদ্ধান্ত ভোটারের, আর আইনের শেষ কথা আদালতের।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
