

ছবি - Google
২১শে আগস্ট, ২০২৬
পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে। চারদিকে শূন্য মহাকাশ, মাধ্যাকর্ষণ প্রায় নেই। সেখানে মাঠ নেই, মাটি নেই, কৃষকের চেনা পরিবেশও নেই। অথচ সেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেই এ বার সবুজ শাকপাতা তুলে রান্না করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী অনিল মেনন। সহযাত্রী জেসিকা মিয়েরকে সঙ্গে নিয়ে মহাকাশেই ‘ফার্ম-টু-টেবিল’ অভিজ্ঞতা তৈরি করলেন তিনি।
প্রায় এক মাস ধরে মহাকাশ স্টেশনের ভিতরে চাষ করা হয়েছিল কেল এবং ওয়াসাবি মাস্টার্ড গ্রিনস। নাসার ‘Veggie’ প্ল্যান্ট-গ্রোথ সিস্টেমে বেড়ে ওঠা সেই গাছ থেকেই কয়েকটি পাতা সংগ্রহ করেন মেনন এবং মিয়ের। তার পর সেই তাজা সবুজ শাক দিয়েই তৈরি করেন খাবার। মহাকাশ থেকে সেই অভিজ্ঞতার ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন মেনন।
মেননের কথায়, এত দিন মহাকাশ স্টেশনে তাঁরা যে খাবার খেয়েছেন, তার মধ্যে এই খাবারটি তাঁদের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। ভিডিয়োটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, মহাকাশ স্টেশনে এক মাস ধরে বেড়ে ওঠা কেল ও ওয়াসাবি মাস্টার্ডের কয়েকটি পাতা তুলে তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন। নাসার Veggie দলের সাহায্যের জন্যও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই চাষাবাদ নিছক শখের বিষয় নয়। এর পিছনে রয়েছে ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের বড় বিজ্ঞান। পৃথিবীর বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে মহাকাশচারীদের জন্য খাবার সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়সাপেক্ষ। চাঁদ, মঙ্গল বা তারও দূরের অভিযানে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর মহাকাশে থাকতে হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে মহাকাশেই যদি কিছুটা খাবার উৎপাদন করা যায়, তা হলে পৃথিবী থেকে খাবার পাঠানোর উপর নির্ভরতা কমবে।
কিন্তু মহাকাশে গাছপালা জন্মানো সহজ নয়। পৃথিবীতে গাছের শিকড়, জল এবং মাটির সঙ্গে মাধ্যাকর্ষণের সম্পর্ক রয়েছে। মহাকাশের মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে সেই স্বাভাবিক পরিবেশ থাকে না। তাই কোন গাছ কী ভাবে বেড়ে ওঠে, কতটা আলো ও জল প্রয়োজন, উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং পুষ্টিতে মহাকাশের পরিবেশের কী প্রভাব পড়ে, সেই সবই খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
তাজা শাকসব্জির আর একটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ মহাকাশযাত্রায় প্যাকেটজাত খাবারের পাশাপাশি তাজা খাবার মহাকাশচারীদের পুষ্টির জোগান বাড়াতে পারে। শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। পৃথিবীর খাবারের গন্ধ, স্বাদ এবং তাজা সবুজ খাবারের উপস্থিতি দীর্ঘ একাকী মহাকাশযাত্রায় মহাকাশচারীদের মনোবলও বাড়াতে পারে।
মেননের এই অভিজ্ঞতায় তাই বিজ্ঞানের পাশাপাশি খানিকটা কল্পবিজ্ঞানের ছোঁয়াও রয়েছে। ভিডিয়ো প্রকাশের সময় তিনি মজা করে ‘দ্য মার্শিয়ান’ ছবির কাল্পনিক মহাকাশচারী মার্ক ওয়াটনি-র কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলগ্রহে আলু চাষ করে বেঁচে থাকার সেই কাহিনির সঙ্গে বাস্তব মহাকাশে সবজি ফলানোর এই পরীক্ষার যেন অদ্ভুত মিল।
এক সময় মহাকাশে মানুষ কী ভাবে বাঁচবে, সেটাই ছিল কল্পবিজ্ঞানের প্রশ্ন। এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মহাকাশচারীরাই হয়ে উঠছেন কৃষক। মহাকাশে গাছ জন্মাচ্ছে, সেই গাছের পাতা তুলে রান্নাও হচ্ছে। আজকের এই ছোট্ট পরীক্ষা হয়তো আগামী দিনের চাঁদ বা মঙ্গল অভিযানে মানুষের নিজের খাবার নিজে উৎপাদনের পথ খুলে দিতে পারে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
