

মহানায়ক উত্তম কুমার। ছবি - Google
৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬
উত্তম কুমার কেন ‘ম্যাটিনি আইডল’, সেটি তাঁর জন্মশতবর্ষে এসে ভাল করে বোঝা যাচ্ছে। তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে যে ক্যানভাস এঁকেছেন, তা আগামী হাজার বছরেও অম্লান থাকবে। তিনি এখনও সকলের কাছে সমান জনপ্রিয়, ৪৬ বছর এই পৃথিবীতে না থেকেও।
উত্তমের একেকটি সৃষ্টি কালজয়ী হয়ে রয়েছে। তিনি শুধু সিনেমা করেননি, তিনি বিভিন্ন প্রতিভারও অধিকারী ছিলেন। মহানায়ক ভাল গান করতেন, ভাল লেখক ছিলেন। তাঁর আত্মজীবনী ‘হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি মোর...’ এখনও বেস্ট সেলার বইগুলির মধ্যে একটি। সেই বইতে তিনি বুঝিয়েছেন সুলেখক হওয়ারও সব গুণ ছিল তাঁর।
এমনকী উত্তম কুমার (আসল নাম অবশ্য অরুণ চট্টোপাধ্যায়) ভাল টেনিস ও ফুটবলও খেলতেন। ‘বিচারক’ ছবির জন্য তিনি টেনিস খেলা শিখেছিলেন দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত সাউথ ক্লাবে। ফুটবলে তালিম পেয়েছিলেন প্রিয় বন্ধু প্রয়াত চুনী গোস্বামীর থেকে। ‘সপ্তপদী’ সিনেমায় কৃষ্ণেন্দুর ভূমিকায় যিনি ফুটবল খেলছেন, পর্দায় সেই ভূমিকায় ছিলেন চুনী। তাঁর পা-ই দেখানো হয়েছে, মুখ ছিল উত্তমের। সেই সুপারহিট সিনেমার আগে উত্তমকে অনেকবারই কলকাতা ময়দানে দেখা গিয়েছিল চুনীর সঙ্গে, তিনি ফুটবলের পাঠও নিয়েছিলেন ওই সেরা তারকার থেকে।
ওই কালজয়ী সিনেমায় পরিচালক দেখিয়েছিলেন স্বাধীনতা পূর্ব ভারতে ব্রিটিশদের ফুটবল মাঠে হারিয়েছিলেন এক মেধাবী কিশোর, তিনি শুধু মেধায় নয়, মাঠেও কাত করেছিলেন ক্লেটন নামে এক সাহেবকে। পর্দায় দেখা গিয়েছিল, ক্লেটন নামের সেই তরুণ ছুটে চলেছেন। গোলমুখী তাঁর দৌড় থামাতে আপ্রাণ লড়াই প্রতিপক্ষের। সবাইকে পরাস্ত করে বিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করছে। সেইসময়ও পর্দায় কৃষ্ণেন্দু রূপী উত্তমকে দেখা যায়নি। ক্লেটন একটা গোল করতেই গ্যালারিতে নায়িকা সুচিত্রা সেন রিনা ব্রাউনের ভূমিকায় উল্লাসে মত্ত, বলছেন, ‘মুভ অন ক্লেটন, মুভ অন...।’
তীব্র চিৎকারের মধ্যেই ফুটবলার কৃষ্ণেন্দুর ভূমিকায় উত্তম অনবদ্য, যিনি আটপৌরে বাঙালি হয়েও ব্রিটিশ ক্লেটনকে পদানত করেছিলেন। নায়ক কৃষ্ণেন্দু শুধু গোল শোধই করেননি, জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সেই থেকেই রিনার সঙ্গে তাঁর তর্ক, তারপরে গভীর প্রেম।

একেকটি অভিনয়ের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়ের ‘আসল’ নায়ক। তিনি বিচারক ছবিতে ভূমিকার প্রয়োজনের জন্য টেনিস খেলা শিখে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সিনেমায় দেখা গিয়েছে নায়িকা অরুন্ধতী দেবীর সঙ্গে একই মঞ্চে টেনিসের সেরার পুরস্কার গ্রহণ করছেন। আবার ‘ইস্টবেঙ্গলের মেয়ে’ ছবিতে উত্তমের সেই অনবদ্য সংলাপ, ‘‘বগা পেনাল্টি বাইরে মার... আমরা পেনাল্টিতে গোল করি না।’’ সেগুলি এখনও অমর হয়ে রয়েছে।
পাশাপাশি ইডেনে শিল্পী সংসদের প্রতিটি বেনিফিট ম্যাচে উত্তম কুমারকে দেখা গিয়েছে। তিনি যে ভাল ক্রিকেটও খেলতে পারতেন, সেটি একবার সাক্ষাৎকারে রঞ্জিত মল্লিক বলেছিলেন। সেই চ্যারিটি ম্যাচে অমিতাভ বচ্চন, দিলীপ কুমার, রাজ কাপুররাও মাঠে ছিলেন। উত্তম নিখাদ মোহনবাগান প্রেমী ছিলেন, সেটিও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তিনি বহুবারই মোহনবাগান মাঠে দর্শক হিসেবে গিয়েছেন। তবে তাঁকে ঘিরে জনতার এমন পাগলপারা উন্মাদনা দিন দিন বাড়তে থাকে। তাই একটা পর্যায়ের পর আর মাঠমুখী হওয়ার সাহস পেতেন না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
