

উসেইন বোল্ট। ছবি - Google
২১শে আগস্ট, ২০২৬
উসেইন বোল্ট আবারও আলোচনায়। তাও এমন একটা দিনে যেদিন আবার তাঁর ৪০তম জন্মদিন। ২১ আগস্ট এই কিংবদন্তি অ্যাথলিট জন্মেছিলেন জামাইকার শেরউড প্রভিন্সে। যিনি বেজিং অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়েছিলেন ৯.৫৮ সেকেন্ডে। যাঁর ওই দৌড় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ইতিহাসে রূপকথা হয়ে রয়ে গিয়েছে।
বোল্টের আগেও বহু অ্যাথলিট এসেছেন, পরেও আসবেন। কিন্তু ওই সময়ে যে কোনও মানব অ্যাথলিট দৌড়তে পারেন, সেটি কেউ কোনওদিন ভাবতেই পারেননি। বোল্টের ওই দৌড় দেখে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, তিনি যেন বাতাসের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ফিনিশিং পয়েন্টে পৌঁছে গেলেন!
সেই বোল্ট এবার বলছেন, তিনি দেশের হয়ে আবারও মাঠে নামবেন। সেটি কী করে সম্ভব? বোল্ট এর আগে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল দলের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দলের ফুটবলারদের সঙ্গে শিবিরেও ছিলেন। পাশাপাশি একবার বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে প্র্যাকটিসও করেছিলেন। সেই বোল্ট এবার বলছেন, তিনি দেশের হয়ে ক্রিকেট মাঠে নামবেন, তাও সেটি নিজের দেশ জামাইকার হয়ে।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভূত হতে চলেছে। সেই আসরে তিনি ক্রিকেট খেলতে চান। একটা সময় তিনি পেসার হতে চেয়েছিলেন। জামাইকা মানেই একটা সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই বিশ্বত্রাস পেসারদের কথা মনে চলে আসে। সেই জায়গায় কেউ ক্রিকেটার হতে চাইবেন, সেটি অস্বাভাবিক নয়। বোল্টের পছন্দের বোলার ছিলেন অবশ্য পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনিস। তাঁর সুইং, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ফ্যান ছিলেন বোল্ট।
জামাইকার এই প্রবাদপ্রতীম অ্যাথলিট, যিনি চারটি অলিম্পিক থেকে দেশকে এনে দিয়েছেন মোট ৮টি পদক, যারমধ্যে আবার ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বরেকর্ডও দখলে তাঁর। বোল্টের এই আধিপত্যকে ছোট করতে চিনের রোবোটিক্স সংস্থা ইউনিট্রি তৈরি করেছে ‘সুপারম্যান’ নামে এক অত্যাধুনিক রোবট। মাত্র তিন মাসে তৈরি করা হয়েছে সুপারম্যানকে।। ইউনিট্রি জানিয়েছে, রোবট তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু তারমধ্যেই গোটা দুনিয়াকে চমকে দিয়েছে তারা। চিনের ওই সংস্থা দাবি করেছে, বোল্ট এক সেকেন্ডে ১২.৪২ মিটার পাড়ি দিতে পারতেন দৌড়ে। কিন্তু এই রোবট এক সেকেন্ডে ১২.৬৬ মিটার এগোতে পারে। ১০০ মিটারের দৌড়ে অনায়াসেই বোল্টকে হারাতে পারে ওই সুপারম্যান নামক রোবট।
শুধু দৌড় নয়, পাশাপাশি লাফ দিয়ে ২ মিটার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে এই রোবট। হাই জাম্পের ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড রয়েছে জাভিয়ের সোতোমায়েরের। ২.৪৫ মিটার লাফিয়েছিলেন তিনি। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই রেকর্ড রয়েছে ইয়ারোস্লাভা মাহুচিখের। তিনি লাফিয়েছিলেন ২.১০ মিটার। তাঁদেরও চোখ রাঙাচ্ছে ওই রোবট।
কেন বোল্ট বাকি দৌড়বিদের থেকে আলাদা, সেটি কয়েকটি পরিসংখ্যানেই বোঝা যাবে। বোল্টের আগে কোনও পুরুষ স্প্রিন্টার অলিম্পিকে দুবার স্প্রিন্ট ডাবল জেতেননি, ২০০ মিটারে দুটি সোনাও নয়। বোল্ট জিতেছেন তিনবার।
১০০ ও ২০০ মিটার এবং রিলের ‘ট্রিপল’ কারও একবারের বেশি পাওয়া হয়নি, সেখানে বোল্ট তিনবার তা জিতে ‘ট্রিপল ট্রিপল’ কথাটার সঙ্গে সারা বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি অনন্য। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কারওর একবারের বেশি স্প্রিন্ট ডাবল জয়ের কীর্তি নেই। বোল্ট সেখানে জিতেছেন ছ’বার।
বোল্টের সম্পর্কে সাংবাদিকদের কখনই বিশেষ বিশেষণ খুঁজতে হয়নি। ম্যাজিক বোল্ট, বিদ্যুৎ বোল্ট বিশেষণ লেখার জন্য বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। লন্ডন অলিম্পিকে এসেই বলেছিলেন, ‘‘এবার “স্প্রিন্ট ডাবল” জিতলে আমি হব “কিংবদন্তি”।’ ২০১৬ সালের রিওতে এসে বলেছিলেন, ‘‘এবারও যদি ট্রিপল হয়, আমি হব “অমর”।’ জীবনের শেষ মিটে নতুন একটা স্লোগান নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর রানিং শুতেও লেখা ছিল, ফরএভার ফাস্টেস্ট!
সত্যিই তিনি সেরাদের মধ্যেও বিরলতম, তাই তিনি ব্যতিক্রমী এক মানব রোবট, যাঁকে হারাতে চিন যতই সুপারম্যান বানাক না কেন, তাঁর মহিমা কোনওদিনই বিলীন হবে না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
