

চিনে বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংয়ে বিজ্ঞানীদের মুখ! ছবি - Google
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আধুনিক নগরের আকাশরেখা তাকালেই চোখে পড়ে অতিকায় হোর্ডিং ও বিজ্ঞাপনী পর্দা। সেখানে জ্বলজ্বল করে চিত্রতারকা, ক্রিকেটার কিংবা ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতাদের মুখ। সাধারণ সমাজেও সফলতার প্রতীক বলতে আমরা তাঁদেরই চিনে অভ্যস্ত। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ চিনে চোখে পড়ছে এক অভিনব দৃশ্য। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের ভিড়ে বড় বড় ডিজিটাল বিলবোর্ডে তুলে ধরা হচ্ছে বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতি ও তাঁদের যুগান্তকারী গবেষণার বিবরণ। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত রূপকারদের গণপরিসরে এভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— চিন যদি বিজ্ঞানীদের জাতীয় আইকন হিসেবে তুলে ধরতে পারে, তবে ভারত কেন নয়?
চিনের শানডং প্রদেশ থেকে শুরু হয়ে আনহুই, জিয়াংসি কিংবা ইনার মঙ্গোলিয়ার মতো জনবহুল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিশেষ অভিযান। শপিং মল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংযোগস্থলের বিশালাকার স্ক্রিনে এখন জ্বলজ্বল করছে দেশের কৃতী গবেষকদের মুখ:
কিয়ান শুইসেন (Qian Xuesen): চিনা রকেট বিজ্ঞানের জনক ও মহাকাশ কর্মসূচির দিশারী।
তু ইউইউ (Tu Youyou): ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ আবিষ্কারের জন্য নোবেলজয়ী চিকিৎসাবিজ্ঞানী।
ইউয়ান লংপিং (Yuan Longping): হাইব্রিড ধানের আবিষ্কারক, যিনি দেশের খাদ্য সুরক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।
বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এমন দৃশ্যমান সম্মান সাধারণ মানুষকে এতটাই আকৃষ্ট করেছে যে, পথচলতি মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম বিলবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। বিজ্ঞানীদের প্রতি এই তারকা-সুলভ সম্মান সমাজে গবেষণার মর্যাদা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। স্যার সি. ভি. রমন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম পর্যন্ত বহু নক্ষত্র বিশ্বমঞ্চে দেশকে গর্বিত করেছেন। এছাড়া চন্দ্রযান অভিযান কিংবা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করোনা টিকা (কোভ্যাক্সিন)-এর মতো ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মেধার উজ্জ্বল প্রমাণ।
তা সত্ত্বেও ভারতে এই বিজ্ঞানীদের গণপরিচিতি অত্যন্ত সীমিত। কর্পোরেট প্রচার এবং গণমাধ্যমে ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র তারকা ও রাজনৈতিক নেতাদের যে দৃশ্যমানতা থাকে, তার সিকিভাগও পান না দিন-রাত ল্যাবে পড়ে থাকা গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। কোভ্যাক্সিনের মতো জীবনদায়ী প্রতিষেধক তৈরির পেছনে ঠিক কোন গবেষকদের অবদান ছিল, তা অধিকাংশ দেশবাসীর কাছে আজও অজানা।
আমরা যাদের প্রতিদিনের প্রচারমাধ্যমে দেখি, তাদেরই জীবনের আদর্শ বা ‘রোল মডেল’ ভাবতে শিখি।
দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর: শিশুরা যদি শহরের বড় বড় মোড়ে কেবল বিজ্ঞাপন ও বিনোদন জগতের মুখ দেখে, তবে তাদের স্বপ্নের পরিধিও সেই বৃত্তেই সীমাবদ্ধ থাকে।
অনুপ্রেরণার উৎস: রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি যদি ড. কালাম কিংবা সমসাময়িক বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সেনা কর্মকর্তা ও উদ্ভাবকদের আত্মত্যাগ ও সাফল্যের গল্প নিয়মিত প্রদর্শিত হয়, তবে তা তরুণ মনে গবেষণামূলক ও সেবামূলক কাজের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি করবে।
এটি কেবল সম্মান জানানোর বিষয় নয়; এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় ব্রতী করার অন্যতম প্রভাবশালী মনস্তাত্ত্বিক মাধ্যম।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল দেশ। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হতে গেলে কেবল গবেষণার জন্য বাজেট বরাদ্দ করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠন।
গবেষকদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি: দেশের গবেষকরা যখন বুঝবেন সমাজ তাঁদের কাজকে ক্রিকেট বা সিনেমার মতোই মূল্য দিচ্ছে, তখন মেধা পাচার (Brain Drain) রোধে তা সহায়ক হবে।
কুসংস্কারমুক্ত চিন্তাভাবনা: বিজ্ঞানীদের কথা সমাজের মূলধারায় তুলে ধরলে তা নাগরিকদের মধ্যে যুক্তি ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব বাড়িয়ে তুলবে।
কাজের বহুমুখী মূল্যায়ন: রাজনীতি ও বিনোদনের বাইরেও যে উদ্ভাবন, সেবা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাতীয় নায়ক হওয়া যায়—এই বার্তাটি প্রতিষ্ঠা পাবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
