bike rally prohibited
২১শে এপ্রিল, ২০২৬
ভোটের আগে কড়াকড়ি আরও এক ধাপ বাড়াল নির্বাচন কমিশন। মদের দোকানে ৪৮ ঘণ্টার‘ড্রাই ডে’-র পর এবার কমিশনের নিশানায় মোটরসাইকেল!
আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে বাইক চলাচল ও র্যালির উপর একাধিক কড়া বিধিনিষেধ জারি করল মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দফতর। লক্ষ্য একটাই—ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও হিংসামুক্ত রাখা।
কীসে নিষেধাজ্ঞা
সোমবার প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে থেকেই এই কড়াকড়ি কার্যকর হবে। ওই সময় থেকে কোনওভাবেই মোটরবাইক র্যালি করা যাবে না। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের মতে, রাতের অন্ধকারে অবাঞ্ছিত জমায়েত বা দুষ্কৃতী কার্যকলাপ ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত।
শুধু র্যালি বা রাতের নিষেধাজ্ঞাই নয়, দিনের বেলাতেও রয়েছে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ। ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের পিছনে কোনও আরোহী বসানো যাবে না। ফলে কার্যত ‘এক বাইক, এক আরোহী’ নিয়ম চালু হচ্ছে। তবে চিকিৎসা পরিষেবা, স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াত বা অন্য জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিয়মে ছাড় রাখা হয়েছে।
ভোটের দিন কিছুটা শিথিলতা মিললেও নজরদারি থাকবে কড়া। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পারিবারিক প্রয়োজনে বা ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাইকের পিছনে আরোহী বসানো যাবে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটারদের বুথে পৌঁছনো যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, সেই কারণেই এই ছাড়। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনেও এই সুবিধা বহাল থাকবে।
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ, বিশেষ ছাড়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
পূর্বে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা
এদিকে, ভোটকে কেন্দ্র করে মদ বিক্রির উপরেও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে যে ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন হবে, সেখানে ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ‘ড্রাই ডে’ কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ ভোটের আগে টানা ৪৮ ঘণ্টা মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম—২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাকি ১৪২টি কেন্দ্রে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে।
বিতর্ক
কমিশনের এই যুগপৎ কড়াকড়িতে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একাংশের মতে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে এই পদক্ষেপ জরুরি। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে। তবে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট, নির্বাচনের মর্যাদা রক্ষায় কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।