

সব সম্ভব, প্রমাণ করেছে কেপ ভার্দে। ছবি - Google.
২রা জুলাই, ২০২৬
নাথিং ইস ইমপসিবল – কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। সেটাই করে দেখাল কাবো ভার্দে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের একটি ছোট দেশ, যারা এবার প্রথম বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তারা অপরাজিত থেকে শেষ করেছে।
এবার পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটির সামনে ফুটবলের মহাশক্তিধর দেশ তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যে দলের ফুটবলাররা এতদিন লিওনেল মেসিকে টিভিতে দেখেছেন, যারা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি মেসির সঙ্গে একই মঞ্চে থাকবেন। এবার সেই সুযোগ এসে গিয়েছে।
আগামী ৩ জুলাই আর্জেন্টিনার সামনে কাবো ভার্দে। স্পেনের পর উরুগুয়ে, এরপর সৌদি আরব। টানা তিনটি ম্যাচ ড্র। ইতিমধ্যেই রূপকথা লিখেছেন ছোট্ট এই দেশটির ফুটবলাররা।
মেসিদের বিপক্ষে এই লড়াইয়ের আগে কাবো ভার্দে কোচ বুবিস্তার সদম্ভে ঘোষণা, ‘‘আমাদের কাছে এখন কোনোকিছুই অসম্ভব নয়। এই দল যা করে দেখিয়েছে, তার জন্য আমাদের নিজেদের এবং কাবো ভার্দের মানুষ গর্ব করতে পারে।’’ এরপর যোগ করেন, ‘‘আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের ব্যাপার।’
এবার সামনে মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুবিস্তা অবশ্য ম্যাচের ফল নিয়ে এখনই ভাবছেন না, তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি বিশ্ব ফুটবলে দেশের নাম উজ্জ্বল করাটাই। তাঁর ভাষায়, ‘শুরু থেকেই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নিজেদের দেশকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। এই পর্যায়ে এসে আর্জেন্টিনা আর মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের দেশের জন্য দারুণ এক ব্যাপার, ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন।’
বুবিস্তা মনে করেন, তাঁদের এই সাফল্য বিশ্বের বাকি তথাকথিত ‘ছোট’ দলগুলোর জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা। জানিয়েছেন, ‘‘অবশ্যই আমরা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। তবে একই সঙ্গে আমরা আফ্রিকারও প্রতিনিধি। এর বাইরে, আমরা বিশ্বের সব ছোট দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটাই আমাদের মিশন। আমরা একটা উদাহরণ তৈরি করেছি - যদি আপনি মনোযোগ ও দৃঢ়তা নিয়ে কোনো কাজ করেন, তবে আজ হোক বা কাল, লক্ষ্যে পৌঁছাবেনই।’’
ছোট এই দেশটির বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াই ছিল বিস্ময়কর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে তারা যোগ্যতা অর্জন করেছিল। আর এখন তারা সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে পৌঁছে গিয়েছে নকআউট মঞ্চে। আফ্রিকান বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কাবো ভার্দে। পেছনে ফেলে দিয়েছে বিশ্বকাপে নামী মুখ ক্যামেরুনকে। প্লে-অফের ঝুঁকিতেও পড়তে হয়নি। এরপর বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপেও দ্বিতীয় হয়েছে তারা। সেরা তৃতীয় দল হওয়ার অপেক্ষা করতে হয়নি!
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
