২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

হিমশীতল অ্যান্টার্কটিকায় লুকিয়ে ক্যান্সারের ‘যম’!

হিমশীতল অ্যান্টার্কটিকায় লুকিয়ে ক্যান্সারের ‘যম’!

সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মিলল মেলানোমা ধ্বংসের চাবিকাঠি। ছবি - Sam Affoullouss, USF

হিমশীতল অ্যান্টার্কটিকায় লুকিয়ে ক্যান্সারের ‘যম’!

সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মিলল ক্যান্সারের এন্টিডোট

অ্যান্টার্কটিকার হিমশীতল মহাসাগরের তলদেশে লুকিয়ে রয়েছে মেলানোমা বা মারাত্মক স্কিন ক্যান্সারের চিকিৎসায় এক নতুন আশার আলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (USF), ডেজার্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশেনোগ্রাফির একদল গবেষক বরফাবৃত অ্যান্টার্কটিকার প্রায় ৮০ ফুট গভীরে এক বিশেষ প্রজাতির 'সি স্কুইর্ট' বা সামুদ্রিক অ্যাসিডিয়ানের (Ascidian) সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই প্রাণীর শরীরে এক বিশেষ ধরণের ব্যাকটেরিয়া বাস করে, যা থেকে ‘পালমেরোলাইড এ’ (Palmerolide A) নামক একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান উৎপন্ন হয়।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী দক্ষিণ মেরুর প্রায় ৮০ ফুট গভীর সমুদ্রের তলদেশ থেকে খুঁজে পেয়েছেন এক অদ্ভুত জীব—‘সি স্কুইর্ট’ বা সামুদ্রিক অ্যাসিডিয়ান। থলির মতো দেখতে এই প্রাচীন প্রাণীটিই এখন বিশ্বজুড়ে লাখো স্কিন ক্যান্সার রোগীর বাঁচার আশা জাগাচ্ছে।

সুস্থ কোষ সুরক্ষিত রেখেই মরবে ক্যান্সার

আরও পড়ুন

হান্টাভাইরাস আসলে কী? কেন এটা কোভিডের থেকে আলাদা?

বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এই সি স্কুইর্ট লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের শরীরে এক বিশেষ ব্যাকটেরিয়া বহন করে চলেছে। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় ‘পালমেরোলাইড এ’ নামক এক শক্তিশালী রাসায়নিক যৌগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে যা এক নজিরবিহীন ম্যাজিক দেখাতে চলেছে। ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই যৌগটি মানুষের শরীরে থাকা মেলানোমা বা মারাত্মক ত্বকের ক্যান্সারের কোষগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বেছে বেছে ধ্বংস করতে পারে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, ক্যান্সারের কোষ মারলেও এটি মানুষের অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক কোষের বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি করে না।

ল্যাবরেটরিতে দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি

গবেষক দলের প্রধান, রসায়নের অধ্যাপক বিল বেকারের মতে, ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এই নিখুঁত নির্বাচনী ক্ষমতা বা ‘সিলেক্টিভিটি’ অত্যন্ত বিরল এবং জরুরি। কারণ এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ মেলানোমায় মারা যান, যা ২০৪০ সালের মধ্যে ৯৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা আশ্চর্য জীব

অ্যান্টার্কটিকার হিমশীতল জল, শূন্য দৃশ্যমানতা আর হিংস্র লেপার্ড সিলের তাড়া খাওয়া এড়িয়ে টানা ছয় সপ্তাহ ধরে এই নমুনা সংগ্রহ করেছেন ডুবুরিরা। তবে সুখবর হল, বিজ্ঞানীদের এখন আর এই ওষুধ তৈরির জন্য বারবার অ্যান্টার্কটিকায় যেতে হবে না। তারা এই ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ (DNA) রহস্য ভেদ করে ফেলেছেন। ফলে এখন গবেষণাগারেই কৃত্রিম উপায়ে এই জীবনদায়ী উপাদানটি বিপুল পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রকৃতির বুক থেকে মানবজাতিকে বাঁচানোর এই লড়াই সফল হতে হয়তো আর মাত্র কয়েকটা বছর, তারপরই সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে স্কিন ক্যান্সারের মোক্ষম অস্ত্র।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য