

ছবি - AI
২১শে আগস্ট, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে যখন প্রযুক্তির জয়জয়কার, ঠিক তখনই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এক অপ্রত্যাশিত সমস্যা—কম্পিউটার মেমরির আকাশছোঁয়া দাম। গত এক বছরে কিছু বিশেষ মেমরির দাম প্রায় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন ভারতীয় বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা 'জোহো' (Zoho)-র প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ মেমরির চড়া দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রীধর ভেম্বু। তিনি জানান, এতদিন জোহো তাদের পরিষেবার দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, মেমরি ও এআই টোকেনের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে এখন আর তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টারের পেছনে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে। আধুনিক এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে এবং ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক উত্তর জোগাতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ মেমরি। ফলে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমরি (HBM) ও সার্ভার-গ্রেড DRAM-এর চাহিদা এখন তুঙ্গে। চিপ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোও লাভজনক এই উন্নত মেমরি তৈরিতে বেশি নজর দেওয়ায় সাধারণ মেমরির বাজারে জোগান কমে গেছে। উদাহরণ হিসেবে, ১২৮ জিবি DDR5-6400 কিটের দাম অতীতে প্রায় ৩২৯ ডলার থাকলেও তা বেড়ে ৩,৩৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।
ভেম্বুর মতে, সমস্যাটি শুধুই দামি হার্ডওয়্যারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর শিকড় লুকিয়ে আছে সফটওয়্যার তৈরির অভ্যাসে। এতদিন ডেভেলপাররা ধরে নিয়েছিলেন যে কম্পিউটারের মেমরি সহজলভ্য ও সস্তা। সেই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই বহু আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষা ও সফটওয়্যার গড়ে উঠেছে, যা প্রচুর মেমরি খরচ করে।
* প্রোগ্রামারদের এখন এমন ভাষা ও স্মার্ট কম্পাইলার ব্যবহারে জোর দিতে হবে, যা কম মেমরিতে কাজ করতে পারে।
* সফটওয়্যারের নিরাপত্তা বা কাজ দ্রুত করার অজুহাতে অতিরিক্ত মেমরি অপচয় করা আর চলবে না।
* কোডিংয়ের দক্ষতা বাড়িয়ে হার্ডওয়্যারের ওপর চাপ কমানো এখন সময়ের দাবি।
মেমরি ও সেমিকন্ডাক্টরের এই টানাপোড়েনের প্রভাব কেবল সফটওয়্যার নয়, পড়ছে স্মার্টফোন ও পিসি বাজারেও। ট্রেন্ডফোর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাধারণ DRAM ও NAND Flash-এর চুক্তিভিত্তিক দামও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
১. পরিকাঠামোর বাড়তি খরচ নিজেরা বহন করা।
২. গ্রাহকদের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়ে সেবার দাম বাড়িয়ে দেওয়া।
৩. সফটওয়্যারকে নতুন করে এমনভাবে সাজানো যাতে তা কম সম্পদে চলতে পারে।
ভেম্বু মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে তৃতীয় পথটি বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উন্মাদনা প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে—যন্ত্রকে যত বেশি বুদ্ধিমান করার চেষ্টা চলছে, যন্ত্রের বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদটিই হয়ে উঠছে তত বেশি দুর্মূল্য।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
