

AI দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি।
৭ই আগস্ট, ২০২৬
অস্থিরতার নাম বাংলাদেশ। রাজনীতির গোলকধাঁধার নাম বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশটির তেমনই এক গোলকধাঁধার কাহিনী আবার সামনে এসে হাজির। যথারীতি এবারও বিতর্কের কেন্দ্রে নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনুস। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছিলেন তিনি। সেই পদ থেকে বিদায়ের পর প্রায় ছ'মাসের বেশি সময় কেটে গেলেও তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থামার নাম নেই।
শেখ হাসিনার বিদায় এবং জটিল পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নামে মহম্মদ ইউনুসকে বাংলাদেশের মাথায় বসিয়ে দেওয়ার গোটা পর্বটাই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল বিতর্কিত হয়ে আছে। কারণ তাঁর গ্রামীণ ব্যাঙ্কের হাত ধরে শান্তিতে ইউনুস নোবেল পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় কম নয়। প্রতারণা, দুর্নীতি, গরিবের হকের অধিকার মেরে দেওয়া সহ নানাবিধ আর্থিক ও ফৌজদারি অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত। বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশের মানুষ যেমন তাঁকে পছন্দ করেন না, তেমনই একদল অন্ধ সমর্থক নোবেল পুরস্কার দেখেই ইউনুসের নামে প্রতিদিন দু'ঢোক জল বেশি পান করেন।
এতদিন সবাই জানত বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র নেতৃত্বের ঐকান্তিক ইচ্ছায় এবং সেনাবাহিনীর সমর্থনে ইউনুস বাংলাদেশের মাথায় বসেছিলেন। কিন্তু ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা তথা বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাবিদ আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ইউনুসের নামে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান কিছুতেই সম্মতি দিতে রাজি ছিলেন না।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন, সেই সেনাপ্রধানের আপত্তিক সত্ত্বেও ইউনুসের বাংলাদেশের মাথায় বসাটা রীতিমতো অস্বাভাবিক ব্যাপার। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান যতই শেখ হাসিনাকে ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকুন না কেন, তিনি আসলে ইউনুসকে মোটেও পছন্দ করতেন না। এখানেই বিশ্বব্যাপী এক বড় ষড়যন্ত্রের কথা কেউ কেউ বলছেন।
তাঁদের মতে, প্রবল শক্তিশালী সেনাপ্রধানের আপত্তি সত্ত্বেও ইউনুস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় বসতে পেরেছিলেন, কারণ আরও বড় কোনও শক্তির আশীর্বাদের হাত তাঁর মাথায় ছিল। এটা যদি সত্যি হয় তবে তেমন বড়শক্তি বাংলাদেশে আর কেউ নেই। সেক্ষেত্রে ইঙ্গিতটা সেই মার্কিন ডিপ স্টেটের দিকেই চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ মার্কিন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই হাসিনাকে সরিয়ে তাদের পুতুল ইউনুসকে বাংলাদেশের মসনদে বসানো হয়েছিল।
আসিফ নজরুল নিজেই জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা এবং তিনি নিজে ইউনুসের পক্ষে ছিলেন। তাঁরা নিজেদের অবস্থানে চরমভাবে অনঢ় থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ঢোক গিলতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তবে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরেরও বেশি সময়ের কার্যকালে বাংলাদেশের সেনা প্রধানের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের বিষয়টি খুব পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা কেউই কাউকে বিশেষ একটা ঘাঁটাতেন না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
