

প্রতীকী ছবি -The Fourth Axis.
৭ই আগস্ট, ২০২৬
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমুদ্রসৈকতে বিকিনি সজ্জিত নারীদের দর্শন আজ অতি স্বাভাবিক ঘটনা। বরং এর উল্টোটা হলে সেটাই অস্বাভাবিক হিসেবে আজকের দিনে প্রতিভাত হয়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, বিকিনি সত্যিই বিকিনি তো?
ভালো করে ভেবে দেখুন, বিকিনির সঙ্গে মহিলাদের চিরাচরিত অন্তর্বাসের খুব কি কোনও ফারাক আছে? আজকের পৃথিবী বিখ্যাত বিকিনি তো মূলত অন্তর্বাসেরই একটি রূপ। তবে সেটা নিয়ে এত হইচই, বিশ্বজুড়ে এমন তোলপাড় ফেলা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হল কী করে? কী করে বিকিনি সমাজের উচ্চ শ্রেণির স্ট্যাটাস সিম্বলে পরিণত হল?
বিকিনির শ্রী বৃদ্ধির পেছনে লুকিয়ে আছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস। এবং অবশ্যই অত্যন্ত সুকৌশলী এক মার্কেটিং প্রোপাগান্ডা। সময়টা ১৯৪৬ সালের জুলাই মাস। ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার লুই রিয়ার্ড (Louis Réard) নিজস্ব কল্পনা মিশিয়ে একটি টু-পিস সুইমস্যুট ডিজাইন করেন। তিনি এটা তৈরি করেছিলেন নামমাত্র কয়েক টুকরো কাপড় দিয়ে। নতুন তৈরি হওয়া পোশাকটি এতটাই খোলামেলা ছিল যে, তৎকালীন কোনও পেশাদার মডেল এটি পরতে রাজি হননি; একে তাঁরা অপমানজনক ও কেলেঙ্কারি বলে মনে করেছিলেন।
বাধ্য হয়ে রিয়ার্ড প্যারিসের এক নাইটক্লাব থেকে মিশেলিন বার্নার্ডিনি (Micheline Bernardini) নামের ১৮ বছরের এক স্ট্রিপারকে এটি পরার জন্য জোগাড় করেন। তারপর বাকিটা তো ইতিহাস।
রিয়ার্ড তাঁর এই নতুন সৃষ্টির নাম দেন 'বিকিনি' (Bikini)। আসলে বিকিনি ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের 'বিকিনি অ্যাটল' (Bikini Atoll) দ্বীপ। সেই দ্বীপের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়। ওই সময় সেখানে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাচ্ছিল আমেরিকা। সেই খবরটা দেখেই উৎসাহিত হয়ে রিয়ার্ড এমন নামকরণ করেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর এই পোশাক সমাজের বুকে ঠিক পারমাণবিক বোমার মতোই এক 'বিস্ফোরক' প্রভাব ফেলুক।
শুরুতে খুব স্বাভাবিকভাবেই বিকিনি বিশ্বজুড়ে প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়। বিভিন্ন দেশের সমুদ্রসৈকতে আইন করে বিকিনি নিষিদ্ধ করা হয়। ভ্যাটিকান একে 'পাপ' বলে আখ্যা দেয়।
এরপরই শুরু হয় এক বিশাল কর্পোরেট ও মিডিয়া পুশ। হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রীদের মাধ্যমে বিকিনিকে গ্ল্যামারাস রূপ দেওয়া হয়। ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলো সুকৌশলে বিকিনিকে 'নারী স্বাধীনতার প্রতীক' হিসেবে তুলে নরতে থাকে।
১৯৪৬ সালে যে পোশাকটি পরতে পেশাদার মডেলরাও লজ্জা পেতেন, আজ সেটাই বিশ্বজুড়ে নারীদের কাঙ্খিত পোশাকের একটি হয়ে উঠেছে। যদিও বিকিনি অন্তর্বাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই ঘটনাই বুঝিয়ে দেয় মার্কেটিং ও প্রচার যন্ত্র কীভাবে তিলকে তাল, সামান্যকে অসামান্য করে তোলে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
