

AI-এর কোপে এন্ট্রি লেভেল চাকরি ! প্রতীকী ছবি - Google
৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারতের মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে প্রথম চাকরি কেবল মাসের শেষে একটা মাইনের অঙ্ক নয়। এটা আর্থিক স্বাবলম্বনের প্রথম স্বাদ, পেশাদার দুনিয়ার নিয়মরীতি চেনার প্রথম সুযোগ এবং ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু সেই চেনা শুরুর পথটাই যদি প্রযুক্তির ঝড়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়?
এআই-এর থাবা ও হারিয়ে যাওয়া প্রথম ধাপ
এতদিন ক্যারিয়ারের সিঁড়িটা ছিল একেবারে স্পষ্ট—কলেজের পড়াশোনা শেষ করে একজন তরুণ রুটিন কাজ দিয়ে শুরু করতেন, সিনিয়রদের কাজ দেখতে দেখতে হাত পাকাতেন এবং ধীরে ধীরে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিতেন। আজ সেই চেনা ছকটাই ভেঙে পড়ছে।
ট্যালেন্টিফাই-এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও চেতন মঙ্গলভেদের মতে, কৃত্রিম মেধা মধ্যবিত্তের ক্যারিয়ারের সেই প্রথম সিঁড়িটাই মুছে ফেলছে। সংস্থাগুলি আজ খরচ কমাতে একঘেঁয়ে ও রুটিন কাজের জন্য নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ করছে। ফলে আজ হয়তো কিছু খরচ বাঁচছে, কিন্তু কালকের জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বের স্বাভাবিক জোগানটাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে।
বদলাচ্ছে ফ্রেশারদের ভূমিকার সংজ্ঞা
এখন আর কোনো সংস্থায় ঢুকে ধীরে-সুস্থে কাজ শেখার অবকাশ মিলছে না। চেতন মঙ্গলভেদের কথায়, নতুন কর্মীদের থেকে শুরুতেই চাওয়া হচ্ছে এআই-এর ভুল ধরার দক্ষতা, নিজস্ব বিচারবুদ্ধি এবং গ্রাহকের মনস্তত্ত্ব বোঝার মতো অভিজ্ঞতা।
মাসটেক-এর সিএইচআরও বিমল ডাঙরি মনে করেন, পুরনো চাকরি আঁকড়ে ধরে বসে থাকার চেয়ে কাজের কাঠামো নতুন করে সাজানোই একমাত্র পথ। আগামী দিনে কাজের সুযোগ টিকে থাকবে ঠিকই, তবে তা আর পুনরাবৃত্তিমূলক ডেটা এন্ট্রি বা সাধারণ কোডিংয়ে আটকে থাকবে না। নজর দিতে হবে সমস্যা সমাধান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্রুত নতুন বিষয় শিখে নেওয়ার দক্ষতার ওপর।
এই রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে এআই অ্যান্ড বিয়ন্ড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জসপ্রীত বিন্দ্রা জানান, আসল লড়াই এআই বনাম মানুষের নয়; লড়াইটা হলো যারা এআই-কে সঙ্গী করে নিজেকে বদলাতে পারবে না, তাদের ছিটকে যাওয়ার বিরুদ্ধে।
নতুন সম্ভাবনার আলো, নাকি অভিজ্ঞতার এক গোলকধাঁধা?
এআই কি তবে শুধুই দরজা বন্ধ করছে? ইনফোসিস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ তৃপ্তি রাইকার বিষয়টিকে অন্য আলোয় দেখছেন। তাঁর মতে, রুটিন কাজগুলো যদি যন্ত্র সামলে দেয়, তবে তরুণ কর্মীরা চাকরি জীবনের শুরুতেই উদ্ভাবন, ডিজাইন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো অনেক বেশি অর্থবহ কাজের সুযোগ পাবেন।
কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তব সংকট। ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপক্বতা কোনোদিন জন্মায় না; গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি কথা না বলে তাঁদের চাওয়া-পাওয়া বোঝা যায় না। মাটি কামড়ে ছোট ছোট কাজ করে যে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, তা ছাড়া কোনো পেশাদার গড়ে উঠতে পারে না।
কৃত্রিম মেধার সবচেয়ে বড় আঘাত হয়তো কেবল কতগুলো পদ বিলুপ্ত হলো সেই সংখ্যায় নয়। আসল সংকট লুকিয়ে রয়েছে সেই চেনা পরিমণ্ডলে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ভুল করতে করতে দক্ষ পেশাদার হয়ে ওঠার সুযোগ দিত। প্রথম সুযোগটাই যদি আর না থাকে, তবে আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরি হবে কোন কারখানায়?
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
