hantavirus-update-
১৩ই মে, ২০২৬
আর্জেন্টিনা থেকে ছেড়ে আসা নেদারল্যান্ডসের প্রমোদতরী 'এমভি হন্ডিউস' (MV Hondius) এখন গভীর সমুদ্রে এক অজানা আতঙ্কের নাম। জাহাজটিতে হান্টাভাইরাসের (Hantavirus) প্রাদুর্ভবে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগোচ্ছে।
সংক্রমণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে মোট আটজন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বুধবার তিনজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেদারল্যান্ডসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৫০ জন যাত্রী বর্তমানে নিজেদের কেবিনে আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হল, জাহাজে থাকা বাকিদের মধ্যে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।
সংক্রমণের উৎস: একটি বার্ড-ওয়াচিং ট্যুর?
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এক ডাচ দম্পতি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়াতে একটি আবর্জনার স্তূপে পাখি দেখার সময় ইঁদুরের বিষ্ঠা থেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেখান থেকেই জাহাজে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। হন্তভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল-মূত্র বা লালা থেকে ছড়ায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি **'আন্দিজ' (Andes)** ভ্যারিয়েন্ট, যা বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে।
উপসর্গ ও ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাসের লক্ষণ অনেকটা ফ্লুর মতো—জ্বর, কাঁপুনি এবং পেশিতে ব্যথা। তবে সংক্রমণ বাড়লে ফুসফুসে জল জমে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৫%। তবে ডাব্লিউএইচও-র মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভ আশ্বস্ত করে বলেছেন, "এটি পরবর্তী কোভিড নয়।" সাধারণ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
আন্তর্জাতিক সতর্কতা
আক্রান্তদের মধ্যে ব্রিটিশ, ডাচ এবং জার্মান নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ডেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে জাহাজটি ভেড়ানোর প্রস্তুতি চলছে, যেখান থেকে যাত্রীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইঁদুরের বংশবিস্তার বাড়ছে, যা আর্জেন্টিনায় এই ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। আপাতত পুরো বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।