১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
জিডিপি বৃদ্ধির দাবি কি কেবলই সংখ্যার মারপ্যাঁচ?

জিডিপি বৃদ্ধি কি কেবলই সংখ্যার মারপ্যাঁচ? ছবি - AI

জিডিপি বৃদ্ধির দাবি কি কেবলই সংখ্যার মারপ্যাঁচ?

calender icon 2 ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মূল বিষয়

কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের ঢাকঢোল পেটানো আর বাস্তব পরিস্থিতির ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সম্প্রতি পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) দাবি করেছে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভিত্তি সংখ্যা ক্রমাগত কমিয়ে এবং মূল্যবৃদ্ধির হিসেব চেপে রেখে এই মনভোলানো বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। পূর্বের হিসেব কাটছাঁট না করা হলে এবং মূল্যস্ফীতি সঠিকভাবে গণ্য করলে বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় শূন্যের কোঠায় দাঁড়াত।

ভিত্তি সংখ্যা কমানোর কৌশল, স্ফীত বৃদ্ধি

কংগ্রেস সাংসদ ও দলের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, যে ভিত্তি সংখ্যার (denominator) ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হয়, তাকে দফায় দফায় চারবার কমানো হয়েছে।

গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের অর্থনীতি যেখানে প্রায় ৮৬ লক্ষ কোটি টাকার ছিল, তা সংশোধন করে নামিয়ে আনা হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক ধাক্কায় হিসেব থেকে খসিয়ে ফেলা হয়েছে ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা বাজেটের তিনগুণেরও বেশি। ভিত্তি বা আগের বছরের মাপকাঠি যত ছোট হবে, চলতি বছরের বৃদ্ধির শতাংশ তত বেশি আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল দেখাবে—একে অর্থনৈতিক বিকাশ না বলে নেহাত অঙ্কের খেলা বলেই দাবি করেছেন রমেশ।

প্রাক্তন অর্থ সচিবের পর্যবেক্ষণ ও বিভ্রান্তি

আরও পড়ুন
মধ্যবিত্তের প্রথম চাকরিতে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে AI?
‘কিছু না করা’র নিরাপদ পথে ভারতের আমলারা
কম পেগ, বেশি খরচ: জেন জি কীভাবে বদলে দিচ্ছে মদের বাজার?

কেন্দ্রের বৃদ্ধির দাবি নিয়ে একই প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গও। তাঁর মতে, আগের বছরের সংখ্যা যদি এভাবে কমিয়ে না আনা হতো, তবে নমিনাল বা নামমাত্র বৃদ্ধির হার দাঁড়াত বড়জোর ২.৬ শতাংশের আশেপাশে। সেখান থেকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দিলে প্রকৃত বৃদ্ধি শূন্যের কাছাকাছি নেমে যায়।  যদিও পরবর্তীতে অপর এক সাক্ষাৎকারে গর্গ জানান যে প্রবৃদ্ধি একেবারে শূন্য না হলেও তা বাস্তবিকভাবে ৪ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয়। নমিনাল জিডিপির তুলনায় মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে যে প্রকৃত জিডিপি নির্ধারণ করা হয়, সেটাই অর্থনীতির আসল ছবি তুলে ধরে বলে তাঁর মত।

চার বছরে ৪৩ লক্ষ কোটি টাকার সংশোধন: উঠছে অস্বস্তিকর প্রশ্ন

রমেশ অভিযোগ করেন, ২০২২ থেকে ২০২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ত্রৈমাসিক হিসেবই পেছনের তারিখে গিয়ে কমানো হয়েছে। প্রতি বছর জিডিপির হিসেব ৮ থেকে ১২ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গত চার বছরে প্রায় ৪৩ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক কার্যকলাপ খাতায়-কলমে ছাঁটাই করা হয়েছে, যা মহারাষ্ট্রের মতো দেশের বৃহত্তম রাজ্য অর্থনীতির সমান।  কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রশ্ন, নতুন ভিত্তিবর্ষ বা পদ্ধতি পরিবর্তনের নাম করে কীভাবে দেশের অর্থনীতির আকার থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে গেল? এর অর্থ কি গত চার বছর ধরে দেশবাসীর সামনে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য পেশ করা হচ্ছিল? 

মূল্যবৃদ্ধির হিসেবে কি ফারাক ঢাকা হচ্ছে?

আর্থিক বৃদ্ধির হিসেবে মূল্যস্ফীতির যে রূপ (GDP Deflator) সরকার ব্যবহার করেছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। যেখানে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ৩.৯ শতাংশ এবং পাইকারি মূল্যস্ফীতি ৯.৪ শতাংশে দাঁড়িয়ে, সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক খরচ আকাশছোঁয়া, সেখানে জিডিপি ডিফ্লেটর হিসেবে ধরা হয়েছে মাত্র ২.৫ শতাংশ।  বাস্তব বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি হিসেবের মধ্যে ফারাক সাধারণত ১ থেকে ১.৫ শতাংশ হলেও এবার তা রেকর্ড ব্যবধানে দাঁড়িয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন খরচের বাস্তব ছবি হিসেব করা হলে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি বড়সড় ধাক্কা খাবে বলেই বিরোধীদের দাবি।

কোন কোন ক্ষেত্রে এই ছাঁটাই?

মন্ত্রক এই সংশোধনের কারণ হিসেবে ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের কথা বললেও কোন কোন ক্ষেত্রে এই ধাক্কা লেগেছে, তার স্পষ্ট কোনো খতিয়ান মেলেনি। যে ৬ লক্ষ কোটি টাকা আগের হিসেবে থেকে সরিয়ে নেওয়া হল, তা কৃষি, পরিষেবা, শিল্প নাকি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র থেকে কাটা হয়েছে—সেই প্রশ্ন তুলেছেন সুভাষচন্দ্র গর্গও। পরিসংখ্যানগত এই অস্পষ্টতার উত্তর কেন্দ্র কীভাবে দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য